একের অপরকে সাহায্য করার মাধ্যমে সেটি সম্ভব বলে মনে করেন রিয়াল তারকা, ‘তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে নেইমার অনেক কিছু ভেতর দিয়ে গেছে। এত অল্প বয়সে এমন চাপের ভেতর খেলাটা মোটেই সহজ ছিল না। সে এমন একজন যে এখন এটা নিশ্চিত করেছে যে তরুণ প্রজন্মের জন্য সবকিছু যেন সহজ হয়ে যায়। এটা স্বপ্নের মতো ব্যাপার, কারণ আমরা তাকে আদর্শ মেনে বড় হয়েছি। সে নেতা হিসেবে যা করে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে জানে, আমাদের সাহায্য করলে আমরাও তাকে অনেক সাহায্য করতে পারব, যা বিশ্বকাপটাকেও রাঙিয়ে দেবে। এটা আমাদের জন্য ভালো। এটা ব্রাজিলিয়ান মানুষদের জন্যও ভালো, যারা আমাদের জিততে দেখতে চায়।’

সাম্প্রতিক সময়ে নিজেকে অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ভিনি। জাতীয় দল ও ক্লাবের অভিজ্ঞ সতীর্থদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শিখছেন বলেও মন্তব্য করেছেন ভিনিসিয়ুস, ‘আমি অনেক বেশি শুনি। আমি করিম (বেনজেমা) এবং নেইমারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শিখতে পছন্দ করি।’

বিশ্বকাপের আগে চোট নিয়ে অনেক ভয়ে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। ক্লাব ফুটবল বিরতিতে যাওয়ার পর সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদও জানান এই ফরোয়ার্ড। চোটে পড়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কাও জেগেছিল ভিনির মনে, ‘আপনি শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারেন। তবে ট্যাকেলগুলো নোংরামির পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। শেষ দিকের ম্যাচগুলোতে আমি এবং রদ্রিগো অনেক ভুগেছি। এতটাই খারাপ কিছুর আশঙ্কায় ছিলাম যে ভেবেছিলাম আমরা হয়তো বিশ্বকাপই খেলতে পারব না। আপনি যখন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হতে শুরু করবেন তখন প্রতিপক্ষ আপনার ওপর চড়াও হবে। এটাকে মোকাবিলা করা শিখতে হবে।'

নেইমারদের দেখে শিখেছেন জানিয়ে ভিনি আরও বলেছেন, ‘নেইমার যখন বার্সেলোনায় ছিল আমি তার কাছ থেকে অনেক শিখেছি। সেও অনেক ভুগেছে। ক্রিস্টিয়ানোও (রোনালদো) রিয়ালে থাকার সময় অনেক ভুগেছে। তবে বেনজেমা আমাকে বলেছে শান্ত থাকতে। সে বলেছে, প্রতিপক্ষ তোমার পেছনে লেগেছে মানে তুমি এখন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তারা তোমাকে ভয় পায়।’

ফুটবলে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর পাশাপাশি মানুষের জন্যও কিছু করার আকাঙ্ক্ষাও প্রবল ভিনির মাঝে। মানুষের উন্নতিতে ভূমিকা রাখতে চান জানিয়ে ভিনি বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমাকে অনেক কিছু করতে হবে। আমি দেখি কীভাবে লুইস হ্যামিল্টন এবং লেবরন জেমস ভালো কাজগুলো করে। আমি তেমন কিছু করতে চাই। মানুষকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করতে চাই। শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কারণ, সবাই খেলোয়াড় হতে পারে না। অনেকে চেষ্টা করে, তবে সবাই সফল হন না। তাই আমি চেষ্টা করি ব্রাজিলিয়ান মানুষদের সহায়তা করতে, যাতে তারা মানুষ হিসেবে বিকশিত হতে পারে এবং নিজেদের উন্নতি ঘটাতে পারে। যদি তাদের সঠিক তদারকি করা হয় তবে আমরা দেখব অনেক মানুষ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ডাক্তার, প্রফেসর বেরিয়ে আসছে।’