ফিলিস্তিনের পক্ষে আয়ারল্যান্ড কোচের মন্তব্যকে ‘মূর্খতা’ বলল ইসরায়েল

আয়ারল্যান্ড কোচ হেইমির হালগ্রিমসনএএফপি

গত সপ্তাহে এক মন্তব্যের জের ধরে আয়ারল্যান্ড ফুটবল দলের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)। হামগ্রিমসনের সেই বক্তব্যকে ‘অজ্ঞতা, ভণ্ডামি ও মূর্খতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি।

উয়েফা নেশনস লিগে ২৭ সেপ্টেম্বর ও ৪ অক্টোবর ইসরায়েলের মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড। এ টুর্নামেন্টের স্কোয়াড ঘোষণায় সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়দের মনোযোগ ধরে রাখা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ইসরায়েলকে তাক করে হালগ্রিমসন বলেন, ‘আমরা গণহত্যার সঙ্গে খেলছি না, আমরা গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছি। আমরা ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলছি, তাদের সঙ্গী হয়ে নয়।’

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালগ্রিমসনের সেই বক্তব্যের কড়া জবাব দেয় আইএফএ, ‘বিশ্ব এবং মানবকল্যাণের অগণিত ক্ষেত্রে অবদান রেখে ইসরায়েলের অর্জনের ঝুলিতে বেশ কিছু নোবেল পুরস্কার রয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, আইরিশ কোচের মূর্খতা, অজ্ঞতা ও ভণ্ডামির কোনো প্রতিষেধক আমরা এখনো আবিষ্কার করতে পারিনি। আমরা অজ্ঞতা, ভণ্ডামি আর মূর্খতার সঙ্গে খেলছি না; বরং যে কোচ এগুলো লালন করেন, আমরা তাঁর বিপক্ষেই খেলছি।’

ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) এ মন্তব্যের পর আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ইসরায়েলের বিপক্ষে এ ম্যাচ বর্জনের দাবিতে গত সোমবার সন্ধ্যায় আয়ারল্যান্ড দল যে হোটেলে অবস্থান করছে, তার সামনে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এতে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। জবাবে গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর এই পাল্টা হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

তবে যুদ্ধাপরাধ বা গণহত্যা চালানোর অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছে ইসরায়েল। গাজায় নিজেদের এই সামরিক পদক্ষেপকে আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে দাবি করে আসছে দেশটি।

ম্যাচ বর্জনের আহ্বান

ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের আহ্বান জানিয়ে ‘আইরিশ স্পোর্ট ফর ফিলিস্তিন’ গ্রুপের একটি খোলাচিঠিতে ১৬০ জনের বেশি আইরিশ অ্যাথলেট ও ক্রীড়াবিদ সই করেছেন।

নেশনস লিগে ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ২৭ সেপ্টেম্বর হাঙ্গেরিতে ইসরায়েলের মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড। এরপর সার্বিয়ায় আগামী ৪ অক্টোবর গ্রুপ থেকেই ফিরতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড (এফএআই), উয়েফা এবং আইরিশ সরকারের অনেক আগেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। তবে ‘ঐক্যবদ্ধ হয়ে খেলাধুলার শক্তি তুলে ধরার’ সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করে এফএআই।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অলিম্পিয়ান সিয়ারা মাজিয়ান, সাবেক আইরিশ নারী ফুটবলার লুইস কুইন, সাবেক আইরিশ রাগবি তারকা টনি ওয়ার্ড, বক্সার টাইরোন ম্যাককেনা ও এরিক ডনোভান।

বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এ তালিকায় আরও আছেন গ্যালিক অ্যাথলেটিক অ্যাসোসিয়েশনের (জিএএ) প্যাড্রিগ ও’হোরা, জো ব্রলি, কোলম ও’রুরকে, মাইকেল ডারা ম্যাকাউলি, ফিলিপ ম্যাকমাহন, ভ্যালেরি মুলকাহি ও রেনা বাকলে। তালিকায় আরও রয়েছেন প্যারা-অ্যাথলেট অ্যালান ডাইনিন এবং আলটিমেট ফ্রিসবি খেলোয়াড় স্টিফেন জোন্স। চলতি বছরে শুরুর দিকে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলা বর্জন করেছিলেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

চিঠিতে বলা হয়, ‘এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত এবং এ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে আপনাদের সামনে।’ চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আইরিশ জার্সি গায়ে জড়িয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তবে আমরা এমন আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব দেখতে চাই, যা উপনিবেশবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের ইতিহাস মনে রাখে। এ লড়াইয়ের গুরুত্ব গভীর, এটি নিছক কোনো খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবে এক অর্থে, এটিই আসল খেলাধুলার পরিচয়। এই ম্যাচ না খেলাই হবে ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ।’

গত জুলাইয়ে এফএআই সাধারণ সভায় ইসরায়েলের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচগুলোতে অংশ নেওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১১৪ জনের মধ্যে ৭৫ জন ম্যাচ দুটি খেলার পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে পড়ে ৩২টি ভোট এবং ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন ৩ জন।

এফএআই এর আগে জানিয়েছিল, ইসরায়েলের বিপক্ষে এ দুটি ম্যাচ বর্জন করলে আইরিশ ফুটবলের ‘স্থায়ী ও বড় ধরনের ক্ষতি’ হবে এবং প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ইউরো আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে তারা। ওদিকে আয়ারল্যান্ড কোচ হালগ্রিমসন জানান, ইসরায়েলের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে তিনি দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন এবং তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের কেউ এ ম্যাচগুলো খেলতে স্বচ্ছন্দ বোধ করছি না।’