মহানায়কেরা যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে, মরিনিওর কি একা লাগছে

রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিওরয়টার্স

রিয়াল মাদ্রিদে ফিরেছেন জোসে মরিনিও। একটু অস্থির সময়ই কাটছে তাঁর। আরও খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে চান। এর পাশাপাশি বিশ্বকাপের শেষ দিকে খেলা রিয়ালের খেলোয়াড়েরা কবে প্রাক্‌–মৌসুম ক্যাম্পে যোগ দেবেন, তা নিয়েও বেশ দুশ্চিন্তা আছে তাঁর।

মরিনিওকে নিয়ে মজার বিষয়টি অবশ্য এসব নয়। পর্তুগিজ এই কোচের সেই আগের দুষ্টুমিসূচক কথাগুলো আবারও কি শোনা যাবে? সেই সব ব্যক্তিগত দ্বৈরথ এবং তা নিয়ে রসাত্মক সব তির্যক মন্তব্য কি আবারও শোনা যাবে মরিনিওর মুখে? এসব প্রশ্নের উত্তরের চেয়েও বড় বিষয় হলো, মরিনিও কার সঙ্গে এসব করবেন?

দীর্ঘ এক দশক পর মরিনিও এমন ক্লাবে ফিরেছেন, যাদের হয়ে শীর্ষস্থানীয় ট্রফি জয়ের সুযোগ আছে। কিন্তু মরিনিওর এ প্রত্যাবর্তনের একটি অদ্ভুত দিক হলো, ক্লাব ফুটবলে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিরা এই আঙিনা থেকে বিদায় নিচ্ছেন।

যেমন ধরুন, আন্তোনিও কন্তের সঙ্গে মরিনিওর বাগ্‌যুদ্ধ দেখার সুযোগ নিকট ভবিষ্যতে নেই। নাপোলি কোচের দায়িত্ব ছেড়েছেন এই ইতালিয়ান। আপাতত বেকার। ইতালির দায়িত্ব নেওয়ার গুঞ্জনও ছিল তাঁকে ঘিরে। সেটা হলেও মরিনিওর সঙ্গে ডাগআউটে তাঁর দ্বৈরথটা দেখার সুযোগ থাকছে না। পেপ গার্দিওলার ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে। ম্যানচেস্টার সিটি কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া গার্দিওলাকে কোচ হওয়ার প্রস্তুাব দিয়েছিল ইতালি। স্প্যানিশ এই কোচ রাজি হননি। এখন আপাতত পরিবারকে সময় দিতে চান। আন্দ্রেয়া পিরলোর ইতালির কোচ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

জার্মানির কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ
এএফপি

মরিনিওকে তাই দূর থেকে খোঁচা মারতে হবে আগের প্রতিদ্বন্দ্বীদের। এমনকি রিয়ালের সাবেক দুজন কোচ আলভারো আরবেলোয়া এবং জাবি আলোনসোকেও ধারেকাছে পাবেন না মরিনিও। জাবি চেলসি এবং আরবেলোয়া ফুলহামের দায়িত্বে। দুটি ক্লাবের কোনোটিই ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় খেলছে না।

একটু বড় নামে ফেরা যাক। কার্লো আনচেলত্তি ও জিনেদিন জিদান গত দশকে রিয়ালে সবচেয়ে সফল দুজন কোচ। আনচেলত্তি এরই মধ্যে ব্রাজিলের দায়িত্বে এবং জিদান ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়ার খুব কাছে। সম্ভবত চলতি সপ্তাহেই ফ্রান্সের নতুন কোচ হিসেবে জিদানের নাম ঘোষণা হতে পারে। এসবই আসলে বিশ্বকাপের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বড় এক পালাবদলের অংশ। পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, আধুনিক সময়ের সবচেয়ে সফল কোচদের কাছে দেশের জাতীয় দলের কোচিং করানোর আকর্ষণ এর আগে কখনো এমন রোমাঞ্চকর ছিল না। জার্মানির দায়িত্ব নেওয়া ইয়ুর্গেন ক্লপের ভাষায় যেমন, ‘জাতীয় দলের দায়িত্বের পরিধি ও গুরুত্ব কতটা, তা সবাই জানে। মানুষকে একসূত্রে গাঁথাই ফুটবলের শক্তি।’

ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান
রয়টার্স

ইউরো, কোপা আমেরিকা কিংবা বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এখন এতটাই লোভনীয় যে গত সাত বছরে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী সাতজন কোচের মধ্যে চারজনই ক্লাব ফুটবলের বাইরে জাতীয় দলের দায়িত্বে। আনচেলত্তি ব্রাজিলের, ক্লপ জার্মানির, টমাস টুখেল ইংল্যান্ডের এবং জিদান ফ্রান্সের দায়িত্ব নিই নিই করছেন।

ক্লাব ফুটবলে এই পটপরিবর্তনে সেখানে অভিজ্ঞ ও প্রবীণ কোচদের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ২৬ বছরের দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং তিনটি ভিন্ন দেশে লিগ জেতা মরিনিও যেন এখন ক্লাব ফুটবলে তাঁর মাপের কোচদের তালিকায় নিঃসঙ্গ শেরপা।

আরও পড়ুন

চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর দিকে তাকালে মরিনিও এখনো একজন আনচেলত্তিকে দেখবেন। তবে সেই ভদ্রলোক পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী কার্লো নন, তাঁর ছেলে দাভিদ আনচেলত্তি। হ্যাঁ, লা লিগায় রিয়াল বেতিসের কোচ ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি এবং আতলেতিকো মাদ্রিদে ডিয়েগো সিমিওনেকে দেখে খোঁচাখুঁচি করতে না পারার নিঃসঙ্গতা কাটতে পারে মরিনিওর।

২০২৬-২৭ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি এমন কোচদের অধীনে খেলছে, যাঁরা গত আট মাসের মধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন। এনজো মারেস্কা সিটিতে, মাইকেল ক্যারিক ইউনাইটেডে এবং ইরাওলা লিভারপুলের দায়িত্বে। চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁদের ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও খুব কম।

কোমোর কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাস
কোমো

ইতালিয়ান সিরি আ থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে ওঠা চারটি দলের মধ্যে শুধু কোমোর কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাসই ধারাবাহিক। ক্লাবটিতে এটি হবে তাঁর তৃতীয় মৌসুম। নাপোলি, রোমা ও ইন্টার মিলানের কোচদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্লাবে এক বছর বা তার কম সময় ধরে দায়িত্বে আছেন।

ইউলিয়ান নাগলসমানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ক্লপ। মাত্র ৩৯ বছর বয়সেই বায়ার্ন মিউনিখ, লাইপজিগ ও জার্মানির মতো দলের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে নাগলসমানের। লিওনেল স্কালোনিওর সঙ্গে আর্জেন্টিনার চুক্তিও শেষ হবে আগামী ডিসেম্বরে এবং চুক্তি নবায়নের ইচ্ছা নেই তাঁর।

সব মিলিয়ে ক্লাব ফুটবলে মরিনিওর আগামী দিনগুলোতে নিঃসঙ্গ লাগতে পারে। রসিকতাপূর্ণ খোঁচাখুঁচি করবেন কার সঙ্গে? আন্তর্জাতিক ফুটবল যে তাঁর মাপের গ্রেটদের নিয়ে যাচ্ছে!

আরও পড়ুন