অপরাজেয় মরিনিওর দল, তারপরও কেন লিগে তৃতীয়

বেনফিকা কোচ জোসে মরিনিওএএফপি

৯ মাস ধরে চলা ৩৪ ম্যাচের লিগে দলকে অপরাজিত রাখতে পারলে যেকোনো কোচই নিজেকে ধন্য মনে করবেন। তার ওপর এমন কিছু যদি হয় ২৬ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার, তাহলে তো কথাই নেই। জোসে মরিনিওর তাই আনন্দ হওয়ারই কথা।

কিন্তু পর্তুগিজ লিগে বেনফিকাকে ‘ইনভিনসিবল’ বা অপরাজিত রেখেও মরিনিওর আক্ষেপ কম নয়। লিগে কোনো ম্যাচ না হারার পরও যে তাঁর দল চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি, এমনকি দ্বিতীয়ও নয়। ইতিহাস বলছে, পর্তুগিজ লিগে অপরাজিত থেকেও তৃতীয় হয়ে লিগ শেষ করার ঘটনা এবারই প্রথম।

মরিনিওর দলের এমন অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কারণ একের পর এক ড্র। ৩৪ ম্যাচের ১১টিতেই ড্র করেছে বেনফিকা, জিতেছে বাকি ২৩টিতে। ২৩ নম্বর জয়টি এসেছে শনিবার রাতে, এস্তোরিলের বিপক্ষে ৩–১ ব্যবধানে।

এদিনই শেষ হয়েছে ২০২৫–২৬ মৌসুমের পর্তুগিজ লিগ। ৩৪ ম্যাচে ৮৮ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এফসি পোর্তো। ৮২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্পোর্তিং, আর বেনফিকার পয়েন্ট ৮০।

মজার বিষয় হচ্ছে, তৃতীয় হওয়া বেনফিকা অপরাজিত থাকলেও শীর্ষ দুই দল দুটি করে ম্যাচে হেরেছে।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে অপরাজিত থেকে তৃতীয় হওয়া নিয়ে কথা বলেন মরিনিও। রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি ও ইন্টার মিলানের হয়ে লিগ জেতা এই কোচ খুশি হলেও আক্ষেপটা লুকাননি, ‘অপরাজিত থাকাটা দারুণ একটা ব্যাপার। আটবার লিগ জিতেছি, কিন্তু অপরাজেয় থাকিনি কখনো। তবে দুই বা তিনটা হার মেনে নিয়ে হলেও শিরোপাটাই বেছে নিতাম, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

অপরাজিত থেকে লিগ শেষ করেছে মরিনিওর দল বেনফিকা
এএফপি

এর আগে ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমেও বেনফিকা কোনো ম্যাচ হারেনি, সেবারও তারা শিরোপা জিততে পারেনি। ৩০ ম্যাচের সেই লিগে পোর্তোর সমান পয়েন্ট পেয়েও গোল ব্যবধানে রানার্সআপ হয়েছিল। এ ছাড়া ইতালির সিরি আতে ১৯৭৮–৭৯ মৌসুমে পেরুজিয়াও কোনো ম্যাচ না হেরেও দ্বিতীয় হয়ে লিগ শেষ করেছিল, সেবার তিন পয়েন্ট বেশি পেয়ে ট্রফি জিতেছিল এসি মিলান।

ইউরোপিয়ান ফুটবল লিগে ‘দ্য ইনভিনসিবল’ শব্দটি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় আর্সেনালকে নিয়ে। ২০০৩–০৪ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল। এখন পর্যন্ত আর্সেনালের সর্বশেষ লিগ শিরোপা সেটিই।

তবে এবারের বেনফিকার ‘কীর্তি’ও হয়তো আলোচিতই থাকবে ভবিষ্যতে। চ্যাম্পিয়ন দূরে থাক, অপরাজেয় হয়েও যে দ্বিতীয়ও হতে পারেনি মরিনিওর দল!

আরও পড়ুন