মেনোত্তির পরিচয়টা আগে দেওয়া যাক। একহারা শরীরের জন্য খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারে তাঁর নাম ছিল ‘এল ফ্যালকো’। খেলেছেন বোকা জুনিয়র্স ও সান্তোসের মতো ক্লাবে। ১৯৬৮ সালে সান্তোসে সতীর্থ হিসেবে পেয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলেকে। একসঙ্গে জিতেছেন ব্রাজিলিয়ান সিরি আ ও ক্যাম্পেওনাতো পলিস্তা।

default-image

তবে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের তুলনায় কোচিংয়েই নাম কামিয়েছেন বেশি। আর্জেন্টিনাকে ১৯৭৮ বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন কোচ হিসেবে। বার্সেলোনাকে জিতিয়েছেন কোপা দেল রে। আর্জেন্টাইন ফুটবলে আক্রমণাত্বক খেলার ধারণার সঙ্গে মেনোত্তির নামটা সমার্থক। আর্জেন্টিনার চিরায়ত পাসিং ফুটবলে তাঁর অবদান যথেষ্ট। একবার বলেছিলেন, ‘গোলটা স্রেফ জালে আরেকটি পাস হওয়া উচিত।’

২০১৯ সাল থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের পরিচালকের পদ সামলানো কিংবদন্তি এই কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাঁর মতে সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে? ৮৩ বছর বয়সী সাবেক এই কোচ কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেন, ব্রাজিলের হয়ে তিনবার বিশ্বকাপজয়ী পেলে তাঁর চোখে সর্বকালের সেরা ফুটবলার। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ডি স্পোর্ত রেডিও’কে মেনোত্তি বলেন, ‘পেলেই সবার সেরা। সে ছিল অতিপ্রাকৃত। তাকে থামানো অসম্ভব ছিল।’

মেনোত্তির নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন, ‘তার জন্য যেকোনো ম্যাচই ছিল বিশ্বকাপ ফাইনাল। অনুশীলনের সেশনকেও সে বিশ্বকাপ ফাইনাল বলেই মনে করত।’ ১৯৬৮ সালে সান্তোসে পেলের সতীর্থ হওয়ার স্মৃতিচারণাও করেন মেনোত্তি, ‘মাঠে তাকে কাছ থেকে দেখাটা ছিল আনন্দের। সে (বল নিয়ে) এমন সব কারিকুরি করত, যা ছিল বোঝার বাইরে। হাত ব্যবহার না করেই সে গোলকিপার পজিশনে দাঁড়াত এবং সেখানেও সফল হয়েছে।’

default-image

মেনোত্তি এরপর বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি তার সঙ্গে কারও তুলনা করতে চাই না। সে সবার ওপরে, অনেক ওপরে। এরপর আমি অন্যদের বিবেচনা করি। ক্রুইফ, ডি স্টেফানো, ম্যারাডোনা আর হ্যাঁ মেসি। কিন্তু পেলে সব সময়ের সবাইকে ছাপিয়ে গেছে বলেই আমি মনে করি।’

ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। তখন কোচ ছিলেন কার্লোস বিলার্দো। মেসি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেললেও কখনো চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি। কাতার বিশ্বকাপই সম্ভবত তাঁর শেষ সুযোগ। তবে ক্লাব ফুটবলে প্রায় সব ট্রফিই জিতেছেন সাতবারের এই বর্ষসেরা ফুটবলার।

default-image

আয়াক্সকে টানা তিনবার ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমানে চ্যাম্পিয়নস লিগ) জেতানো ডাচ্‌ কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ নেদারল্যান্ডসকে ১৯৭৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে তুললেও শিরোপা জিততে পারেননি।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন