কাতারের আল জানুব স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত একটায় মাঠে নামবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ‘ডি’ গ্রুপ থেকে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। শক্তির নিক্তিতে কোন দল এগিয়ে সেটা নিয়ে আলোচনা বাতুলতা। বলতে পারেন, এই ম্যাচে কে জিতবে, সে হিসাবের চেয়ে ফ্রান্স একাদশ সাজাবে কীভাবে, তা নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে।

কিন্তু যাঁরা নেই, তাঁদের নিয়ে শোকতাপ করলে তো চলবে না। যাঁরা আছেন, তাঁদের নিয়েই নামতে হবে। আর এই পরীক্ষায় ‘লেটার মার্কস’ পেতে ফ্রান্স কোচ দেশম খুব স্বাভাবিকভাবেই ভরসা রাখবেন দলের সেরা স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর। চার বছর আগে রাশিয়ায় ৪ গোল করে এবং সেরা উদীয়মান তারকা হয়ে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ে দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন ১৯ বছর বয়সী এমবাপ্পে। ১৯ বছর বয়সে যে তরুণ বিশ্বমঞ্চে নিজের আগমনী বার্তা এভাবে ঘোষণা করতে পারেন, এই চার বছরে সেই এমবাপ্পে স্বাভাবিকভাবেই আরও পরিণত হয়ে উঠেছেন।

পিএসজির হয়ে ক্লাব ফুটবলেও তা দেখা যাচ্ছে। কাল সংবাদ সম্মেলনে দেশম তাই এমবাপ্পেকে বাড়তি দায়িত্ব পালনের চাপ দেননি। স্রেফ নিজের কাজটা করতে বললেও দেশম জানেন, এমবাপ্পে ছন্দে থাকলে যেকোনো ম্যাচে এমনিতেই পার্থক্য গড়ে দেয় ফ্রান্স, ‘দলে তার বাড়তি কোনো দায়িত্ব নেই, যা করে এসেছে তাই করবে। তবে সে যেকোনো সময়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে এবং সেটারও দরকার হবে।’

বেনজেমা না থাকায় কাল ফরাসি আক্রমণভাগে এমবাপ্পের সঙ্গে দেখা যেতে পারে জিরুকে। দেশম স্বীকার করুন আর না করুন, গোলের খোঁজে এমবাপ্পের ওপর বাড়তি দায়িত্ব চাপবেই। সেই ইঙ্গিত মিলেছে ফরাসি সংবাদকর্মী হাদ্রিয়েন গ্রেনিয়েরের টুইটে। ফ্রান্স দলের এক সিনিয়র সদস্য নাকি তাঁর এক আত্মীয়কে বলেছেন, বেনজেমা ছিটকে পড়ার পর ফ্রান্স ‘এখন এমবাপ্পেকে কেন্দ্র করে দাঁড়ানো সৈন্যদল’।

গোলকিপার উগো লরিসের কথায়ও সুরটা টের পাওয়া গেল, ‘এটা বলা কঠিন সে কতটা ভালো। তবে সে মাঠে নেমে দলকে সাহায্য করতে মুখিয়ে আছে।’

সাহায্য? অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা যখন এমবাপ্পের ‘সাহায্য’ পেতে তাকিয়ে থাকে, তখন তো বোঝাই যায়, চোট কী অবস্থা করেছে দলটির!