বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার বিরুদ্ধে প্লাতিনির মামলা
উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশে বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। সব প্রস্তুতি এখন একদম শেষের দিকে। এর মধ্যে দুঃসংবাদ পেলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
২০১৫ সালে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং এর বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফ্রান্সে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করেছেন উয়েফার সাবেক সভাপতি মিশেল প্লাতিনি। সেই দুর্নীতির অভিযোগের কারণেই তখন ফিফা সভাপতি হওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে যান ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি প্লাতিনি।
প্যারিসে দায়ের করা ফৌজদারি অভিযোগে ইনফান্তিনো, ফিফার সাবেক আইনি পরিচালক মার্কো ভিলিজার ও সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান দোমেনিকো স্কালার বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মামলা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ করেন ৭০ বছর বয়সী প্লাতিনি।
পাশাপাশি ফিফার বিরুদ্ধে একটি পৃথক দেওয়ানি মামলাও করেছেন প্লাতিনি। তাঁর অভিযোগ, এক দশকেরও বেশি সময় আগে ফিফা সভাপতি পদে তাঁর নির্বাচিত হওয়া আটকাতে সংস্থার ভেতরে নানা কূটকৌশল ছক করা হয়েছিল। আর এই ক্ষতির জন্য ফিফার কাছ থেকে পূর্ণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন ফ্রান্সের হয়ে ’৮৪ ইউরোজয়ী প্লাতিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালের শেষ দিকে। তখন ফিফার পক্ষ থেকে প্লাতিনিকে ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২৫ লাখ ১০ হাজার ডলার) দেওয়ার বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। ২০১১ সালে ফিফার তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্ল্যাটার এই অর্থ প্রদানের অনুমোদন দিয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে ফিফার নৈতিকতা কমিটির আট বছরের নিষেধাজ্ঞার কারণে ফ্রান্সের সাবেক অধিনায়ক প্লাতিনি আর সংস্থাটির সভাপতি হওয়ার দৌড়ে টিকতে পারেননি। আর এতেই প্লাতিনির অধীনে উয়েফার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইনফান্তিনোর জন্য ২০১৬ সালের শুরুতে ফিফা সভাপতি হওয়ার পথ সুগম হয়।
২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সুইজারল্যান্ডের একটি ফেডারেল ফৌজদারি আপিল আদালত প্লাতিনি ও ব্ল্যাটারকে চূড়ান্তভাবে খালাস দেওয়ার পরই ফ্রান্সে এই আইনি পদক্ষেপ নিলেন প্লাতিনি। আদালতের সেই রায়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, যা একই বছরের সেপ্টেম্বরে চূড়ান্ত রূপ পায়।
বর্তমানে ৭০ বছর বয়সী প্লাতিনির দাবি, তাঁকে ফিফা সভাপতি হওয়া থেকে বিরত রাখতেই এই মামলা সাজানো হয়েছিল। খালাস পাওয়ার পর প্লাতিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ফুটবলে ফিরে আসার জন্য এখন তাঁর বয়স বড্ড বেশি।
দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ফরাসি তদন্তকারীদের ফিফা কর্মকর্তাদের আচরণ খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বের মূল ফৌজদারি তদন্তের সময় সুইস প্রসিকিউটররা ফিফার সঙ্গে নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো আঁতাত করেছিলেন কি না, তা–ও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
অবশ্য ২০১৫ সালের সেই ঘটনার তদন্ত ও তা সামলানোর ক্ষেত্রে নিজেদের কোনো অন্যায় বা অপকর্মের কথা এর আগেও অস্বীকার করেছে ফিফা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ বিষয়ে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।