ভাইরাল ভিডিওটির শৌচাগারের ব্যক্তিটি নেইমার নন

কোলাজ: প্রথম আলো গ্রাফিকস

‘নেইমারের ফুটবল ভক্তরা, এমনকি সে যখন বাথরুমে যায়, তখনো তার ভিডিও করে’– এই ক্যাপশনে একটি ভিডিও এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিশ্বকাপ ফুটবলের আগে তা দ্রুত ছড়িয়েও পড়েছে।

ভিডিওক্লিপে দেখা যায়, একদল ভক্ত একজন ব্যক্তিকে অনুসরণ করে শৌচাগারেও পৌঁছে গেছেন, ভিডিও ধারণ করছেন। পোস্টগুলোয় দাবি করা হয়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি ব্রাজিলের ফুটবল তারকা নেইমার এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার পর তা উদ্‌যাপন করতে গিয়ে তিনি ভক্তদের ভিড়ে পড়েন। ভিডিওটি ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়েছে।
প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক, পঞ্চম লিংক

ভিডিওক্লিপগুলোর একেকটিতে একেক ভাষার ক্যাপশন, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘যখন উন্মাদ ভক্তরা জানতে পারেন যে নেইমার ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেয়েছেন।’
এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, নেইমার ব্রাজিল দলে সুযোগ পাওয়ায় আনন্দ উদ্‌যাপন করতে বের হয়েছিলেন এবং অসংখ্য ভক্ত তাঁকে বাথরুম পর্যন্ত অনুসরণ করেন। ভিডিওটি ৪৬ লাখ বার দেখা হয়ে গেছে ইতোমধ্যে।
লিংক: এখানে

অন্য একটি এক্স একাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, ‘বিশ্বকাপের দলে ডাক পাওয়ার আনন্দ উদ্‌যাপন করার সময় ভক্তরা নাকি নেইমারকে অনুসরণ করতে করতে বাথরুম পর্যন্ত গিয়ে ভিডিও ধারণ করেছেন। কখনো কখনো তারকাদের জীবন সত্যিই খুব ক্লান্তিকর মনে হয়।’ এ ভিডিওটি দেখা হয় অন্তত ২৭ লাখ বার।
লিংক: এখানে

ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরপরই ভিডিওটি ছড়ায়। অনেকেই ভিডিওটিকে সত্য ধরে নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক, তৃতীয় লিংক, চতুর্থ লিংক

ইগন অলিভারের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট প্রাংক ভিডিওটি

কিন্তু যাচাইয়ে দেখা যায়, এই ভিডিও ২০২৬ সালের ১৯ মে ইনস্টাগ্রামে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত হয়েছিল। ভিডিওটি এমন একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আপলোড করা হয়, যার পরিচিতিতে নিজেকে অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টের কনটেন্টগুলো পর্যালোচনা করে বোঝা যায়, তিনি মূলত নেইমারের ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভিন্ন বিনোদনধর্মী ভিডিও তৈরি করেন। তাঁর তৈরি করা ভিডিও এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮০ লাখ বার দেখা হয়েছে।
লিংক:

আরও যাচাইয়ে জানা যায়, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির আসল নাম ইগন অলিভার। তিনি একজন ব্রাজিলিয়ান ইনফ্লুয়েন্সার। তিনি দেখেত কিছুটা ফুটবলার নেইমারের মতো। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ ফুটবল তারকার সঙ্গে নিজের চেহারাগত মিলকে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করছেন। ২০২২ সালেই তিনি ‘নেইমার লুক-অ্যালাইক’ হিসেবে পরিচিতি পান।

ভিডিওটির প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি ছিল অলিভারের নিজের ডিজিটাল চ্যানেলের জন্য নির্মিত একটি পরিকল্পিত কমেডি প্র্যাঙ্ক ভিডিও। পরবর্তীকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি মূল প্রেক্ষাপট ছাড়াই কেটে শেয়ার করে। আর সেখান থেকেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
লিংক: এখানে

এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। কাতার বিশ্বকাপ চলাকালেও এই ইগন অলিভার নিরাপত্তাবেষ্টনী এড়িয়ে স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। তখন বহু দর্শক তাঁকে আসল নেইমার মনে করেছিলেন। অথচ প্রকৃত নেইমার তখন ইনজুরির কারণে ছিলেন হোটেলে। এমনকি আন্তর্জাতিক কিছু সম্প্রচারমাধ্যমও বিভ্রান্ত হয়ে ইগন অলিভারের ভিডিওকে নেইমার ভেবেছিল।
লিংক: