সেই কুতিনিও এখন কোথায়

এবারের দলবদল মৌসুমে কোনো ক্লাবে ডাক পাননি কুতিনিওইনস্টাগ্রাম/কুতিনিও

ফিলিপে কুতিনিওকে মনে আছে?

লিভারপুলের জার্সিতে মাঝমাঠ থেকে উঠে এসে তাঁর বাঁকানো শট, ড্রিবলিং আর দূরপাল্লার গোলে মুগ্ধ হতো ফুটবল বিশ্ব। ২০১৮ সালে সেই কুতিনিওকে পেতে লিভারপুলকে প্রায় ১৬ কোটি ইউরো দিয়েছিল বার্সেলোনা। তখন তাঁকে ভাবা হতো ইউরোপের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত খেলোয়াড়। অথচ কয়েক বছর পর সেই কুতিনিওই হয়ে পড়েছিলেন ক্লাবহীন, তা–ও মাত্র ৩৪ বছর বয়সে।

তবে কুতিনিওর এমন দুর্দিনে এগিয়ে এসেছেন নেইমার। কৈশোরের বন্ধুর জন্য ক্লাব জোগাড়ে হাত বাড়িয়েছেন। আর সেটা সান্তোসেই। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, কুতিনিওর সঙ্গে চুক্তির জন্য সমঝোতায় পৌঁছেছে সান্তোস। চুক্তির মেয়াদ হবে এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

নেইমার ও কুতিনিওর বন্ধুত্ব কৈশোর থেকে। ব্রাজিলের বয়সভিত্তিক দলে একসঙ্গে খেলেছেন তাঁরা। এবার নেইমারের চেষ্টাতেই সান্তোসে যাওয়ার ব্যাপারে রাজি হয়েছেন কুতিনিও। ও গ্লোবো জানিয়েছে, নেইমার নিজেও প্রকাশ্যে বন্ধুকে সান্তোসে চাওয়ার কথা বলেছেন এবং তাঁর আগমনকে ‘স্বপ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সান্তোসেরও অবশ্য কুতিনিওকে এখন খুব দরকার। নেইমারই এই মৌসুমে দলটির বড় ভরসা ছিলেন। কিন্তু ডান ঊরুর চোটে আবার মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন তিনি। নেইমারের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে অভিজ্ঞ একজন খেলোয়াড় যোগ করতে কুতিনিওকে বেছে নিয়েছে সান্তোস।

নেইমার–কুতিনিও ব্রাজিল দলে খেলেছেন বয়সভিত্তিক ফুটবল থেকে
রয়টার্স

একসময় লিভারপুলে কুতিনিও ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান তারকা। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ভোটে ক্লাবের বর্ষসেরার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালে রীতিমতো জোরাজুরি করেই অ্যানফিল্ড ছেড়ে বার্সেলোনায় যান তিনি। নেইমার পিএসজিতে চলে যাওয়ার পর তখন তাঁর জায়গা পূরণে বার্সাও খুঁজছিল তাঁর মতো কাউকে।

আরও পড়ুন

কিন্তু ক্যাম্প ন্যুতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি কুতিনিও। ফর্ম হারিয়ে একাদশ থেকে জায়গা হারাতে হারাতে এক পর্যায়ে ধারে যেতে হয় বায়ার্ন মিউনিখে। এরপর স্থায়ীভাবে যোগ দেন অ্যাস্টন ভিলায়। যদিও সেখান থেকেও ধারে পাঠানো হয় কাতারে। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে যোগ দেন ব্রাজিলের ক্লাব ভাস্কো দা গামায়।

সর্বশেষ ভাস্কো দা গামায় খেলেছেন কুতিনিও
ইনস্টাগ্রাম/কুতিনিও

ইউরোপে পাড়ি জমানোর আগে কুতিনিও এই ক্লাবেই ছিলেন ৯ বছর। এ বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত ভাস্কো দা গামায় ৮১ ম্যাচ খেলে করেন মাত্র ১৭ গোল। তখন নিজেকে হারিয়ে খুঁজতে থাকা কুতিনিও এতটাই হতাশ হয়ে পড়েন যে জুন পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ থাকার পরও ফেব্রুয়ারিতেই চুক্তির অবসান ঘটিয়ে ক্লাব ছাড়েন।

এর পর থেকে ক্লাবহীনই ছিলেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন দলবদল মৌসুমে আলোচনাতেই ছিল না তাঁর নাম।

এবার সান্তোসে কুতিনিও পেলেন নতুন সুযোগ। নিজেকে ফিরে পাবেন তো এবার?

আরও পড়ুন