গ্যালারির ‘আইকন’: আলোচনায় আফ্রিকার ৫ বিখ্যাত সমর্থক
ফুটবল মাঠে দুই দলে খেলেন ২২ জন, কিন্তু গ্যালারি মাতান হাজারো মানুষ। তাঁদের মধ্যেই কেউ কেউ হয়ে ওঠেন দেশের প্রতীক।
বর্তমানে আফ্রিকায় এমন দুজনকে নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে—ডিআর কঙ্গোর মিশেল এনকুকা ‘লুমুম্বা’ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ‘মামা জয়’। দুজনের আলোচনার কারণ অবশ্য আলাদা।
লুমুম্বার ভাগ্য ভালো। তাঁর জন্য ডিআর কঙ্গো জাতীয় দলের পক্ষ থেকেই আর্থিক সহায়তার আবেদন করা হয়েছে। মানে দল চায় তিনি যেন ২০২৬ সালে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে বিশ্বকাপে যেতে পারেন।
অন্যদিকে মামা জয়ের বিশ্বকাপে যাওয়ার খরচ মেটাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া ও সংস্কৃতিমন্ত্রী গেটন ম্যাকেঞ্জি।
এ ছাড়া সম্প্রতি এক কুইজ প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল দল (বাফানা বাফানা) নিয়ে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় নিজ দেশের সমর্থকদের কাছেও সমালোচিতও হয়েছেন মামা জয়।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অন্তত এমন পাঁচজন সমর্থক রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের দেশের ফুটবলের অঘোষিত প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে তাঁরা থাকবেন কি না, তা এখনই নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এই পাঁচ আলোচিত সমর্থককে চিনে রাখা যেতে পারে।
মিশেল এনকুকা ‘লুমুম্বা’
এমবোলাদিঙ্গা ‘লুমুম্বা’র আসল নাম এমবোলাদিঙ্গা। মরক্কোতে অনুষ্ঠিত গত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে এমবোলাদিঙ্গা রাতারাতি পরিচিতি পান। এমবোলাদিঙ্গা হলেন কীভাবে? মূলত ডিআর কঙ্গোর স্বাধীনতাসংগ্রামের নায়ক ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার সঙ্গে তাঁর চেহারার অদ্ভুত মিল থাকায় সবাই তাঁকে ‘লুমুম্বা’ নামে ডাকেন। তাঁর পোশাক থেকে শুরু করে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গি—সবই অবিকল সেই নেতার মতো।
জয় ‘মামা জয়’ চাউকে
দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া ক্লাব অরল্যান্ডো পাইরেটস এবং জাতীয় দলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে ২০ বছর ধরে জনপ্রিয় মামা জয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে নিয়ে আফ্রিকার জনমত বিভক্ত। ২০২১ সালে আর্থিক জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত একটি ক্লাবের প্রতি সমর্থন জানানোর পর থেকেই তাঁর জনপ্রিয়তা কমতে থাকে।
২০২৩ সালের রাগবি বিশ্বকাপে সরকারি খরচে তাঁর বিদেশ ভ্রমণ নিয়েও কড়া সমালোচনা হয়। বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী তাঁর সফরের খরচ বহনে সরাসরি মানা করে দিয়েছেন। বিশ্বকাপে তিনি থাকবেন কি না তা সময় বলে দেবে, তবে তাঁকে নিয়ে আলোচনা থামছে না।
নুরুদ্দিন ‘দোলমি’ আল ফাল্লাহ
প্রায় ৪৮ বছর ধরে মরক্কো দলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন দোলমি। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দলের হয়ে পাড়ি দিয়েছেন পাঁচটি মহাদেশ। মরক্কোয় সাধারণত সমর্থক গোষ্ঠী বা ‘আলট্রাস’দের দাপট বেশি থাকলেও, একক সমর্থক হিসেবে দোলমি নিজের যোগ্যতায় সবার নজর কেড়েছেন।
মুহামেদ সালিউ এনদিয়ায়ে
সেনেগালের এই কট্টর সমর্থক সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন ২০২২ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে। মিসরের বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটের সময় মোহামেদ সালাহর চোখে লেজার মারার দায়ে তিনি অভিযুক্ত হয়েছিলেন। যদিও সেনেগালের অনেক সমর্থকই সেদিন এমনটি করেছিলেন, কিন্তু দায়টা পড়ে তাঁর ওপর। আর তাতে তিনি হয়ে যান সেই ঘটনার প্রতীক। এরপরও ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে এয়ার সেনেগাল তাঁকে নিজ খরচে মরক্কো নিয়ে যায়।
বোথা এমসিলা
দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক বিখ্যাত সমর্থক বোথা এমসিলা। মূলত ব্লুমফন্টেইন সেল্টিক ক্লাবের সমর্থক ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে কায়রোতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমর্থন দিতে কেপটাউন থেকে কায়রো পর্যন্ত দুঃসাহসিক হিচহাইকিং করে (বিনা মূল্যে লিফট নিয়ে ভ্রমণ) জনপ্রিয় হয়েছিলেন। চার বছর পর ২০২৩ সালের নেটবল বিশ্বকাপ এবং রাগবি বিশ্বকাপেও তাঁকে একইভাবে সমর্থন দিতে দেখা গেছে। তৎকালীন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে আর্থিকভাবে সহায়তাও করা হয়েছিল।