বিশ্বকাপে নতুন হেয়ার স্টাইল নিয়ে আসছেন নেইমার
বিশ্বকাপ মানেই তো শুধু মাঠে ফুটবলারদের পায়ের জাদু আর ট্রফি ছোঁয়ার তীব্র লড়াই নয়। এর বাইরেও আছে এক বিপুল রঙিন জগৎ। ফুটবলারদের পায়ের কাজ দেখতে দেখতে চোখ যখন ক্লান্ত, তখন তাঁদের বাহারি রূপ আর ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের কমতি থাকে না।
বিশেষ করে নামটা যখন নেইমার, তখন ড্রিবলিংয়ের পাশাপাশি তাঁর চুলের ছাঁট নিয়েও আলোচনা অবধারিত। এবারও ব্যতিক্রম হলো না। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে নিজের চুলের স্টাইলে এক চটকদার পরিবর্তন এনেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারের ব্যক্তিগত হেয়ার স্টাইলিস্ট একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানেই দেখা মেলে ব্রাজিলের এই ‘পোস্টার বয়’-এর নতুন রূপের। ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিধারী এই ফরোয়ার্ড এবার এমন একটি হেয়ারস্টাইল বেছে নিয়েছেন, যা তাঁর ২০১৮ সালের চেনা রূপকে মনে করিয়ে দেয়। তখন পিএসজিতে খেলার সময় যেমন চুলে হালকা সোনালি (ব্লন্ড) রং করেছিলেন, এবারও ঠিক তেমনই এক চকমকে আবহ। যেন চুলের সাজে পুরোনো সেই সোনালি দিনগুলোকেই ফিরিয়ে আনার এক চঞ্চল প্রয়াস!
অবশ্য ভক্তদের মনে একটা প্রশ্ন জাগতেই পারে—চুলের এই জৌলুস কি মাঠের পারফরম্যান্সেও ফিরবে? চুলে সোনালি আভা ছড়ালেও সান্তোসের এই তারকার আসল লড়াইটা এখন ফিটনেসের সঙ্গে। বিশ্বকাপের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে, অথচ নেইমার এখনো পুরোপুরি ফিট হওয়ার লড়াইয়ে আছেন। নতুন চুলের ছাঁটের চেয়ে সমর্থকেরা তাই চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন তাঁর মাঠে ফেরার দিকে।
নেইমারের এই নতুন রূপের সঙ্গে তাঁর জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তাঁর হেয়ার স্টাইলিস্ট। ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সুন্দর চুল শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে যত্ন, চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চিকিৎসা, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং এমন একটি বিশেষ প্রোটোকল, যা চুলকে শক্তিশালী, সুস্থ ও বড় চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য প্রস্তুত রাখে। আরেকবার বিশ্বকাপের জন্য সবকিছু প্রস্তুত। সৃষ্টিকর্তা তোমার প্রতিটি পদক্ষেপে তোমাকে রক্ষা করুন, কঠিন সময়ে শক্তি দিন এবং মাঠের ভেতরে ও বাইরে তোমার প্রতিভাকে আরও সমৃদ্ধ করুন।’
চুল তো প্রস্তুত, কিন্তু নেইমারের শরীর কি প্রস্তুত? নেইমার নিজেই আভাস দিয়েছেন, এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে যাচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। জীবনের শেষ মঞ্চটা রাঙাতে চেষ্টার কোনো কমতি রাখছেন না তিনি।
আজ রোববার ভোরে মিসরের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচ খেলতে ব্রাজিল দল যখন ক্লিভল্যান্ডে অবস্থান করছিল, নেইমার তখন দলের সঙ্গে যাননি। তিনি থেকে গেছেন নিউ জার্সিতে। সেখানে একা একাই লড়ে যাচ্ছেন নিজের চোটের সঙ্গে, চালিয়ে যাচ্ছেন পুনর্বাসন ও ফিজিওথেরাপির নিবিড় চিকিৎসা।