তখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ ছিলেন সাইফুল বারী। অধিনায়ক হিসেবে খেলেন মামনুল ইসলাম। জাপান ২–১ গোলে জার্মানিকে হারিয়ে দেওয়ায় মোটেও অবাক হননি বাংলাদেশের মিডফিল্ডার। সঠিক পরিকল্পনা করলে একটা দল যে কোথায় পৌঁছে যেতে পারে এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ তো দেখিয়েই দিয়েছে জাপানিরা। মামনুল বলছিলেন, ‘ওরা একটা লক্ষ্য নিয়ে খেলে আজ এখানে। বিশ্বের যেকোনো দল লিগে বা দেশের হয়ে যখন খেলবে তাদের অবশ্যই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে। ঘরোয়া ফুটবল বা জাতীয় দল, আমাদের কোথাও সেই পরিকল্পনার ছাপ নেই। ওরা যখন এসেছে তখন আমরা খেলেছি জাতীয় দলের হয়ে। আর ওরা অলিম্পিকের দলটা নিয়ে এসেছিল। আজ থেকে ৮ বছর আগে ওরা যে লক্ষ্য নিয়ে খেলতে শুরু করেছিল বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারিয়ে সেই সফলতার একটা প্রমাণ দিয়েছে জাপান।’

আসানোর দেওয়া গোল যেন জাপানের নির্দিষ্ট গন্তব্যে এগিয়ে যাওয়ারই একটা ধাপ। অন্তত মামুনুল সেটাই মনে করেন, ‘ওই দলের লক্ষ্যই ছিল বিশ্বকাপ। ওরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে একটা অর্জনের জায়গায় পৌঁছে গেছে। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারানো কিন্তু সহজ কথা নয়, অথচ ওরা সেটা করে দেখিয়েছে।’

যেখানে সাফে বাংলাদেশ সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০০৩ সালে, সেখানে বিশ্বকাপ তো দূরের বাতিঘর। বিশ্বকাপের সময় তাই তো শুধু ভিনদেশিদের পতাকায় ছেয়ে যায় বাংলাদেশের আকাশ। বাস্তবতা মেনে মামুনুল বলছিলেন, ‘ওদের মতো আমাদের না আছে সুযোগ–সুবিধা, না আছে অবকাঠামো। আর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা বাদই দিলাম। ওদের ঘরোয়া ফুটবল লিগের অবস্থানটাও আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত। এশিয়ান কাপ তো দূরের কথা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপটাই এখনো আমাদের কাছে বিশ্বকাপ।’

আসানো যেন চোখে আঙুল দিয়েই দেখিয়ে দিলেন সুন্দর পরিকল্পনা ও তাঁর বাস্তবায়নের ফল!