সাফের ট্রফিটা যেভাবেই হোক ঘরে আনতে চাই

প্রথম আলো গ্রাফিকস
নতুন আশা নিয়ে শুরু হচ্ছে আরও একটি নতুন বছর। ২০২৬ সালে খেলার মাঠে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন জাতীয় দলের ফুটবলার শেখ মোরছালিন।

নতুন বছর মানে নতুন স্বপ্ন। আমাদের জাতীয় ফুটবল দল গত বছরে যে অগ্রগতি দেখিয়েছে, ২০২৬-এ সেই পথচলা আরও দৃঢ় হবে—এটাই প্রত্যাশা। বিদায়ী বছরে আমরা সম্ভাবনার দুয়ারে দাঁড়িয়েও এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠতে পারিনি। নতুন বছরে আমাদের সেই না পাওয়া মুহূর্তগুলো ধরা দিক।

২০২৬ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। আমরা ২২ বছর ধরে সাফ জিতিনি। নতুন বছরের প্রথম দিনে আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন সাফের ট্রফিটা যেভাবেই হোক ঘরে আনা। এ বছর যে কয়টি ম্যাচই পাই; প্রতিটি ম্যাচে, প্রতিটি টুর্নামেন্টে চাইব নতুন কিছু করতে। দেশের জন্য ট্রফি আনার চেষ্টার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও চাইব আরও ভালো জায়গায় পৌঁছাতে।

২০২৫ সালকে জাতীয় দলের জন্য আমি বলব মিশ্র একটি বছর। হারও আছে, জয়ও আছে। তবে বছরের শেষ ম্যাচটাই সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছে আমাকে। ২২ বছর পর ভারতকে হারানো, এই ম্যাচের একমাত্র গোলটা করে আমি যেন নিজের জন্যও একটা নতুন দরজা খুলে দিতে পেরেছি।

একটা দুঃখও অবশ্য আছে। স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী দল নিয়েও আমরা এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি। আমার বিশ্বাস, পরেরবার পারব। আশা করি, নতুন বছরে বড় দলের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাব। বড় দলের বিপক্ষে খেলতে পারলে আমাদের উন্নতির সম্ভাবনা বাড়বে।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পর হামজা চৌধুরীর সঙ্গে শেখ মোরছালিন
শামসুল হক

হামজা (চৌধুরী) ভাই, শমিত (সোম) ভাইয়েরা আসার পর অবশ্য জাতীয় দলের পরিবেশ বদলে গেছে। তবে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে আরও ভালো করা উচিত ছিল। হংকং ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে হেরেছি। নতুন বছরে ম্যাচের শেষ দিকে খেই হারানোর রোগ থেকে মুক্ত হতে হবে।

হামজা ভাইয়ের সঙ্গে খেলতে পারা আমাদের জন্য সৌভাগ্য। মাঠ এবং মাঠের বাইরে সব জায়গায় তিনি আমাদের শেখান। তাঁর মতো খেলোয়াড় দীর্ঘদিন থাকলে বাংলাদেশের ফুটবলের চেহারা আরও বদলে যাবে।

ঘরোয়া ফুটবলের কথা যদি বলি, জাতীয় স্টেডিয়াম আর বসুন্ধরা কিংসের মাঠ ছাড়া অন্য মাঠগুলো মানসম্পন্ন নয়। ঢাকার বাইরে কুমিল্লা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জে যেসব মাঠে লিগ-ফেডারেশন কাপ হচ্ছে, এসব মাঠে খেলতে খুব কষ্ট হয়। চোটে পড়ার শঙ্কা থাকে, খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার ছোট হয়ে যায়। একটা ম্যাচ খেললেই পা ব্যথায় টনটন করতে থাকে। শক্ত, উঁচুনিচু মাঠে দৌড়াতে গিয়ে মাংসপেশিতে সমস্যা দেখা দেয়। মাঠে ঠিকমতো বল নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, সাবলীলভাবে পাস খেলাও কঠিন। মাঠ ভালোভাবে পরিচর্যা করা হয় না। এসব মাঠে খেলা তাই ঝুঁকিপূর্ণ।

ঘরোয়ায় ভালো মাঠে খেলতে চান শেখ মোরছালিন (৭ নম্বর জার্সি)
আবাহনী লিমিটেড

আমি এখন আবাহনী লিমিটেডে খেলছি। এখানে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছি। চলতি বাংলাদেশ লিগে সাত ম্যাচে তিন গোল, তিনটিতে সহায়তা। বসুন্ধরা কিংসে আমার খেলার সময় কম ছিল; কিন্তু জাতীয় দলে বেশি সময় খেলার সুযোগ পেয়েছি। যে কারণে পারফরম্যান্সও ভালো হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ঘরোয়া লিগে।

আমার আশা, ২০২৬ হবে স্বপ্নপূরণের বছর। নতুন বছরে প্রত্যাশা—ঢাকার বাইরের মাঠগুলোকে উন্নত করা হোক। ভালো মাঠ ভালো ফুটবলের প্রথম শর্ত। লিগের সম্প্রচারেও উন্নতি চাই, যেন মানুষ আরও বেশি আমাদের খেলা দেখে। জাতীয় দলের হয়ে আরও ভালো র‍্যাঙ্কিংয়ে যাওয়া, বড় ম্যাচ জেতা, আরও শক্তিশালী হওয়াই ২০২৬–এ আমাদের লক্ষ্য থাকবে।