পেলেকে শেষবিদায় জানাতে ব্রাজিলে নেইমারও

সম্পর্কটা দারুণ স্নেহময় ছিল দুজনেরফাইল ছবি

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলে পেলেকে ছুঁয়ে ফেলেছেন নেইমার। কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেই দুর্দান্ত গোলটির পরই তিনি পেলের সঙ্গে ব্রাকেটবন্দী। ব্রাজিলের জার্সিতে ৭৭ গোল করে দুজনই সর্বোচ্চ গোলদাতা। ব্রাজিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর অসুস্থ শরীরে নেইমারকে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা পাঠিয়েছিলেন কিংবদন্তি। নেইমারের হাতে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপটি দেখতে চেয়েছিলেন পেলে। সেটি হয়নি।

আমৃত্যু ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েই থাকলেন পেলে
রয়টার্স

পেলে এখন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। বৃহস্পতিবার রাতে (বাংলাদেশ সময়) ৮২ বছর বয়সে মারা যান ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জেতা কিংবদন্তি। সোমবার খুব ভোরে তাঁর কফিন আনা হয়েছে সান্তোসের মাঠে। এখান থেকেই শুরু হবে তাঁর শেষযাত্রা। মঙ্গলবার সকালে তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন সান্তোসের মাঠ ভিলা বেলমিরোর পাশেই নেকরোপল একিউমেনিকাতে। ফ্রান্সের পত্রিকা লেকিপ জানিয়েছে, নেইমার পিএসজি থেকে ছুটি নিয়ে সাও পাওলো গেছেন পেলের শেষকৃত্যে যোগ দিতে। বিশ্বকাপ শেষে পিএসজিতে ফিরেই অবশ্য স্ত্রাসবুর্গের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছেন।

৭৭ গোল করে এখন পেলের সঙ্গে ব্রাকেটবন্দী নেইমার
ছবি: রয়টার্স

পেলের সঙ্গে বরাবরই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল নেইমারের। পেলের মতো নেইমারেরও তারকা হয়ে ওঠা সান্তোসের আঙিনায়। সান্তোস থেকেই নেইমার নাম লেখান বার্সেলোনায়, সেখান থেকে পিএসজিতে। দুজনই সান্তোসের হয়ে জিতেছেন লাতিন ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা কোপা লিবার্তোদোরেস।

পেলের মৃত্যুর পর নেইমার লিখেছিলেন, ‘পেলের আগে ১০ নম্বর ছিল শুধুই একটি সংখ্যা। আমি কোনো একসময় কোথায় জানি এটা পড়েছিলাম। সুন্দর হলেও সেটা ছিল অসম্পূর্ণ। আমি বলতে চাই, পেলের আগে ফুটবল ছিল শুধুই একটা খেলা। পেলে সবকিছু বদলে দিয়েছেন। তিনি ফুটবলকে শিল্পে বদলে দিয়েছেন, আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছেন। তিনি দরিদ্রদের, কালোদের কণ্ঠস্বর দিয়েছেন। বিশেষ করে ব্রাজিলিয়ানদের দৃশ্যমান করেছেন। ফুটবল এবং ব্রাজিলের মানকে ওপরে তোলার জন্য রাজাকে ধন্যবাদ। তিনি চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর জাদু থেকে গেল। পেলে চিরন্তন।’