ফুটবলের পর ফুটসালেও সাফ চ্যাম্পিয়ন, সাবিনাকে নিয়ে গর্বিত বাফুফে সভাপতি
শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে হারিয়ে সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। মেয়েদের এমন সাফল্যে খুশি বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। ম্যাচ জেতার পর আজ বিকেলে বাফুফের ফেসবুক পেজে নারী ফুটসাল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাবিথ।
সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে ২০২২ সালে প্রথম মেয়েদের সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। এবার ফুটসালেও বাংলাদেশ নারী দলকে প্রথম শিরোপা জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাবিনা, করেছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১৪ গোল।
বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে খেলার দুটি ভিন্ন ফরম্যাটে (ফুটবল ও ফুটসাল) দলকে চ্যাম্পিয়ন করায় সাবিনাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।
তাই চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি অধিনায়ক সাবিনা খাতুনেরও প্রশংসা করেছেন বাফুফে সভাপতি, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য আরও বিস্তৃত করে সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নারী দলকে বিশেষভাবে অভিনন্দন। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে খেলার দুটি ভিন্ন ফরম্যাটে (ফুটবল ও ফুটসাল) দলকে চ্যাম্পিয়ন করায় সাবিনাকে নিয়ে আমরা গর্বিত।’
২০১৮ সালে ফুটসালে বাংলাদেশের মেয়েদের পথচলা শুরু হয়। সে বছর কোচ গোলাম রব্বানীর অধীনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয় বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল। এরপর দীর্ঘ ছয় বছর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। গত বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নতুন করে দল গঠন শুরু করে। প্রথমবারের মতো সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ সামনে রেখে দেশে ও দেশের বাইরে অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে এই চ্যাম্পিয়ন দল।
মেয়েদের পাশাপাশি ব্যাংককে চলছে ছেলেদের প্রথম সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপও। ৫ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে এরই মধ্যে শিরোপা নিশ্চিত করেছে মালদ্বীপ। বাংলাদেশ ৬ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে।
ছেলেদের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট বাফুফে সভাপতি, ‘বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে তাদের ফুটসাল–যাত্রা শুরু করেছে। আমাদের পুরুষ ও নারী দল বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে যে আমাদের দেশে প্রতিভা এবং জয়ের মানসিকতা রয়েছে।’
ইতিহাস গড়ার পর সাফের পোস্ট করা ভিডিওতে ফুটসাল নিয়ে দারুণ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মাতসুশিমা সুমাইয়া।
সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রথম সাফ ফুটসাল জয় নিয়ে সুমাইয়া বলেছেন, ‘মালদ্বীপের বিপক্ষে আজ আমাদের শেষ ম্যাচ ছিল। এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য সাফকে ধন্যবাদ। সব মিলিয়ে আমার অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার। এখানে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় পেয়েছি, যাদের বিপক্ষে খেলতে পেরে আনন্দিত। আলহামদুলিল্লাহ আমরা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছি। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ফিজিও এবং সমর্থক, যাঁরা আমাদের সমর্থন করেছেন, তাঁদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন জয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক সাবিনা। মালদ্বীপ ম্যাচ শুরুর আগে সাবিনা ফেসবুক পোস্ট লিখেছিলেন, ‘একটা লড়াই বাকি। সব হৃদয় (একসঙ্গে), কোনো ভয় নেই। বাংলাদেশ বনাম মালদ্বীপ। বাংলাদেশ সময় ১০টায় (খেলা)। আমাদের প্রার্থনায় রাখবেন।’ মালদ্বীপকে হারিয়ে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ।’