লিভারপুলের কাছ থেকে ‘রসগোল্লা’র মতো গোল পেয়ে অপমানবোধ করছে প্রতিপক্ষ
কথায় আছে, একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। সেটা শুধু রাস্তাঘাটে নয়, বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনা তো বিভিন্ন জায়গাতে ঘটতে পারে। তাতে কখনো না ভোলার মতো এমন সব দুঃস্বপ্ন তৈরি হয়, যা আসলে মানুষ ভুলে থাকতে চায়। লিভারপুল মিডফিল্ডার দমিনিক সোবোসলাইয়ের কথাই ধরুন। গতকাল রাতে এফএ কাপের তৃতীয় রাউন্ডে তিনি এমন এক ভুল করেন, যা দেখে রসিকতা করে কেউ কেউ বলতে পারেন, ‘একটি ব্যাক-হিল হতে পারত সারা জীবনের কান্না।’
হতে পারত—কথাটা বলার কারণ, শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। ইংলিশ ফুটবলে তৃতীয় স্তরের দল বার্নসলিকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ইংল্যান্ডের প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতার পরের ধাপে উঠেছে লিভারপুল। ওই ভুলের আগে চোখধাঁধানো এক গোলও করেন সোবোসলাই। তাতেও অবশ্য মুক্তি মিলছে না হাঙ্গেরি তারকার।
জয়ের পর লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট তাঁর ভুল নিয়েই কথা বলেছেন, ‘এফএ কাপ, লিগ কাপ, প্রীতি ম্যাচ কিংবা অনুশীলনেও এমন ভুল করা উচিত নয়। অদ্ভুত এক সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে আমার নিজস্ব মতামত আছে। কিন্তু সেটা আমি নিজের মধ্যেই রাখতে চাই এবং বিষয়টি নিয়ে দমের সঙ্গে কথা বলব।’
সোবোসলাইয়ের ভুলটি আসলে অদ্ভুত এক সিদ্ধান্তের ফসল, যেটা ম্যাচ শেষে বলেছেন স্লট। ম্যাচে তখন ৪০ মিনিট। লিভারপুলের বক্সের ভেতর বলের দখল নিতে দৌড় দেন সোবোসলাই ও বার্নসলি মিডফিল্ডার অ্যাডাম ফিলিপস। সোবোসলাই বলের দখল পেয়ে যান আগে, তাঁর পেছনে তখন ফিলিপস। সবাইকে বিস্মিত করে সোবোসলাই বলটা ব্যাক-হিল করার চেষ্টা করেন। অর্থাৎ পায়ের গোড়ালির টোকায় তাঁর পেছনে থাকা কাউকে বলটি দিতে চেয়েছিলেন সোবোসলাই। কিন্তু কাকে দিতে চেয়েছিলেন সেটাই বড় প্রশ্ন।
সম্ভবত লিভারপুল গোলকিপার গিওর্গি মামারদাশভিলি ছিলেন সোবোসলাইয়ের লক্ষ্য। মামারদাশভিলি তাঁর পেছনে ছিলেন না, একটু সাইডে গোললাইনে নিজের জায়গায় ছিলেন। আর সোবোসলাই ব্যাকহিলটাও ঠিকমতো করতে পারেননি, উল্টো বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান। তাতে কয়েক সেকেন্ডের জন্য পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে গোল করতে বলটা যেন চামচে তোলা রসগোল্লার মতো ফিলিপসের মুখে তুলে দিলেন সোবোসলাই! ফিলিপসও গোল করতে ভুল করেননি আর সোবোসলাইও নিশ্চয়ই ওই মুহূর্তের ভিডিও কখনো দেখতে চাইবেন না।
প্রতিপক্ষের ভুলে গোল পেলেও তাতে বার্নসলি কোচ কনোর হাউরিহানেরও আঁতে ঘা লেগেছে। তাঁর চোখে এমন গোল তাঁর দলের জন্য ‘অসম্মানজনক’। টিএনটি স্পোর্টসকে হাউরিহান বলেন, ‘নিজেদের গোলটি নিয়ে আমি অসন্তুষ্ট। কারণ, সে (সোবোসলাই) এটা (ব্যাক-হিল) চেলসি কিংবা আর্সেনালের সঙ্গে করত না।’ বার্নসলি কোচের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি এই গোলকে অসম্মানজনক বলে মনে করছেন কি না? উত্তর শুনুন তাঁর মুখেই, ‘হ্যাঁ, তা তো বটেই। সে প্রিমিয়ার লিগ কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে এটা করত না। তাই আমি একটু অসন্তুষ্ট, (প্রতিপক্ষের প্রতি) সম্মানের অভাব ছিল।’
তবে ম্যাচে ৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ৩৫ গজি শটে সোবোসলাই যে গোলটি করেন, সেটাও তাঁর ওই ভুলের মতোই অবিশ্বাস্য। বার্নসলি গোলকিপার মার্ফি কুপার তো বটেই, কোনো গোলকিপারের পক্ষেই সম্ভবত তা ঠেকানো সম্ভব না।
প্রতিযোগিতাটি এফএ কাপ হলেও এই ম্যাচে প্রিমিয়ার লিগের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এ মৌসুমে দারুণ এক কীর্তিও গড়েন সোবোসলাই—এক ম্যাচে গোল করার পাশাপাশি ন্যূনতম ১০০ পাস (১০৫) ও ন্যূনতম ১০ বার (১২) বল দখল করেছেন। লিভারপুলের হয়ে অন্য তিনটি গোল করেন জেরেমি ফ্রিমপং, ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস ও হুগো একিতেকে।
ম্যাচ শেষে ওই ভুলই সোবোসলাইকে অনুশোচনায় ভুগিয়েছে। সেটা বোঝা গেল তাঁর কথায়, ‘দলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। একটি সহজ ভুলে অন্যদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছি।’ তবে সোবোসলাইয়ের এই দুঃখ প্রকাশে সবাই সম্ভবত খুব সহজেই তাঁর প্রতি নরম হবেন না। সিটির সাবেক ডিফেন্ডার জোলেয়ন লেসকটের চোখেও সোবোসলাইয়ের ভুল প্রতিপক্ষের প্রতি ‘অসম্মানজনক’।