কর্মক্ষেত্রে বিশ্বকাপের ধাক্কা, প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

কর্মক্ষেত্রেও লাগবে বিশ্বকাপের ঢেউ। তাতে উৎপাদনশীলতায় বড় ধাক্কা খাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছেরয়টার্স

বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দরজায়। ওদিকে বিশ্বকাপ চলাকালীন কর্মীদের কাজে মনোযোগী রাখা ও অফিসে ধরে রাখা নিয়োগকর্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত নতুন এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

ইউকেজি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের গবেষণা অনুযায়ী, ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের কারণে বিশ্বজুড়ে নিয়োগকর্তাদের উৎপাদনশীলতায় প্রায় ১৭০০ কোটি ডলার (প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা) ক্ষতি হতে পারে। জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বকাপের কারণে ৩৭ শতাংশ কর্মী তাঁদের কাজের সময়সূচি পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করছেন।

জরিপ অনুযায়ী, ২৭ শতাংশ কর্মী দেরিতে অফিসে এসে, আগেভাগে চলে গিয়ে কিংবা অনুপস্থিত থেকে কর্মদিবস ফাঁকি দিতে পারেন। এ ছাড়া ১১ শতাংশ কর্মী স্বীকার করেছেন, তাঁরা আগের রাতে মদ্যপানের ঘোর নিয়ে কাজ করবেন এবং ১৪ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে তাঁরা অফিস চলাকালীন লুকিয়ে ম্যাচ ও হাইলাইটস স্ট্রিমিং করে দেখবেন।

মানবসম্পদ, বেতন ও কর্মী ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্ম ইউকেজি কর্মক্ষেত্রে বিশ্বকাপের প্রভাব মূল্যায়ন করতে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের ৮ হাজার কর্মীর ওপর এই জরিপ চালায়।

২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো
ফিফা

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এবারের বিশ্বকাপে ৪৮টি দেশ অংশ নিচ্ছে এবং ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি।

আরও পড়ুন

ইউকেজির তথ্যমতে, বিশ্বকাপের কারণে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই উৎপাদনশীলতায় ক্ষতি হতে পারে প্রায় ১,১৭০ কোটি ডলার। এর পরেই রয়েছে জার্মানি, যেখানে ১৩৪ কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে।

ইউকেজির প্রধান পণ্য কর্মকর্তা সুরেশ ভিত্তাল বলেন, ‘যখন বড় পরিসরের কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি এবং কাজে থেকেও অমনোযোগী থাকার প্রবণতা দেখা দেয়, তখন এর প্রভাব পড়ে তাৎক্ষণিক ও ব্যয়বহুল। এতে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়, গ্রাহকসেবা ব্যাহত হয় এবং দলের বাকি সদস্যদের ওপর বাড়তি কাজের চাপ পড়ায় সামগ্রিক কর্মস্পৃহা নষ্ট হয়।’

বিশ্বকাপ ফুটবল গোটা বিশ্বের জন্যই উৎসব। ছবিটি মেক্সিকো বিমানবন্দরে তোলা
রয়টার্স

তবে বিশ্বকাপে আকর্ষণীয় সব ম্যাচ দেখার লোভ থেকে কিন্তু ব্যবস্থাপকেরাও মুক্ত নন। জরিপে দেখা গেছে, ৪২ শতাংশ ব্যবস্থাপক খেলা দেখতে ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং ৪৫ শতাংশ শেষ মুহূর্তে কাজের সময় পরিবর্তনের সুযোগ খুঁজছেন।

আরও পড়ুন