অভিযোগ না পেলে ফুটবলারদের ‘খেপ’ খেলা তদন্ত করবে না বাফুফে
কয়েক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে—জাতীয় দলের মিডফিল্ডার শেখ মোরছালিন টাঙ্গাইলে স্থানীয় একটি ম্যাচ খেলছেন। শুধু মোরছালিনই নন, শীর্ষ স্তরের এমন আরও অনেক ফুটবলারই এখন ঢাকার বাইরে খারাপ মাঠে ‘খেপ’ খেলছেন।
এসব নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকের মতে, পেশাদার লিগ ও জাতীয় দলের ফুটবলারদের এভাবে কাদা মাঠে অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে খেপ খেলা একদমই অনুচিত। এটি পেশাদার লিগের চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তা ছাড়া এতে বাড়তি চোটের ঝুঁকি থাকে, যা পেশাদার ক্যারিয়ারকে চরম হুমকির মুখে ফেলে। তবে অনেকের যুক্তি ভিন্ন—পেশাদার ক্লাবগুলো থেকে নিয়মিত টাকা পাচ্ছেন না অনেক ফুটবলার। জীবন-জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই খেপ না খেলে তাঁদের উপায় কী!
তা ছাড়া পেশাদারত্বের বাইরের এই চুক্তির নেপথ্যে সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুরোধ বা চাপের কারণও থাকে। কিছুদিন আগেই কথাটি খোলামেলা স্বীকার করেছিলেন জাতীয় দলের ডিফেন্ডার রহমত মিয়া।
জাতীয় দল ও ক্লাবের চুক্তির বাইরে গিয়ে খেপ খেলা বাফুফের শৃঙ্খলাবিধির পরিপন্থী। কাদা মাঠে, নিম্নমানের বলে এসব খেলার ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ঘুরে বেড়ালেও এ নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
আজ বিকেলে বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে বিষয়টা নিয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে প্রশ্ন করা হয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রথমে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘এ রকম বিষয় আমাদের সামনে এলে গুরুত্ব দিয়ে দেখব। সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
তবে কাদা মাঠে ও নিম্নমানের বলে খেলা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে সমালোচনা হলেও বাফুফে নিজ থেকে কোনো তদন্তে নামবে না বলে স্পষ্ট জানান তাবিথ। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের ও ক্লাবের খেলোয়াড়েরা অন্য কোথাও খেলছে, এমন কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ দেয়নি। এই জায়গায় এসে আমি অগ্রিম কোনো মন্তব্য করতে চাইছি না। আমরা প্রসেসটা ফলো করতে চাই।’
অভিযোগ যতক্ষণ না আসে, আমরা নিজ থেকে কোনো অভিযোগ খুঁজব না। তবে আমি বিশ্বাস করি, সব খেলোয়াড় তাঁর অবস্থান বোঝে, ক্যারিয়ার বোঝে।
তাবিথ আরও যোগ করেন, ‘অভিযোগ যতক্ষণ না আসে, আমরা নিজ থেকে কোনো অভিযোগ খুঁজব না। তবে আমি বিশ্বাস করি, সব খেলোয়াড় তাঁর অবস্থান বোঝে, ক্যারিয়ার বোঝে। অনেক খেলোয়াড় আছে নিয়ম ভেঙেছে, অনেকে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েও যোগ দেয়নি। কিন্তু আমরা খুঁজে খুঁজে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করব না।’
এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ভেসে বেড়াচ্ছে—তা মনে করিয়ে দিলে তাবিথ বলেন, ‘আশা করি এসব ছবি বা তথ্য আমাদের কাছে আসবে। তবে আমরা নিজ থেকে কাউকে খুঁজে বের করব না।’