ম্যানচেস্টার সিটি সম্ভাব্য ৮ কারণে এবার লিগ না–ও জিততে পারে

মৌসুম শেষেও সিটির এমন উদ্‌যাপন থাকবে তোরয়টার্স

উত্তর লন্ডনে বাস করা নোবেলজয়ী কবি টি এস এলিয়ট আর্সেনাল কিংবা লিভারপুলের ভক্ত ছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। তবে ‘দ্য ওয়াস্ট ল্যান্ড’ নামে বিশ্বখ্যাত এক কবিতায় তিনি লিখেছিলেন ‘এপ্রিল ইজ দ্য ক্রুয়েলেস্ট মান্থ’—অর্থাৎ এপ্রিল নিষ্ঠুরতম মাস। সাম্প্রতিক সময়ে আর্সেনাল বা লিভারপুল সমর্থকদের চেয়ে এই লাইনের গভীরতাকে আর কে ভালো বুঝতে পারবে! এপ্রিল মাসেই যে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা–দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় কাঁপছে এ দুই দল।

একই দিনে ঘরের মাঠে হেরে গেছে এ দুই দল। ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে লিভারপুল ১–০ গোলে। অ্যাস্টন ভিলার কাছে আর্সেনালের হার ২–০ গোলে। এই দুই হারে এখন শিরোপা রেসের লাগাম সিটির হাতে। ৩২ ম্যাচ শেষে সিটির পয়েন্ট এখন ৭৩ আর সমান ম্যাচে আর্সেনাল ও লিভারপুলের পয়েন্ট ৭১। গোল ব্যবধানে এগিয়ে দুইয়ে আছে গানাররা। লিগ মৌসুমে ৬ ম্যাচ হাতে আছে দুই দলের।

আরও পড়ুন

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন হার দলের সমর্থকদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। তবে শিরোপা–দৌড়ে পিছিয়ে গেলেও এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি। খেলাধুলাভিত্তিক পোর্টাল ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ এক প্রতিবেদনে এমন কিছু কারণের কথা বলেছে, যা সিটির শিরোপা ধরে রাখার পথে অন্তরায় হতে পারে এবং আর্সেনাল–লিভারপুলকে দেখাতে পারে আশার আলো।

চ্যাম্পিয়নস লিগে মনোযোগ নষ্ট
সিটির সামনে এখন টানা দ্বিতীয়বারের মতো ‘ট্রেবল’ জয়ের সুযোগ আছে। তবে ট্রেবল জয়ে এ সুযোগই শেষ পর্যন্ত কাল হতে পারে দলটির জন্য। একাধিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাটা নিশ্চিতভাবে একটি অন্যটিকে প্রভাবিত করবে। একই সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের চাপ সামলানো মোটেই সহজ নয়। বিশেষ করে তখন, যখন শীর্ষ তিন দলের মধ্যে পার্থক্য সামান্য। তার ওপর চোট এবং ক্লান্তির ধকল তো আছেই। এমন পরিস্থিতিতে আকস্মিকভাবে যেকোনো এক ম্যাচে নষ্ট হতে পারে মনোযোগ, যা শিরোপা–স্বপ্নে দিতে পারে বড় ধাক্কা।

ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে ঘরের মাঠে হেরেছে লিভারপুল
এএফপি

টটেনহাম মাথাব্যথা

পেপ গার্দিওলার দলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হতে পারে টটেনহামের বিপক্ষে ম্যাচটি। প্রথমত, ম্যাচটি খেলা হবে টটেনহামের মাঠে। আর মাঠের লড়াইয়ে টটেনহামের বিপক্ষে সব সময় সংগ্রাম করতে দেখা যায় সিটিকে। প্রিমিয়ার লিগে ১৫ ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে ৬টি জয়ের বিপরীতে আছে ৬টি হার, ড্র হয়েছে অন্য তিন ম্যাচ। সঙ্গে ২০১৯ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে হারের যন্ত্রণা তো এখন তাড়া করে গার্দিওলার দলকে। সাম্প্রতিক সময় টটেনহাম তাই যতই বিপাকে থাকুক, সিটিকে সামনে পেলে আবার জ্বলে উঠতে পারে দলটি। সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিত করার সমীকরণ তো আছেই। সব মিলিয়ে মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটাই বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে গার্দিওলার দলের জন্য।

ছন্দহীন হলান্ড
আর্লিং হলান্ড আসলেই তাঁর ছন্দ হারিয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগে ২০ গোল করে সবার ওপরে থাকলেও, মৌসুমের শেষ ভাগে এসে স্বরূপে দেখা যাচ্ছে না হলান্ডকে। এর মধ্যে বেশ সমালোচনাও শুনতে হয়েছে তাঁকে। রয় কিনের মতো কিংবদন্তি তাঁকে চতুর্থ সারির লিগে খেলা খেলোয়াড়দের মানে বলে মন্তব্য করেছেন। সমালোচকদের কথা কানে না তুললেও হলান্ডের ছন্দে ফেরা জরুরি। মৌসুমে বাকি সময়ে তাঁর গোলখরা বড় ধরনের বিপদে ফেলতে পারে সিটিকে।

আরও পড়ুন

গার্দিওলার অতিচিন্তা

‘আমি সব সময় অতিরিক্ত চিন্তা করি’—২০২২ সালে এ কথা বলেছিলেন গার্দিওলা। সব সময় নতুন চিন্তা ও কৌশলে মেতে থাকার কথাও সে সময় জানিয়েছিলেন সিটি কোচ। মৌসুমের শেষ ভাগে যখন অনেক হিসাব কষে রণনীতি তৈরি করতে হবে, তবে গার্দিওলার অতিচিন্তা সমস্যায় ফেলতে পারে সিটিকে। যেমনটা ফেলেছিল ২০২০–২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে।

নটিংহাম ফরেস্টের টিকে থাকার লড়াই

গত মৌসুমের মতো এবারও অবনমন ঠেকানোর জন্য লড়ছে নটিংহাম ফরেস্ট। বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার ১৭ নম্বরে থাকা দলটির খেলা আছে সিটির সঙ্গে। এর আগে গত মৌসুমে অবনমন ঠেকানোর পথে সিটির সঙ্গে ড্র করেছিল নটিংহাম। এবারও তাদের সামনে আছে সিটি। মরিয়া নটিংহাম যদি কোনোভাবে সিটিকে এবারও রুখে দিতে পারে, তা মৌসুমের এ পর্যায়ে বড় ধাক্কা হবে গার্দিওলার দলের জন্য।

অ্যাস্টন ভিলার কাছে হারের পর আর্সেনাল খেলোয়াড়দের হতাশা
এএফপি

রদ্রির বিশ্রাম

মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে বিশ্রাম চেয়ে বসেছেন রদ্রি। গত মৌসুমে সিটির ত্রিমুকুট জয়ের অন্যতম সারথি ছিলেন রদ্রি। কিন্তু এ মৌসুমে হঠাৎ করেই যেন দম হারিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ এ মিডফিল্ডার। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪৯৮ মিনিট খেলেছে। এর মধ্যে কোনো খেলোয়াড় খেলতে না চাইলে জোর করে খেলাবেন না বলে জানিয়েছেন গার্দিওলা। সর্বশেষ লুটন টাউনের বিপক্ষে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল এই স্প্যানিশ ফুটবলারকে। রদ্রিকে নিয়ে এ টানাপোড়েন বিপদ বাড়াতে পারে সিটির।

চাকরিপ্রত্যাশী রবার্তো ডি জেরবি

ব্রাইটনের ডাগআউটে দারুণ আলো ছড়িয়েছেন কোচ রবার্তো ডি জেরবি। এরই মধ্যে লিভারপুলসহ বেশ কিছু শীর্ষ ক্লাবে তাঁর কোচ হওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। মৌসুমের শেষ দিকে জেরবির ওপর চোখ থাকবে অনেকের। শেষ মুহূর্তে সিটির মতো দলকে হারাতে পারলে বা রুখে দিতে পারলে সেটা চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তাঁর মূল্য আরও অনেক বাড়িয়ে দেবে।

আরও পড়ুন

সিটির শাস্তি

আর্থিক সংগতি নীতি ভাঙায় সিটির বিরুদ্ধে আনা হয়েছে ১১৫ অভিযোগ। যদি এই সব অভিযোগের কিছুও শেষ পর্যন্ত সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে নিশ্চিতভাবে পয়েন্ট কাটা যাবে দলটির। আর এমন কিছু হলে তাতে হাতছাড়া হতে পারে শিরোপাও। সিটি সমর্থকেরা অবশ্য এই বিষয়টিকে হাস্যকর বলবে। কারণ, শুরু থেকেই দলটি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে লড়ে যাচ্ছে।