বাংলাদেশ সময় আজ বিকাল ৪টায় সেই অপেক্ষা ঘুচবে। লুসাইলে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। কাল এই ম্যাচের সংবাদ সম্মেলনে এসে মেসি বলেছেন, ‘শারীরিকভাবে খুব ভালো বোধ করছি। মানসিক ও শারীরিক—দুই দিক থেকেই খুব ভালো আছি। কোনো সমস্যা নেই।’ সমস্যা? হ্যাঁ, একটু দুশ্চিন্তার কালো মেঘ তৈরি হয়েছিল মেসিকে ঘিরে। চোটের শঙ্কা ছিল। সেজন্য গত শনিবার একা হালকা অনুশীলন করেন। দলের বাইরে মেসির এই একা অনুশীলন করা দেখেই শঙ্কাটা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু সাতবারের এই বর্ষসেরা ফুটবলার সে শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন, ‘আলাদা অনুশীলন করার কথা লোকে বলাবলি করেছে, সেটা কানে এসেছে। আসলে একটু আঘাত পেয়েছিলাম তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। স্রেফ সাবধানতা হিসেবে এটা করেছি।’

শীতকালে এবারই প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৩৫ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন এ তারকা জানালেন, কাতারের আবহাওয়া ভিন্ন হলেও সেজন্য আলাদা করে কোনো প্রস্তুতি নেননি, ‘বিশেষ কিছুই করিনি। শুধু নিজের যত্ম নিয়েছি, যেভাবে গোটা ক্যারিয়ারজুড়েই করে এসেছি। আমি জানি এই মুহূর্তটা বিশেষ, কারণ এটাই সম্ভবত আমার শেষ বিশ্বকাপ। যে স্বপ্নটা আমি এবং আমরা দেখে এসেছি তা পূরণের এটাই শেষ সুযোগ।’

ক্লাব ফুটবলে সম্ভাব্য প্রায় সব শিরোপাই জিতেছেন মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শিরোপাখরা ঘুচিয়েছেন গত বছর কোপা আমেরিকা জিতে। এবার চাই বিশ্বকাপটা। তাহলেই সোনায় সোহাগা ক্যারিয়ার হয়ে যায় মেসির।

আর ঠিক এ কারণেই আর্জেন্টিনার বাইরে অনেকেই এবার তাঁর হাতে বিশ্বকাপ দেখতে চান। মেসি নিজেও তা জানেন, ‘আর্জেন্টিনার বাইরে অনেকেই আমাদের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতে চায় আর সেটা আমারই জন্য, এটা বুঝতে পেরে ভালোই লাগে। গোটা ক্যারিয়ারে বিশ্বব্যাপী আমি যে ভালোবাসা পেয়ে এসেছি সেজন্য কৃতজ্ঞ। কাতারেও সেই উদাহরণ দেখছি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভক্তদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন মেসি। জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ভক্তদের নিয়েই পথ চলবেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে কাল মেসি লিখেছেন, ‘অনেক স্মৃতি আছে। ভালো ও মন্দ দুটোই আছে। কিন্তু জাতীয় দল ও দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সব সময় গর্ব অনুভব করেছি। আগামীকাল (আজ) অনেক স্বপ্ন নিয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ শুরু করব। আমরা একসঙ্গেই পথ চলব।’