রোনালদোকে কেন ৯০ মিনিট খেলানো হলো, কী ব্যাখ্যা দিলেন কোচ
স্পেনের কাছে হেরে পর্তুগাল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর অনেকের সমালোচনার তির কোচ রবার্তো মার্তিনেজের দিকে। ৪১ বছর বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পুরো সময় কেন খেলিয়েছেন, আগের ম্যাচে বদলি নেমে গোল করা গনসালো রামোসকে কেন এক মিনিটও সুযোগ দেওয়া হলো না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এই কোচের সংবাদ সম্মেলনেও।
তবে সমালোচনার মুখেও নিজের যৌক্তিক মনে করছেন মার্তিনেজ। তাঁর মতে, পর্তুগালের যখন গোল দরকার, রোনালদোর মতো খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থই হয় না। রামোসকে অতিরিক্ত সময়ে খেলানো যেত বলে মন্তব্য তাঁর।
যদিও তার আগেই যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে ১-০ গোলে হেরে যায় পর্তুগাল।
৯০ মিনিট মাঠে থেকে রোনালদো বলে স্পর্শ করতে পেরেছেন মাত্র ২০ বার। এর মধ্যে স্পেনের বক্সে তিনবার। তবে শেষ পর্যন্ত কোনোটিই পর্তুগালের কাজে লাগেনি। সমালোচকদের মতে, ৪০ পেরোনো রোনালদোর খেলায় আগের ধার নেই। এ সময়ে এসে তাঁকে পুরো সময় খেলানোও বিলাসিতা। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপেই তখনকার কোচ ফার্নান্দো সান্তোস তাঁকে বদলি করতেন।
কিন্তু মার্তিনেজ মনে করেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ীকে মাঠে রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘দল যখন একটি গোলের জন্য লড়ছে, তখন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে তুলে নেওয়া যায় না। সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে, এতে কোনো সমস্যা নেই। শুধু তার উপস্থিতিই প্রতিপক্ষের রক্ষণে প্রভাব ফেলে। সে জায়গা তৈরি করে দেয়, সেট পিসে কিংবা বক্সের ভেতরে যেকোনো মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তাই ৯০ মিনিটে তাকে তুলে নেওয়ার কোনো অর্থ ছিল না।’
কাতার বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে রোনালদোর জায়গায় খেলতে নেমে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রামোস। ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার এবারের আসরের শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও বদলি নেমে গোল করেছিলেন। তাঁকে না খেলানোর বিষয়ে পর্তুগাল কোচ বলেন, ‘অতিরিক্ত সময়ে হয়তো গনসালো রামোসকে ব্যবহার করার সুযোগ আসত। কিন্তু ৯০ মিনিট পর্যন্ত দলের কাঠামো ঠিক রাখাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তখন দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠেনি।’
ষষ্ঠ বিশ্বকাপে ২৭তম ম্যাচ খেলতে নামা রোনালদো পুরো ম্যাচেই একপ্রকার নিষ্প্রভ ছিলেন। তবু অধিনায়কের প্রশংসাই ঝরেছে মার্তিনেজের কণ্ঠে, ‘আমি যখন পর্তুগালের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন ক্রিস্টিয়ানোকে নিয়ে অনেক সংশয় ছিল। কিন্তু সে শুধু গোল বা অ্যাসিস্টে নয়, প্রতিশ্রুতি, নিবেদন আর ফুটবলকে যেভাবে ধারণ করে, সব দিক থেকেই অনুকরণীয় একজন হয়ে উঠেছে। তাকে উদ্যাপন করা উচিত।’
আল নাসর তারকাকে নিয়ে মার্তিনেজ আরও বলেন, ‘আমরা ফুটবলের এক আইকনকে নিয়ে কথা বলছি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো খেলোয়াড় খুব বেশি নেই। এই বিশ্বকাপে সে যা করেছে, তার জন্য আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। খেলোয়াড় হিসেবে, অধিনায়ক হিসেবে, এমনকি মানুষ হিসেবেও সে আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’
সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ এই কোচ জানান, পর্তুগাল দলকে বিদায় জানাতে চলেছেন তিনি, ‘পর্তুগালে আমি বিশ্বকাপ জিততে এসেছিলাম। সেটা হয়নি। এখন আর চালিয়ে যাওয়ার মানে হয় না। এখানেই আমার শেষ।’