ব্রাজিলকে হারানোর হুমকি দিল জাপান
সুইডেনের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে ড্র করেছে জাপান। এই ড্রয়ে ব্লু সামুরাইদের একমাত্র গোলটি দাইজেন মায়েদার। গ্রুপ পর্বের বৈতরণি পার হতেই আত্মবিশ্বাসটা যেন আরও বেড়েছে জাপানের।
শেষ ৩২–এর টিকিট কেটেই পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে হুংকার ছেড়েছেন মায়েদা। শুধু তিনিই নন, দলের আরেক অভিজ্ঞ ফুটবলার ইউতো নাগাতোমোও মনে করেন, সামর্থ্যের সবটুকু দিতে পারলে ব্রাজিলকে হারানো অসম্ভব কিছু নয়।
সুইডেন ম্যাচের পর আজ ইএসপিএন ব্রাজিলকে মায়েদা বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা কঠিন একটা ম্যাচ হবে। তবে আমরা যদি নিজেদের খেলাটা ঠিকভাবে খেলতে পারি, তাহলে তাদেরও হারাতে পারব। আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এত দিন যেভাবে খেলেছি, সেটাই মাঠে দেখাতে পারলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।’
লড়াইটা যে কেবল মাঠের নয়, মনস্তাত্ত্বিকও, তা নাগাতোমোর কথাতেই স্পষ্ট। তবে ব্রাজিলের শক্তি নিয়ে কথা বলার সময় এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নেইমারকে নিয়ে সতর্ক থাকার তাগিদই দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন পর হলুদ জার্সিতে ফেরা ব্রাজিলের পোস্টারবয় জাপানের বিপক্ষে বরাবরই নির্মম। জাপানের বিপক্ষে করেছেন ৯ গোল, যা জাপানের বিপক্ষে কোনো ব্রাজিলিয়ানের সর্বোচ্চ গোল।
নাগাতোমো বলেন, ‘নেইমার বিশ্বমানের একজন খেলোয়াড়। তাকে নিয়ে আমাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। ব্রাজিল সব সময়ই শক্তিশালী দল ছিল এবং এখনো তা–ই। তবে আমাদের দলটাও ভালো। আমরা বিশ্বাস করি, নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে ব্রাজিলকে হারানো সম্ভব।’
গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ ‘সি’র শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। অন্যদিকে সুইডেনের সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ হয়ে নকআউট পর্বে পা রেখেছে জাপান। আগামী সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে এ দুই দল।
অতীতের খতিয়ান অবশ্য ব্রাজিলেরই জয়গান গাইছে। দুই দলের ১৪ বারের দেখায় সেলেসাওদের ১১ জয়ের বিপরীতে জাপানের জয় মাত্র একটিতে, বাকি দুই ম্যাচ ড্র। এমনকি বিশ্বকাপে তাদের একমাত্র সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৬ সালে, যেখানে জাপানকে ৪–১ গোলে চূর্ণ করেছিল লাতিন পরাশক্তিরা।
তবে পরিসংখ্যানের পাতা এক পাশে সরিয়ে রেখে মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিলকে একচুলও ছাড় দিতে রাজি নয় জাপান।