ওই সাক্ষাৎকারের পর ‌‘প্রিয়’ ক্লাবের সঙ্গে বিচ্ছেদ শুধুই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কাতারের সংবাদ সম্মেলন সম্ভবত যেটিকে
একটু ত্বরান্বিতই করেছে। আগের দিনই ‌‘পারস্পরিক সম্মতি’র ভিত্তিতে দুই দিকে বেঁকে গেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পথ। এর পরদিন পর্তুগালের সংবাদ সম্মেলন যে রোনালদোময় হয়ে থাকবে, তাতে আর আশ্চর্য কী!

পর্তুগাল দল থেকে অন্য যে কেউ এলেও তা-ই হতো। ব্রুনো ফার্নান্দেজ আসায় সাংবাদিকদের প্রশ্ন আরও বৈচিত্র্যময় হওয়ার সুযোগ পেল। শুধু তো পর্তুগাল দলেই নন, এক দিন আগেও তো দুজন সতীর্থ ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেও। সেই ক্লাবকে নিয়েই যখন এত ঘটনা, ব্রুনো ফার্নান্দেজের দিকে একের পর এক প্রশ্নের তির তো ছুটে যাবেই।

ব্যাপারটা তো শুধু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে একসঙ্গে খেলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ওল্ড ট্রাফোর্ডে দুই পর্তুগিজের সম্পর্ক নিয়ে বাতাসে হাজারো কথা উড়ছে অনেক দিন ধরেই। সেই সম্পর্ক যে ‌‘পর্তুগিজ ভাই-ভাই’জাতীয় নয়, তা না বললেও চলে। সর্বশেষ একটা ভিডিও তো ভাইরালই হয়ে গেছে। একটা হ্যান্ডশেকের ভিডিও।

পর্তুগালের বিশ্বকাপ-পূর্ব ক্যাম্পে ব্রুনো ফার্নান্দেজ একটু দেরিতে যোগ দেওয়ার পর রোনালদোর সঙ্গে তাঁর হ্যান্ডশেক। ব্রুনো ফার্নান্দেজের সংবাদ সম্মেলনে ওই প্রসঙ্গটাও বাদ থাকল না। রোনালদো যা বলেছিলেন, ফার্নান্দেজও অবশ্যই তা-ই বললেন। প্রস্তুতি ক্যাম্পে দেরিতে যোগ দেওয়ায় রোনালদো নাকি তাঁকে মজা করে জিজ্ঞেস করেছেন, ‌‘তুমি কি নৌকায় এলে নাকি!’

রোনালদো নিজে চলাফেরা করেন ব্যক্তিগত বিমানে। সাধারণ বিমানযাত্রীদের মতো যেখানে ‌‘ফ্লাইট ডিলেড’ কথাটার কোনো অস্তিত্বই নেই। এ নিয়ে রোনালদোর কৌতুকের সঙ্গে নাকি পর্তুগালের সব খেলোয়াড়ই পরিচিত।

তা না হয় হলো। তবে ব্রুনো ফার্নান্দেজের সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্কটা যে সহজ নয়, সেটি তো এদিনও বোঝা গেল। রোনালদো তাঁর প্রেরণা, তাঁর সঙ্গে এক ক্লাবে খেলাটা ‘স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো ব্যাপার’ এসব বললেন ঠিকই। হয়তো মন থেকেই। রোনালদো-পরবর্তী প্রজন্মের কোনো পর্তুগিজ ফুটবলার এমন বলবেন না!

তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নিয়ে যে এমন আগুন জ্বালিয়ে দিলেন রোনালদো, স্বদেশি ক্লাব-সতীর্থের সঙ্গে তা নিয়ে একটু কথা বলাই কি স্বাভাবিক ছিল না? প্রথম প্রশ্নটা হলো এ নিয়েই। না, ব্রুনো ফার্নান্দেজের সঙ্গে এ নিয়ে রোনালদোর কোনো কথাই হয়নি। তা জানিয়ে দেওয়ার পর ব্রুনো ফার্নান্দেজ বললেন, এটা রোনালদোর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ বিতর্কে ক্লাব বা রোনালদো কারও পক্ষই নিচ্ছেন না।

খেলোয়াড়েরা শুধুই খেলোয়াড় নয়, তারা বাবা, তাদের পরিবার আছে...সবার জন্য ভালো হয়, সেই সিদ্ধান্তই নিতে হয়। এসব কথা তো প্রত্যাশিতই ছিল, ব্রুনো ফার্নান্দেজের উত্তরে কানে যেটা লাগল, তা হলো ‌‌‘অফকোর্স’ কথাটা। এমন গুরুতর একটা বিষয় নিয়ে রোনালদো তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা করেছেন কি না, প্রশ্নটার উত্তর শুরু করলেন ‌‘অবশ্যই না’। যেন এটা করাই অস্বাভাবিক কিছু হতো।

বিশ্বকাপ মিশন শুরুর ঠিক আগে এমন বিতর্ক চাইবেন না কোনো খেলোয়াড়ই। রোনালদো হয়তো চেয়েছেন। অন্যরা বিতর্ককে ভয় পায়, তিনি বিতর্ককে আলিঙ্গন করেন। নইলে ওই সাক্ষাৎকারটা তো বিশ্বকাপের পরেও দিতে পারতেন।

ওই যে বলেছেন, নিজের ঠিক করা সময়ই তাঁর কাছে সেরা সময়। ব্রুনো ফার্নান্দেজও রোনালদোকে নিয়ে এত আলোচনার কারণটা দারুণ বললেন, ‌‘যখন আপনি কোনো কথা বলবেন, যারা বেশি খবর তৈরি করে, তাদের নিয়েই তো বলবেন। বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে বেশি খবর তো ক্রিস্টিয়ানোরই তৈরি।‌’

আত্মবিশ্বাস তো সব সময়ই তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র। বড় কিছু বলে ফেলে সেটি বাস্তবে রূপ দেওয়ার চাপ নেওয়াটাও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বড় পছন্দ। নইলে কেন দাবি করবেন, ‌‘এই বিশ্বকাপের সেরা দল পর্তুগাল।’ আর কোনো দলের কোনো খেলোয়াড়ের মুখে শুনেছেন এ কথা?