বাছাইপর্বে  যুক্তরাষ্ট্র, কোস্টারিকা, পানামা, জ্যামাইকার মতো দেশের ওপরে থেকে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছিল কানাডা। সেটি যে আকস্মিক কিছু ছিল না সে প্রমাণ ম্যাচের শুরু থেকেই দেয় কানাডা। তারা ম্যাচ শুরু করে আক্রমণাত্মক মানসিকতায়। বেলজিয়ামের ডি-বক্সের আশেপাশে আক্রমণের ঝড় তোলে কানাডা। তেমনই এক আক্রমণে ম্যাচের ৯ মিনিটে পেনাল্টি আদায় করে ছাড়ে লা রুজ খ্যাত দলটি।

ডি-বক্সের ভেতর হাতে বল লাগিয়ে কানাডাকে পেনাল্টি উপহার দেন ইয়ানিক কারাসকো। তবে চমক অপেক্ষা করছিল আরও। আলফোনসো ডেভিসের নেওয়া পেনাল্টি বাজপাখির দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকান বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।

পেনাল্টি কাজে লাগাতে না পারলেও আক্রমণের ধার একটুও কমায়নি কানাডা। আগ্রাসী ফুটবলে বেলজিয়ামকে রীতিমতো কোণঠাসা করে রাখে তারা। প্রথম ১৮ মিনিটে কানাডার ৭টি শটের বিপরীতে বেলজিয়ামের শট ছিল মাত্র ১টি। শুধু নিজেদের ভুলেই এগিয়ে ‍যাওয়া হয়নি কানাডার।

এরপর ধীরে ধীরে মাঝ মাঠের দখল নেওয়ার চেষ্টা চালায় বেলজিয়াম। এ সময় কানাডার আক্রমণের গতিও কিছুটা কমে আসে। ম্যাচের ২৪ মিনিটে এদেন হ্যাজার্ডের নৈপুণ্যে দারুণ একটি সুযোগ পেয়েছিল বেলজিয়াম।

তবে কানাডিয়ান গোলরক্ষকের কৃতিত্বে জালের দেখা পায়নি বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের দলটি। আক্রমণের গতি কমলেও পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি কানাডা।

একটু পর পর আক্রমণের ঝড়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে হানা দিচ্ছিল তারা। তবে কখনো কখনো নিজেদের ব্যর্থতা আবার কখনো বেলজিয়াম গোলরক্ষক কোর্তোয়ার দক্ষতায় গোল পাওয়া হচ্ছিল না।

কানাডিয়ান ফুটবলারদের মধ্যে একজনের কথা বলতেই হয়, তিনি তাহোন বুখানন। প্রথমার্ধে মাঠে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে দলের আক্রমণের নেতৃত্ব দেন ক্লাব ব্রুগার এই ফুটবলার।

বিরতির আগ মুহূর্তে লম্বা পাসের এক আক্রমণে ম্যাচে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। টবি অলডারওয়াইল্ডের পাস থেকে বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে দেন মিচি বাতশুয়াই।

পিছিয়ে পড়েও হাল না ছেড়ে কানাডা দারুণ সব আক্রমণ চালিয়ে যায়। তবে ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলটি না পেয়েই হতাশা নিয়ে বিরতিতে যায় তারা।

বিরতি থেকে ফিরেও শুরুতে আক্রমণে এগিয়ে ছিল কানাডা। বেলজিয়াম ডিফেন্সে চাপ তৈরি করে গোলের সুযোগও তৈরি করছিল তারা। তবে ফিনিশিংয়ের কোনো উত্তরই যেন মিলছিল না। তাই হচ্ছিল না গোলের সমাধানও। এ সময় খেলায় কিছুটা সমতায় আসে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দু পক্ষ একাধিকবার গোলের কাছাকাছি গিয়েছিল তবে মেলেনি জালের দেখা।

তবে ৮০ মিনিটের মাথায় আবারও বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে কানাডার গোলের সুযোগ নষ্ট করেন কোর্তোয়া। এরপর বেলজিয়ামও অবশ্য ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল, তবে সেগুলোও কাজে আসেনি। শেষ পর্যন্ত এক গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম।