প্রতি মৌসুমেই ইউরোপিয়ান ফুটবলে দলবদলের বাজারে খেলোয়াড়দের পসরা সাজিয়ে হাজির হয় ক্লাবগুলো। কখনো নিজের ইচ্ছায় আবার কখনো ক্লাবের চাওয়াতে ক্লাব ছাড়তে হয় খেলোয়াড়দের। এই দলবদলে লেনদেন হয় হাজার কোটি টাকা। পছন্দের খেলোয়াড়দের কিনতে টাকার বস্তা নিয়ে বাজারে নামে ইউরোপের পরাশক্তিগুলো।
আর দলবদলের বাজারে খেলোয়াড় বেচাকেনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এজেন্টরা। ফিফার তথ্য বলছে, কয়েক দিন আগে শেষ হওয়া দলবদলে এজেন্টরা আয় করেছেন প্রায় ৪৩০ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা)।
সম্প্রতি সদ্য শেষ হওয়া গ্রীষ্মের দলবদলের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে ফিফা। যেখানে বলা হয়েছে, পুরুষ খেলোয়াড়দের দলবদল থেকে এজেন্টরা প্রায় ১০ শতাংশ অর্থ নিজেদের পকেটে পুড়েছেন। একদশক আগেও যা ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ।
গত মৌসুমে দলবদলের বাজারে সব মিলিয়ে ৪ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন পাউন্ড লেনদেন হয়েছে, যা কি না আগের বছরের চেয়ে ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে এজেন্টরা পেয়েছেন ৪৩০ মিলিয়ন পাউন্ড।
গত বছর এই অঙ্ক ছিল ৩৭১ মিলিয়ন পাউন্ড। ফিফার প্রকাশিত তালিকায় মূলত চলতি বছরের জুনের ১ তারিখ থেকে সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ পর্যন্ত সময়কালকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এ বছর পুরুষ ও নারী খেলোয়াড়দের দলবদলে বিশ্বব্যাপী রেকর্ডসংখ্যক খেলোয়াড় দল বদলেছেন। পুরুষদের দলবদলেই বিশ্বব্যাপী রেকর্ড ৯ হাজার ৭১৭ খেলোয়াড় দল বদলেছেন। যেখানে এখনো ৪১৭ খেলোয়াড় নিবন্ধনের অপেক্ষায় আছেন।
এই নিবন্ধন সম্পন্ন হলে প্রথমবারের খেলোয়াড়দের দলবদলের সংখ্যা ১০ হাজারের কোটা অতিক্রম করবে। ফিফার প্রতিবেদন বলছে, উয়েফার অধীন থাকা দেশগুলোতেই ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি খেলোয়াড় নতুন ক্লাবের হয়ে স্বাক্ষর করেছেন।
আর দেশ হিসেবে ৪২২ খেলোয়াড় নিয়ে ট্রান্সফার ফিতে নেতৃত্ব দিয়েছে ইংলিশ ক্লাব। যেখানে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের পেছনে রেকর্ড ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন পাউন্ড অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিকভাবে খেলোয়াড়দের দলবদলে রেকর্ড হয়েছিল ২০১৯ সালে। সে বছর সব মিলিয়ে ৯ হাজার ৯২ খেলোয়াড় দলবদল করেছিলেন। এমনকি এ বছর নারীদের দলবদলেও রেকর্ডসংখ্যক খেলোয়াড় ক্লাব বদল করেছেন।
এ বছর দলবদল থেকে পাওয়া এই অর্থ এজেন্টদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়ই বলা যায়। পাশাপাশি দলবদলের বাজারে মধ্যস্থাকারীদের গুরুত্ব যে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সেই ইঙ্গিতও এখান থেকে পাওয়া যাচ্ছে।
তবে দলবদল থেকে পাওয়া ২০২১ সালের সামগ্রিকভাবে আয়ের অঙ্ক থেকে কিছুটা কম। গত বছর সব মিলিয়ে এই অঙ্ক ছিল ৪৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড। ধারণা করা হচ্ছে, দলবদলের বাজারে এমন রমরমা অবস্থা ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাকেও দলবদলের প্রক্রিয়াকে নতুন করে সাজাতে উদ্বুদ্ধ করবে।