জার্মানির গোলটি বাতিল হলে ‘আর্সেনালের চ্যাম্পিয়ন হওয়ারই কথা নয়’

জোনাথন টাহয়ের হেড ঠেকাতে পারেননি প্যারাগুয়ে গোলরক্ষক গিলএএফপি

বোস্টনে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তখন অতিরিক্ত সময়ের খেলা চলছিল। কর্নার থেকে হেডে বল জালে পাঠান জোনাথন টাহ। ২-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দে মাতোয়ারা হয় জার্মান শিবির। কিন্তু বাদ সেধেছে ভিএআর। টাহর হেডের আগমুহূর্তে জার্মানির ডিফেন্ডার ভালডেমার আন্টন প্যারাগুয়ে গোলকিপারকে ফেলে দেওয়ায় ফাউলের দায়ে গোলটি বাতিল করে ভিএআর।

অতিরিক্ত সময়ে ১২ মিনিটে সে গোলটি বাতিল হওয়ায় ম্যাচে আবারও ১-১ গোলের সমতায় ফিরতে বাধ্য হয় জার্মানি।পরে টাইব্রেকারে হেরে (৪-৩) বিদায় নিতে হয় বিশ্বকাপে রাউন্ড অব থার্টি টু থেকে। দারুণ জয়ে প্যারাগুয়ে উঠেছে শেষ ষোলোয়।

কোনো ডিফেন্ডারের বাধা ছাড়াই ব্যাক পোস্টে লাফিয়ে উঠে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো হিলকে পরাস্ত করেন টাহ। কিন্তু ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলটির কয়েক সেকেন্ড আগে প্যারাগুয়ে গোলরক্ষককে ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি ঘটে। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারের চোখে সিদ্ধান্তটি ‘জঘন্য’।

হিল মাঠে পড়ে যাওয়ার পর আবার উঠে দাঁড়িয়ে তাঁর গোল বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ভিএআরের পরামর্শে রেফারি জালাল জায়েদ মাঠের পাশে মনিটরে ভিডিও রিপ্লে দেখে গোল বাতিলের বাঁশি বাজালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিয়ারার। বিবিসি ওয়ানকে সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেছেন, প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক আসলে ‘রেফারিকে ধোঁকা দিয়েছেন’।

ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার
এএফপি

শিয়ারার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘আমি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে মোটেও একমত নই। সামান্য ছোঁয়াতেই গোলরক্ষক মাটিতে পড়ে গেলেন, এটা খুবই সস্তা একটা সিদ্ধান্ত। আমার মনে হয়েছে, এটা একটা জঘন্য সিদ্ধান্ত।’ শিয়ারার যোগ করেন, ‘আপনাকে বুঝতে হবে, ফুটবল শরীরনির্ভর খেলা। রেফারি ও ভিএআরকে বোকা বানিয়েছেন গোলরক্ষক। যেভাবে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন, তা এককথায় জঘন্য।’

ম্যাচ শেষে সেই গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি জার্মানির কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান। তাঁর ভাষায়, ‘ওটা কোনো ফাউলই ছিল না। ওই গোলটা বাতিল করা আসলে রসিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’ গোল বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় ম্যাচ চলাকালে হলুদ কার্ড দেখতে হয় নাগলসমানকে।

বিশ্বকাপে জার্মানির একটি টেলিভিশনে বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। বাতিল হওয়া গোলটির সঙ্গে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের গোল করার কৌশলের মিল খুঁজে পেয়েছেন তিনি। আর্সেনাল পুরো মৌসুমে এমন বহু গোল করেছে উল্লেখ করে মায়েন্তা টিভিকে ক্লপ বলেন, ‘এই গোলটা যদি অবৈধ হয়, তবে আর্সেনালের তো ইংলিশ লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই কথা নয়! ওরা তো ওদের ৬০ শতাংশ গোলই এভাবে করেছে।’

জার্মান ক্লপ যোগ করেন, ‘বল জালে জড়ানোর সঙ্গে আমরা ম্যাচটা জিতেছি। এমন সিদ্ধান্ত ভীষণ নিষ্ঠুর।’

আরও পড়ুন

গোল বাতিলের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের মতামত জানান প্রিমিয়ার লিগের সাবেক সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান। বিবিসি ওয়ানকে বলেছেন, ‘আমার মতে, সিদ্ধান্তটি খুবই সস্তা ছিল। তবে চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আমরা যা দেখেছি, তাতে গোলটা বাতিল হওয়ায় আমি মোটেও অবাক হইনি।’

লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ
এএফপি

ক্যানের ভাষায়, ‘খুবই ছোটখাটো ফাউলের কারণে এর আগেও আমরা দুই থেকে তিনটি গোল বাতিল হতে দেখেছি। এটিও তেমন বড় কিছু ছিল না। গোলরক্ষককে সামান্য একটু ব্লক করা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু গোল বাতিলের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। আমার অনুমান সত্যি হলো, ওরা গোলটা বাতিলই করল। তবে আমাদের মনে হয়েছে, গোলটি বহাল রাখা উচিত ছিল।’

বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভের হয়ে বোস্টন থেকে যুক্ত হওয়া স্কটল্যান্ডের সাবেক উইঙ্গার প্যাট নেভিনও মনে করেন, গোল বাতিলের জন্য ফাউলটি যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না। নেভিনের ভাষায়, ‘বক্সের ভেতর তখন হট্টগোল চলছিল। সেখানে একটা ব্লক অবশ্যই ছিল, কিন্তু সেটা কি গোলরক্ষককে বাধাগ্রস্ত করেছে? দেখে তেমনই মনে হচ্ছে। তবে এটি সম্পূর্ণ রেফারির ব্যক্তিগত বিবেচনার বিষয়। সিদ্ধান্তটি মোটেও পরিষ্কার নয়।’

আরও পড়ুন