মাঠের বাইরে সতীর্থের তোয়ালে রক্ষা করেই তিনি দেশের শিরোপা জয়ের নায়ক
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনালে অদ্ভুত এক দায়িত্ব পালন করে আলোচনায় সেনেগালের রিজার্ভ গোলকিপার ইয়েভান দিওফ। গত রোববার রাতে রাবাতে অনুষ্ঠিত নাটকীয় ফাইনালে খেলেননি তিনি। তবে মাঠের বাইরে থেকেই হয়ে উঠেছিলেন সেনেগালের জয়ের অন্য রকম এক নায়ক। মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার মহাদেশীয় শিরোপা জয়ের পথে দিওফের ভূমিকা ছিল বেশ ব্যতিক্রমী।
বৃষ্টির মধ্যে ম্যাচ চলাকালে নিয়মিতই গ্লাভস শুকাতে হচ্ছিল সেনেগালের প্রথম গোলকিপার সাবেক চেলসি তারকা এদুয়ার্দ মেন্দিকে। কিন্তু কাজটা সহজ ছিল না। কারণ, মরক্কোর খেলোয়াড়েরা বারবার মেন্দির তোয়ালেটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেমিফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষেও একই কৌশল নিতে দেখা গিয়েছিল তাঁদের।
এমন পরিস্থিতিতে তোয়ালেটি রক্ষা করার দায়িত্ব নেন দিওফ। পুরো ১২০ মিনিট ধরে বলবয় ও পতাকাবাহকদের কাছ থেকে সতীর্থের তোয়ালেটি আগলে রাখেন তিনি। একপর্যায়ে তিনজন বলবয় ধস্তাধস্তি করে দিওফকে মাটিতে ফেলেও দেন। ভিডিও ফুটেজে তাঁকে বলবয়দের কাছ থেকে দৌড়ে পালাতেও দেখা যায়।
ম্যাচের শেষ ভাগে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিকে সেনেগালের একটি তোয়ালে বিজ্ঞাপন বোর্ডের ওপারে ছুড়ে ফেলতে দেখা যায়। ফাইনালের পর ইনস্টাগ্রামে নিজের এই ‘অসাধারণ’ দায়িত্ব নিয়ে রসিকতা করেন দিওফ। জয়ের পদক আর সেই আলোচিত তোয়ালের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘এই তো পদক আর তোয়ালে।’
ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের দিওফ বলেন, প্রতিপক্ষ দল কেন তোয়ালে নিয়ে এতটা বাড়াবাড়ি করেছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি। দিওফের ভাষায়, ‘হয়তো মানুষ তোয়ালেগুলো নিয়ে অন্য কিছু ভেবেছে। কিন্তু আসলে বৃষ্টির মধ্যে শুধু গ্লাভস আর মুখ মুছতেই এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছিল। আমিও আপনাদের মতোই বিস্মিত হয়েছিলাম। তবে দল হিসেবে আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আর এদুয়ার্দ প্রয়োজনের সময় তোয়ালেগুলো পেয়েছে।’
ফাইনালে সেনেগালের জয়ের পর দিওফের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একজন লিখেছেন, ‘ইয়েভান দিওফের কাজটা দেখুন, বন্ধুরা। পুরো একটা দেশের ম্মান তুমি অর্জন করেছ। সোলজার।’
তোয়ালে নিয়ে টানাটানির রাতে অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে একক নৈপুণ্যে অসাধারণ এক গোল করেন সেনেগালের পাপে গেয়ে। এই গোলই সেনেগালকে এনে দিয়েছে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের দ্বিতীয় শিরোপা। গোলের আগে অবশ্য ঘটে গেছে অনেক নাটক। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে পেনাল্টি পায় মরক্কো। রেফারির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও।
তবে লিভারপুলের সাবেক স্ট্রাইকার সাদিও মানে মাঠে থেকে যান, সতীর্থদের খেলা চালিয়ে যেতেও বলেন। এই অচলাবস্থার মধ্যে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ১৭ মিনিট। এরপর সেনেগালের খেলোয়াড়েরা মাঠে ফিরে এলে আবার খেলা শুরু হয়। কিন্তু পেনাল্টিতে গোল করতে ব্যর্থ হন মরক্কোর দিয়াজ। এরপর অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোলটি পায় সেনেগাল।