স্কটিশ লিগে ত্রিমুখী শিরোপা লড়াই, নিষ্পত্তি হতে পারে গোল ব্যবধানেও
স্কটিশ লিগে গতকাল প্রত্যাবর্তনের দুর্দান্ত এক গল্প লিখে ফলকার্ককে ৬-৩ গোলে হারিয়েছে রেঞ্জার্স। ম্যাচের ২৬ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল রেঞ্জার্স। কিন্তু পরে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে আদায় করে নিয়েছে দারুণ এক জয়। রেঞ্জার্সের এই জয় স্কটিশ লিগের শিরোপা লড়াইকে এখন আরও জমজমাট করে তুলেছে। এমনকি এই লিগে গোল ব্যবধানেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা নির্ধারিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলকার্ক স্টেডিয়ামে রেঞ্জার্স-ফলকার্ক ম্যাচের আগেই স্কটিশ প্রফেশনাল ফুটবল লিগ (এসপিএফএল) সম্ভাব্য সমতা বিবেচনা করে শিরোপা নির্ধারণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনাও করে। যেখানে সবকিছু সমান হলে অতিরিক্ত প্লে-অফ ম্যাচ আয়োজনের কথাও ভাবা হচ্ছে। তবে সেই পরিস্থিতি আসতে এখনো বাকি। কারণ, হার্টস, রেঞ্জার্স ও সেল্টিক—তিন দলেরই সমান পাঁচটি করে ম্যাচ বাকি।
সবশেষ রাউন্ডে তিন দলই নিজ নিজ ম্যাচে জেতার পর শীর্ষে আছে হার্টস, যারা এগিয়ে আছে ১ পয়েন্টে। তাদের পয়েন্ট ৩৩ ম্যাচে ৭০। তাদের পেছনে রেঞ্জার্স, যাদের পয়েন্ট সমান ম্যাচে ৬৯। আরও ২ পয়েন্ট পিছিয়ে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে ৩ নম্বরে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেল্টিক। শেষ পর্যন্ত দুই বা তিন দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমে গোল ব্যবধান, এরপর মোট গোল, তারপর নিজেদের মধ্যে হেড–টু–হেড ফলাফল বিবেচনা করা হবে।
আর সবকিছু সমান থাকলে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্লে-অফ ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমেই চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হতে পারে। ফলে মৌসুমের এই পর্যায়ে শুধু জয়-পরাজয় নয়, প্রতিটি গোলই হয়ে উঠতে পারে শিরোপা নির্ধারণের বড় ফ্যাক্টর।
গোল ব্যবধানে এ মুহূর্তে এগিয়ে আছে রেঞ্জার্স। ফলকার্কের বিপক্ষে বড় জয়ের পর তারা হার্টসের চেয়ে ৫ গোল এবং সেল্টিকের চেয়ে ১১ গোল এগিয়ে। গোল করার দিক থেকেও এগিয়ে রেঞ্জার্স। তাদের গোল ৬৬টি, যেখানে সেল্টিকের ৫৯ এবং হার্টসের ৫৮।
হেড-টু-হেড হিসাবেও চিত্রটা গুরুত্বপূর্ণ। হার্টস এরই মধ্যে সেল্টিককে দুবার হারিয়েছে এবং একবার ড্র করেছে, তাই শেষ ম্যাচে সেল্টিক পার্কে হেরে গেলেও এই হিসাবে এগিয়ে থাকবে এডিনবরার দলটি। হার্টস আবার রেঞ্জার্সকে দুবার হারিয়েছে এবং একবার হেরেছে।
অন্যদিকে রেঞ্জার্স সেল্টিককে একবার হারিয়েছে এবং দুই ম্যাচ ড্র করেছে। ফলে সামনে অপেক্ষমাণ নিজেদের ম্যাচগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ হেড-টু-হেডে এখন তুলনামূলকভাবে হার্টস এগিয়ে, রেঞ্জার্স মাঝামাঝি, সেল্টিক সবচেয়ে পিছিয়ে।
হেড-টু-হেড গোল ব্যবধানেও এখন সূক্ষ্ম পার্থক্য। হার্টস রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৬-৫ ব্যবধানে এগিয়ে, ফলে টাইনক্যাসল পার্কে তাদের শেষ ম্যাচটি নির্ধারকের ভূমিকা নিতে পারে। এদিকে রেঞ্জার্স সেল্টিকের বিপক্ষে ৫-৩ গোল ব্যবধানে এগিয়ে। এ পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত যদি সব হিসাবই সমান হয়ে যায়, তখনই কেবল প্লে-অফ ম্যাচের প্রয়োজন হবে। সে ক্ষেত্রে সেল্টিককে শেষ ম্যাচে রেঞ্জার্সের বিপক্ষে আগের ৩-১ জয়ের ব্যবধানে অন্তত জিততে হবে।
সেল্টিকের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মার্টিন ও’নিল মনে করেন, গোল ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ব্যবধান কমানোর কথা ভাবার সময় প্রায় শেষ। অবনমন-শঙ্কায় থাকা সেন্ট মার্টিনের বিপক্ষে কষ্টে ১-০ গোলে জয়ের আগেই তিনি বলেছিলেন, ‘এখন এসব ভাবার জন্য অনেক দেরি হয়ে গেছে।’
তবে এরপরও কিছু সুবিধা আছে সেল্টিকের। বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিই তারা খেলবে নিজেদের মাঠে। যেখানে তাদের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রেঞ্জার্স ও হার্টস দুটি করে ম্যাচ পাবে ঘরের মাঠে। এমনকি ও’নিলের দল নিজেদের মাঠেই স্বাগতিক হিসেবে খেলবে শিরোপাপ্রত্যাশী দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে। যার মধ্যে শেষ দিনের ম্যাচটি তারা খেলবে হার্টসের বিপক্ষে।
অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে গোল পাওয়ায় খুব একটা ধারাবাহিক নয় সেল্টিক। শেষ ১০ ম্যাচে মাত্র একবারই তারা দুইয়ের বেশি গোল করেছে। তবে রেঞ্জার্সের মতো একটি গোলবন্যার ম্যাচ পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য শিরোপা নির্ধারণে প্লে-অফের প্রয়োজন না–ও হতে পারে। তবে শিরোপা নির্ধারণে স্কটিশ লিগ যে শেষ দিন পর্যন্ত রোমাঞ্চ ছড়াবে, তা বলাই যায়।