আবারও দুইবার পিছিয়ে পড়ে ড্র লিভারপুলের
লিভারপুল ২ : ২ নটিংহাম ফরেস্ট
নিউক্যাসলের মাঠে মৌসুমের প্রথম ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে ড্র তুলেছিল লিভারপুল। অ্যানফিল্ডে ফিরেও যেন সেই একই গল্প। আবারও দুবার পিছিয়ে পড়া। আবারও ঘুরে দাঁড়ানো; কিন্তু জয়ের মুখ দেখা হলো না। নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষেও ২-২ ড্র! টানা দুই ম্যাচ ড্র করে নতুন মৌসুমের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শুরু করল আন্দোনি ইরাওলার দল।
অ্যানফিল্ডে সাম্প্রতিক ইতিহাস লিভারপুলের পক্ষে ছিল না। ফরেস্টের বিপক্ষে ঘরের মাঠে আগের দুই ম্যাচেই হেরেছিল তারা। সেই ছায়া যেন এ ম্যাচেও পিছু ছাড়েনি। যদিও শুরুটা ভালোই করেছিল লিভারপুল। সপ্তম মিনিটেই আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের দারুণ পাসে সুযোগ পেয়েছিলেন কোডি গাকপো; কিন্তু নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত ট্যাকলে বাঁচে ফরেস্ট।
১১ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ফরেস্ট প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিল। ওলা আইনার ক্রস থেকে ড্যান এনদোয়ের হেড। এরপর ইগর জেসুসের শটের আগে দুর্দান্ত ট্যাকলে বল সরিয়ে দেন জেরেমি জ্যাক। কিছুক্ষণ পর আবারও এনদোয়ে হেডে গোলের চেষ্টা করেন; কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট।
২৪ মিনিটে টানা চাপ তৈরি করে যাওয়ার ফল পায় ফরেস্ট। ম্যাটস সেলসের লম্বা বল সামলাতে ব্যর্থ লিভারপুল রক্ষণ। জেসুস বল নামিয়ে দেন, মরগান গিবস-হোয়াইটের পাস থেকে এনদোয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান। ফরেস্ট ১, লিভারপুল ০। অ্যানফিল্ড স্তব্ধ।
লিভারপুল ফিরতে চেয়েছে দ্রুতই। ৩৩ মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস বল জালে জড়ালেও অফসাইডে বাতিল হয় গোল। এরপর ভির্টৎসের হেড ঠেকিয়ে দেন সেলস। প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও সুযোগ পায় লিভারপুল। গাকপোর পাস থেকে ভিক্টর মুনিয়োজের শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। যোগ করা সময়ে ইগর জেসুসের শট অসাধারণভাবে বার ছুঁইয়ে দেন আলিসন বেকার। বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে ফরেস্ট।
দ্বিতীয়ার্ধেও পাল্টাপাল্টি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ৬০ মিনিটে সমতা ফেরায় লিভারপুল। ভির্টৎসের পাসে বাঁ দিক দিয়ে উঠে গাকপোর ক্রস, কাছ থেকে আলেকসান্দার ইসাকের সহজ টোকা। ১-১, অ্যানফিল্ডে স্বস্তির নিশ্বাস।
কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। ৬৮ মিনিটে লিয়াম ডেলাপের দ্রুত থ্রো ইন থেকে নিকো উইলিয়ামসকে বক্সে ফেলে দেন আলিসন। পেনাল্টি থেকে ৭০ মিনিটে গিবস-হোয়াইট গোল করে আবার এগিয়ে দেন ফরেস্টকে।
ম্যাচ তখন আবার লিভারপুলের জন্য কঠিন। তবে এবারও তারা হার মানেনি। ৮২ মিনিটে দারুণ এক গোল করেন মুনিয়োজ। ডমিনিক সোবোসলাইয়ের নিখুঁত পাস বক্সে পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে ডান পায়ের শটে দূরের কোণে বল জড়িয়ে দেন। হাততালি দিতে বাধ্য হয় অ্যানফিল্ডও।
শেষ দিকে সোবোসলাই ফ্রি–কিকে খুব কাছাকাছি গিয়েও গোল পাননি। যোগ করা পাঁচ মিনিটেও আর বদলায়নি স্কোরলাইন। লিভারপুল কোচ হিসেবে ইরাওলার প্রথম জয়ের অপেক্ষা তাই আরও দীর্ঘ হলো।