ব্যালন ডি’অরজয়ী বন্ধু কেইনকে কোহলির অভিনন্দন

বিরাট কোহলি ও হ্যারি কেইন। এক জন্য অন্যজনকে দিয়েছিলেন জার্সি উপহার।কেইনের ইনস্টাগ্রাম

একজনের হাতে ক্রিকেট ব্যাট, অন্যজনের পায়ে বল। একজন ভারতের ক্রিকেটের মহাতারকা, অন্যজন ইংল্যান্ডের ফুটবল অধিনায়ক। খেলার মাঠ আলাদা, দেশও আলাদা। কিন্তু বিরাট কোহলি আর হ্যারি কেইনের বন্ধুত্বে এসব কোনো বাধা নয়। তাই ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ের পর কেইনকে অভিনন্দন জানাতে দেরি করেননি কোহলি।

এর আগে গত বছর বন্ধু কোহলি প্রথমবারের মতো আইপিএল জেতার পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন কেইন। সেই কেইন গতকাল রাতে জিতেছেন ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর। বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার পেছনে ফেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামালকে। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন কেইন।

আরও পড়ুন

এবারের ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে কেইনের পক্ষে কথা বলেছে তাঁর দুর্দান্ত পরিসংখ্যান। গত মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে ৬৫ ম্যাচে করেছেন ৭৩ গোল। এমন পারফরম্যান্সের পর ব্যালন ডি’অরের সোনালি ট্রফিটা তাঁর হাতে ওঠায় অবাক হওয়ার কিছু নেই।

তবে কোহলির কাছে কেইনের এই অর্জন শুধু গোলের পর গোল করার পুরস্কার নয়। এর পেছনে তিনি দেখছেন বছরের পর বছর ধরে একজন ফুটবলারের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম আর সততার গল্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কেইনকে অভিনন্দন জানিয়ে কোহলি লিখেছেন, ‘হ্যারি, আমার বন্ধু, সর্বোচ্চ পর্যায়ে এত বছর ফুটবল খেলার পথে তুমি যে অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সততার পরিচয় দিয়েছ, তাতে এই পুরস্কারের প্রতিটি অংশই তোমার প্রাপ্য।’

হ্যারি কেইন ও বিরাট কোহলি: দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা বন্ধু।
কেইনের ইনস্টাগ্রাম


শুধু কেইন নন, তাঁর পরিবারের কথাও মনে রেখেছেন ভারতের এই তারকা ব্যাটসম্যান। কোহলি আরও লিখেছেন, ‘তোমার জন্য সত্যিই খুব খুশি। ঈশ্বর তোমাকে ও তোমার পরিবারকে আশীর্বাদ করুন। তোমার পরিবার নিশ্চয়ই তোমাকে নিয়ে খুব গর্বিত, যেমনটা তুমি নিজেও তোমার এই পথচলা নিয়ে গর্বিত হবে। তোমার জন্য সব সময় আমার শুভকামনা। অভিনন্দন।’


এবারের ব্যালন ডি’অরে কেইনের পর দ্বিতীয় হয়েছেন এমবাপ্পে। তৃতীয় স্থানে থাকা ইয়ামাল অবশ্য একেবারে খালি হাতে ফেরেননি। টানা তৃতীয়বারের মতো জিতেছেন বর্ষসেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার। ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী রদ্রি হয়েছেন চতুর্থ। আর রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসির জায়গা হয়েছে পাঁচ নম্বরে।
ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছেন কেইন। আর সেই আনন্দে ক্রিকেটের পৃথিবী থেকে শামিল হয়েছেন তাঁর বন্ধু কোহলি।
খেলার ভাষা আলাদা হতে পারে, বন্ধুত্বের ভাষা যে এক!

আরও পড়ুন