মেসির বিদায় বেলায় আপ্লুত নেইমার, ‘তোমার সঙ্গে ইতিহাসের অংশ হতে পারা সম্মানের’

মেসির খুব কাছের বন্ধু নেইমারনেইমারের ইনস্টাগ্রাম

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বিদায় ঘিরে যেন পুরো ফুটবল দুনিয়াই আবেগে ভাসছে। সতীর্থ, সাবেক সতীর্থ, প্রতিপক্ষ, ভক্ত, ফুটবল কিংবদন্তি, সবাই কোনো না কোনোভাবে জানাচ্ছেন মেসিকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সেই তালিকায় এবার যোগ হলো নেইমারের নাম।

মেসির খুব কাছের বন্ধু নেইমার। বার্সেলোনা ও পিএসজিতে দুজন ছিলেন সতীর্থ। শুরু থেকেই গড়ে উঠেছিল বন্ধুত্বও। মেসির বিদায়ী ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাই আবেগঘন এক বার্তা দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

আরও পড়ুন

‘যাঁরা ফুটবল ভালোবাসেন, তাঁরা এত বছর ধরে তোমাকে উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন...’ লিখে শুরু করেছেন নেইমার। সঙ্গে দিয়েছেন মেসির সঙ্গে তাঁর বেশ কিছু ছবি। এর মধ্যে আছে ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালের ছবিও। মারাকানায় সেবার ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২৮ বছর পর কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসিও পেয়েছিলেন জাতীয় দলের হয়ে প্রথম বড় ট্রফির স্বাদ।

পিএসজিতে যখন একসঙ্গে খেলতেন মেসি ও নেইমার
এক্স

আজ বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে সেটিই হতে যাচ্ছে মেসির শেষ ম্যাচ। নেইমার লিখেছেন, ‘আজ তোমার দেশের, তোমার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ। আশা করি, প্রতিটি সেকেন্ড উপভোগ করবে। আজকের সব শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা যেন তোমাকে আনন্দ দেয়।’

মেসি শুধু আর্জেন্টিনার মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছেন না, নেইমারের চোখে তাঁর প্রভাব আরও বড়। ৩৪ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড লিখেছেন, ‘তুমি ফুটবলের জন্য যা কিছু করেছ, তার জন্য শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো বিশ্ব তোমার কাছে কৃতজ্ঞ।’

এরপরই বন্ধুর প্রতি নেইমারের সবচেয়ে আবেগঘন কথাগুলো, ‘ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শেখানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার বিপক্ষে খেলতে পেরেছি, সেটাই ছিল সম্মানের। আর তোমার সঙ্গে ইতিহাসের অংশ হতে পারা ছিল আরও বড় সম্মানের।’

আরও পড়ুন

ইতিহাসের সেই অংশটি কম নয়। বার্সেলোনায় ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে খেলেছেন মেসি ও নেইমার। লুইস সুয়ারেজকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর আক্রমণভাগ। নাম হয়েছিল ‘এমএসএন’।

মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজের সেই ত্রয়ী বার্সেলোনাকে এনে দিয়েছিল নয়টি শিরোপা। এর মধ্যে ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপ ছিল সবচেয়ে বড় অর্জন।

চার বছর পর আবার একসঙ্গে হন দুজন। এবার ঠিকানা প্যারিস। মেসি বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর নেইমারের সঙ্গে আবার একই ড্রেসিংরুমে ফেরেন। প্যারিসে একসঙ্গে ছিলেন দুই মৌসুম।

সেখানে জিতেছেন দুটি লিগ আঁ ও একটি ফরাসি সুপার কাপ। এরপর ২০২৩ সালের জুনে মেসি পিএসজি ছেড়ে পাড়ি জমান ইন্টার মায়ামিতে।

বার্সেলোনায় সোনালি সময় কাটিয়েছেন মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজ
এএফপি

বার্সেলোনা ও পিএসজি মিলিয়ে মেসি-নেইমার একসঙ্গে খেলেছেন ২০৬ ম্যাচ। সেই ২০৬ ম্যাচে শুধু গোল আর শিরোপার গল্প নেই। আছে বন্ধুত্বের গল্পও।

আজ সেই বন্ধুর জাতীয় দলের শেষ ম্যাচ। মাঠে মেসি থাকবেন, নেইমার থাকবেন না। কিন্তু দূর থেকেও ব্রাজিলিয়ান তারকার কথাগুলো যেন বলে দিচ্ছে, মেসির এই বিদায় শুধু আর্জেন্টিনার নয়। ফুটবল নামের যে বিশাল পৃথিবী, তারও।