প্রথমার্ধ গোলশূন্য, পরের অর্ধে ১১ গোল
কখনো কখনো এমন হয়। খেলা দেখতে বসেছেন। প্রথমার্ধ ম্যাড়মেড়ে গোলশূন্য। ‘যাহ্, পরের অর্ধের খেলাই আর দেখবে না’—এমনটা ভেবে কেউ কেউ হয়তো বিরক্তি নিয়ে উঠে যান স্ক্রিনের সামনে থেকে। দর্শক ছেড়ে যান গ্যালারি। কিন্তু তারপর যদি ১১ গোল হয়!
সুইডেনের শীর্ষ লিগে গত শনিবার এমন অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটেছে। সোলনায় স্ট্রবেরি অ্যারেনায় মুখোমুখি হয়েছিল মাঝ টেবিলের দুই দল আলক ও ব্রোমাপইকারনা। প্রথমার্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর দ্বিতীয়ার্ধে ১০ মিনিটের মধ্যে এসেছে দুই গোল। অর্থাৎ ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ১–১ গোলে সমতায় ছিল দুই দল। এরপর যেন ম্যাচে গোলের বিস্ফোরণ ঘটল।
ম্যাচের ৭০ মিনিটের মধ্যে চার গোল করে ব্রোমাপইকারনা। কিন্তু পাগলামির তখনো অনেক বাকি ছিল। যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটের মধ্যে চার গোল করে বসে আলক। সমতায় ফেরে ৫–৫ গোলে। যোগ করা সময়ে নবম মিনিটে ম্যাচে শেষ কিকে ব্রোমাপইকারনাকে জয়সূচক গোলটি এনে দেন ম্যাডস হ্যানসেন।
২০ বারের চেষ্টায় আলকের বিপক্ষে লিগে এটাই প্রথম জয় ব্রোমাপইকারনার। ১৬ দলের এই লিগে ৯ম (আলক) ও ১১তম দলের মধ্যে এই ম্যাচে আসলে যা ঘটেছে, সেটা ইউরোপের শীর্ষ লিগেও খুব একটা দেখা যায় না। জয়ের পর ব্রোমাপইকারনার ফুলব্যাক সাইমন স্ট্র্যান্ড বলেন, ‘যাঁরা মাঠে এসেছিলেন, তাঁদের টিকিটের পয়সা উসুল। এমন একটি ম্যাচের পর সত্যিই বাক্রুদ্ধ লাগছে, ভীষণ উপভোগ করেছি।’
১৯৮২ সালের নভেম্বরে বুন্দেসলিগায় আর্মিনিয়া বিলেফেল্ডকে ১১-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার পথে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে ১০ গোল করে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। প্রথমার্ধে ১–১ গোলে সমতা ছিল। ১৬ মিনিটে আর্মিনিয়া প্রথম গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর ডর্টমুন্ড এমনভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, যা ইতিহাসেই বিরল।
২০০৯ সালে সেই নভেম্বরেই প্রিমিয়ার লিগে উইগানকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল টটেনহাম। সে ম্যাচে দলের ৯ গোলের ৮টিই আসে দ্বিতীয়ার্ধে, এর মধ্যে জার্মেইন ডিফো একাই করেন ৫টি গোল। ম্যাচের এই অর্ধে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে হ্যাটট্রিকও তুলে নেন সাবেক ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার।