পেলেকে নিয়ে ‘গুজবে’ বিরক্ত পেলে–কন্যা

পেলে অসুস্থ হওয়ার পর তাঁর জন্য প্রার্থনা করেছে প্রায় গোটা বিশ্বছবি: ইনস্টাগ্রাম

খারাপ খবর নাকি বাতাসের আগে ধায়। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমে পেলের অসুস্থতার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। কিংবদন্তির জন্য প্রার্থনায় বসে প্রায় গোটা বিশ্ব। শরীরে কেমোথেরাপি কাজ না করায় বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তিনবার।

শ্বাসযন্ত্রেও সংক্রমণ ধরা পড়ে। সাও পাওলোর সংবাদমাধ্যম ফোলহা দে সাও পাওলো পরশু জানিয়েছিল, চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়ায় পেলেকে ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার’-এ রাখা হয়েছে। কিন্তু পেলের মেয়ে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোকে জানিয়েছেন, তাঁর বাবাকে প্যালিয়েটিভ কেয়ারে রাখা হয়নি।

একটু সুস্থ হলেই তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্যালিয়েটিভ কেয়ার–ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যম এটাকে বলেছিল ‘এন্ড অব লাইফ কেয়ার’।

প্রাণঘাতি রোগে আক্রান্ত রোগীদের কষ্ট কমাতেই এ ব্যবস্থা। ব্যথা ও অস্বস্তি কমিয়ে রোগীকে যতটা সম্ভব আরামে রাখার চেষ্টা। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর কিলিয়ান এমবাপ্পে থেকে রিভালদো, ভিনিসিয়ুস জুনিয়ররা পেলের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার আশা প্রকাশ করে টুইট করেন। শোরগোল পড়ে যায় ফুটবল বিশ্বে। বিশ্বকাপ ফুটবলের মধ্যে পেলের এ অসুস্থতা সবাইকে শঙ্কায় ফেলে দেয়।

পেলের সুস্থতা কামনা করে এই চিত্রকর্মটি আঁকেন মুম্বাইয়ের এক আর্ট স্কুলের শিক্ষক
ছবি: এএফপি

সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতাল থেকেই পরে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে ভালো থাকার কথা জানান পেলে, ‘বন্ধুরা, আমি চাই সবাই শান্ত ও ইতিবাচক থাকুক। আমি অনেক আশাবাদী। আমার নিয়মিত চিকিৎসা চলছে। মেডিকেল ও নার্সিং টিমের সদস্যরা যেভাবে আমার যত্ন নিচ্ছেন, সে জন্য আমি তাঁদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।’ এরপর পেলের মেয়ে ফ্লাভিয়া নাসিমেন্তো গ্লোবো টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এটা দুঃখজনক যে লোকে বলাবলি করছে সে (পেলে) সংকটাপন্ন অবস্থায় চলে গেছে। তাকে নাকি প্যালিয়েটিভ কেয়ারে রাখা হয়েছে। আমাদের কথা বিশ্বাস করুন; এই খবর সত্যি নয়।’

ফ্লাভিয়া জানিয়েছেন, সময় ধরে ধরে পেলের ওষুধ ঠিক করা হচ্ছে। তাঁর কোলন ক্যানসারের স্থায়ী চিকিৎসার রূপরেখা এখনো ঠিক হয়নি। আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতাল থেকে শনিবার দেওয়া বিবৃতিতেও জানানো হয়, পেলের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের চিকিৎসায় সাড়া দিতে শুরু করেছেন তিনি। তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) রাখা হয়নি। মূলত শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান ফ্লাভিয়া।

পেলের আরেক মেয়ে কেলি নাসিমেন্তো একই সাক্ষাৎকারে অন্য এক তথ্য জানিয়েছেন, ‘প্রায় তিন সপ্তাহ আগে সে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিল। সব রকম টিকাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ক্যানসারের চিকিৎসা কেমোথেরাপি দেওয়ার কারণে শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা হয়।’ কেলি আরও বলেছেন, ‘তিনি অসুস্থ। বয়সও হয়েছে। এ মুহূর্তে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের চিকিৎসা চলছে। সুস্থ হয়ে উঠলেই বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।’

ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রীতিমতো ঝড় বয়ে যায়। পেলের মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে। ফ্লাভিয়ার সন্তান আর্থুর এ নিয়ে একটু বিরক্ত।

তিনি গ্লোবোকে বলেছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তো ব্যবহার করি। অনেকেই “শান্তিতে ঘুমাও” লিখে পোস্ট করেছেন। তখন মনে মনে বলেছি, এটা সত্য নয়। হ্যাঁ, একদিন এটা ঘটবে, তবে আজ নয়।’