চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোয় অম্লমধুর রাত কেটেছে ফেবারিটদের। গতকাল রাতে প্রথম লেগে লিভারপুল ১-০ গোলে হেরেছে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে। নিউক্যাসলের বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র করে বার্সেলোনা। তবে দাপুটে জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। টটেনহামকে ৫–২ গোলে হারায় আতলেতিকো। আর আতালান্তাকে ৬–১ গোলে উড়িয়ে দেয় বায়ার্ন।
লিভারপুলের দুঃখ গালাতাসারাই
প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এরই মধ্যে হাত ফসকে গেছে। এমনকি পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলাও অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে লিভারপুলের জন্য ‘লাইফলাইন’ হতে পারে চ্যাম্পিয়নস লিগ। কিন্তু শেষ ষোলো প্রথম লেগে গালাতাসারাইয়ের কাছে হেরে গেছে তারা। লিগ পর্বের ম্যাচেও তুরস্কের ক্লাবটির মুখোমুখি হয়েছিল লিভারপুল। সেবারও একই ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছিল ‘অল রেড’রা।
গতকাল রাতে তুর্কি লিগের শীর্ষে থাকা গালাতাসারায়ের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মারিও লেমিনা। ৭ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে হেড করে জাল খুঁজে নেন। এর আগে বলটি নামিয়ে দিয়েছিলেন ভিক্টর ওসিমেন। দ্বিতীয়ার্ধে ওসিমেন আরেকবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে রক্ষা পায় লিভারপুল।
আগামী সপ্তাহে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে গালাতাসারাইকে হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবে লিভারপুল। হারের পর লিভারপুলের হয়ে ১০০ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করার মাইলফলক স্পর্শ করা কোচ আর্নে স্লট বলেন, ‘এখানে খেলা কঠিন। তার ওপর ১–০ গোলে পিছিয়ে থাকলে কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায়।’
বার্সাকে বাঁচালেন ইয়ামাল
সেন্ট জেমস পার্কে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে গোল করে পুরো স্টেডিয়াম মাতিয়ে তোলেন হার্ভে বার্নেস। এই গোলেই বার্সেলোনাকে হারানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছিল নিউক্যাসল। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। যোগ করা সময়ের ৬ মিনিটে ম্যাচের শেষ কিকে গোল করে বার্সেলোনাকে দারুণ এক ড্র এনে দেন লামিনে ইয়ামাল।
যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে দানি ওলমোকে ফাউল করে বার্সাকে পেনাল্টি উপহার দেন নিউক্যাসলের মালিক থিয়াউ। স্পটকিক থেকে বল জালে জড়ান ইয়ামাল। ম্যাচজুড়ে নিষ্প্রভ ইয়ামালের গোলেই শেষ পর্যন্ত হার এড়িয়ে মাঠ ছেড়েছে বার্সা।
এর ফলে আগামী বুধবার ফিরতি লেগে ক্যাম্প ন্যুতে ন্যূনতম ব্যবধানে জিতলেই কোয়ার্টারে ফাইনালে পৌঁছে যাবে বার্সা। ম্যাচ শেষে নিউক্যাসলের সম্ভাবনা নিয়ে কোচ এডি হাও বলেন, ‘আশা অবশ্যই আছে। নিজেদের ওপর আমাদের বিশ্বাস আছে, সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস আছে। আজ আমরা সেটাই প্রমাণ করেছি।’
আতলেতিকোয় বিধ্বস্ত টটেনহাম
আতলেতিকোর কাছে গতকাল রাতে ৫–২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে টটেনহাম। আতলেতিকোর মাঠ মেত্রোপলিতানোয় ম্যাচের ১৫ মিনিটের মধ্যে ৩–০ গোলে পিছিয়ে পড়ে টটেনহাম। এই বিপর্যয় থেকে শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। আতলেতিকোর হয়ে জোড়া গোল করেন আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজ।
একটি করে গোল মার্কোস লরেন্তে, আতোয়াঁন গ্রিজমান ও রবিন লে নরমান্দের।
জয়ের পাশাপাশি তিন গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দারুণ খুশি আলভারেজ।
মুভিস্টার প্লাসকে ম্যাচ শেষে আলভারেজ বলেন, ‘জয় আর তিন গোলের লিডে আমি খুব আনন্দিত। কিন্তু এখনো ৯০ মিনিট বাকি। ওরা কিছু ভুল করেছে, আমরা জানতাম সেই সুযোগ কীভাবে নিতে হয়। চাপ তৈরি করে খেলেছি, আর সেটাই আমাদের গোলের সুযোগ এনে দিয়েছে।’
‘সিক্স স্টার’ বায়ার্ন
আতলেতিকোর মতো বড় জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখও। দারুণ ছন্দে থাকা দলটি আতালান্তাকে উড়িয়ে দেয় ৬–১ গোলে। দুর্দান্ত এই জয়ে শিরোপার দাবিটা যেন আরও জোরালো করল বায়ার্ন। এই ম্যাচে খেলেননি বায়ার্নে মূল স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।
যদিও তাতে কোনো সমস্যা হয়নি জার্মান চ্যাম্পিয়নদের। বায়ার্নের হয়ে জোড়া গোল করেন মাইকেল ওলিসে। একটি করে গোল জোসিপ স্টানিসিক, সের্হে নাব্রি, নিকোলাস জ্যাকসন ও জামাল মুসিয়ালার। এ জয়ে বায়ার্নের শেষ আটে যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেল।
ম্যাচ শেষে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি প্রাইম ভিডিওকে বলেন, ‘আমরা ঠিক এমন পারফরম্যান্সই চেয়েছিলাম। ম্যাচজুড়ে আমরা আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনক ছিলাম। আমাদের দলে প্রতিভা ও মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে...তাই ছেলেরা যখন এভাবে খেলতে পারে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’