যদিও ক্ষতিপূরণের অঙ্কের পরিমাণ কত, সেটা বলতে পারেননি জেমি। তবে হোয়াটসঅ্যাপে প্রথম আলোকে তিনি জানান, ‘আমি সঠিক অঙ্কটা বলতে পারছি না। এটা আমার আইনজীবী ভালো বলতে পারবেন।’ জানা গেছে, অঙ্কটা ৮০ লাখ টাকার মতো।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন জেমি। তাঁর অধীন ২৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত বাফুফের সঙ্গে তাঁর চুক্তি ছিল।

জেমির পাওনা টাকা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ জেমি ডে তাঁর বেতন-ভাতা পাওনা ফি নিয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছে আমাদের। কিন্তু আমাদের আইন বিভাগ ফিফার এ সিদ্ধান্তের বিপরীতে আপিল করবে। সেই প্রক্রিয়া নিয়েই আমরা কাজ করছি।’

বাংলাদেশের ফুটবলে কোচের এমন বিদায় অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও লোডভিক ডি ক্রুইফ, রেনে কোস্টার পাওনা চেয়ে ফিফার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাফুফে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতেও বাধ্য হয়েছিল। কোচদের মেয়াদ ফুরানোর আগেই বিদায় এবং পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার অনাগ্রহ যেন বাফুফের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

নেতিবাচক এ সংস্কৃতি দেখে হতাশ সাবেক ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিগত দিনগুলোতেও আমরা এমন বাজে সংস্কৃতি দেখে এসেছি। শুধু বাফুফে নয়, বিভিন্ন ক্লাবও বিদেশি কোচ ও খেলোয়াড়দের নিয়ে একের পর এক এমন কাজ করে চলেছে। যে কারণে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছে আমাদের। আমাদের জন্য এটা খারাপ দৃষ্টান্ত। এখান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।’

ভবিষ্যতে বিদেশি কোচ ও ফুটবলাদের সঙ্গে চুক্তি করার আগে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিলেন আশরাফ উদ্দিন। তাঁর কথা, ‘আসলে আমাদের আরও বুঝেশুনে চুক্তি করা উচিত। কারণ, ফিফা ও এএফসি অনেক কড়া হয়ে গেছে। এসব বিষয়কে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেয় না ওরা। যে কারণে আমরা এ ফাঁদে পড়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া এ-সংক্রান্ত জ্ঞানও অনেক কম আমাদের। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একটাই উপায়—যখনই বিদেশি কোচ ও খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি করা হবে, তখনই যেন বুঝেশুনে সেটা করা হয়।’