ব্যালন ডি’অরে কীভাবে নির্ধারিত হয় বিজয়ী, কারা দেন ভোট
কিলিয়ান এমবাপ্পে বলছেন এবারের ব্যালন ডি’অরটা তাঁর প্রাপ্য। লামিনে ইয়ামাল বলছেন, যেহেতু স্পেন বিশ্বকাপ জিতেছে তাই সোনার গোলক জয়ে তিনিই প্রধান দাবিদার। কে জিতবেন এবারের ব্যালন ডি’অর, পাবেন বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি, সেটি নিয়ে কথা বলছেন সাবেক-বর্তমান আরও অনেক খেলোয়াড়। বর্ষসেরার ট্রফিটি কার হাতে উঠছে, তা নিয়ে সমর্থক ও বিশেষজ্ঞদের জল্পনা-কল্পনারও শেষ নেই।
এদিক দিয়ে এবারের ব্যালন ডি’অরকে অন্য রকম বলাই যায়। কাছেপিঠের সময়ে ব্যালন ডি’অরের আগে এত আলোচনা হয়নি। কারণটা অনুমিতই, বিগত কয়েক বছরের মতো এবার আগেভাগেই কোনো নিশ্চিত ফেবারিট পাওয়া যাচ্ছে না; বরং লড়াইটা হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি।
কিন্তু কীভাবে নির্ধারিত হয় বিজয়ী? কারা দেন ভোট? আর পয়েন্ট সমান হলে নিষ্পত্তিই–বা হয় কীভাবে?
ব্যালন ডি’অর কী?
পুরুষ ও নারী ফুটবলের বর্ষসেরা খেলোয়াড়দের দেওয়া ব্যালন ডি’অরকে একক অর্জনের দিক থেকে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার মনে করা হয়। ১৯৫৬ সাল থেকে ‘ফ্রান্স ফুটবল’ পুরুষ বিভাগে এই পুরস্কার প্রদান করে আসছে। আর নারী ফুটবলারদের জন্য ‘ব্যালন ডি’অর ফেমেনিন’ চালু হয় ২০১৮ সালে। ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে আয়োজন স্থগিত থাকায় ২০২৬ সালেরটি হতে যাচ্ছে ট্রফিটির ৭০তম সংস্করণ।
সেরা বেছে নিতে মূল বিবেচ্য বিষয় কী কী?
ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচারক প্যানেল মূলত তিনটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করেন—
১. ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও পারফরম্যান্স
২. দলের হয়ে সাফল্য এবং অর্জিত শিরোপা
৩. মান ও ‘ফেয়ার প্লে’
মনোনীতদের তালিকা ও মূল্যায়ন সময়কাল
ফ্রান্স ফুটবলের নির্ধারিত ৩০ জন পুরুষ ও ৩০ জন নারী ফুটবলারের সংক্ষিপ্ত মনোনীত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর। ২০২২ সালের পর থেকে নিয়ম পরিবর্তন করে বর্ষপঞ্জির বদলে ইউরোপীয় ফুটবল মৌসুমকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সেই অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পুরস্কারের জন্য ৩ আগস্ট ২০২৫ থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের পারফরম্যান্স বিচার করা হবে। তবে ব্যতিক্রমী ছাড় দেওয়া হয়েছে ১৬ আগস্ট শেষ হওয়া নারী আফ্রিকা কাপ অব নেশনসকে, যা এই মৌসুমের পারফরম্যান্সের সঙ্গেই গণনা করা হবে।
ভোট দেন কারা?
সেরা পুরুষ ও নারী খেলোয়াড় নির্বাচনে রয়েছে বিশেষ সাংবাদিক জুরি বোর্ড। পুরুষ ফুটবলের জন্য ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০টি দেশ থেকে একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত ১০০ জনের সাংবাদিক প্যানেল ভোট দেবেন। নারী ফুটবলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হলেও সেখানে জুরি প্রতিনিধির সংখ্যা ৫০।
ভোট দেওয়ার নিয়ম ও পয়েন্ট বিন্যাস
ভোটাররা ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে ক্রমানুসারে তাঁদের শীর্ষ ১০ জন খেলোয়াড়কে বেছে নেবেন। অবস্থানের ভিত্তিতে ফুটবলারদের পয়েন্ট বণ্টন করা হবে এভাবে—
প্রথম স্থান: ১৫ পয়েন্ট
দ্বিতীয় স্থান: ১২ পয়েন্ট
তৃতীয় স্থান: ১০ পয়েন্ট
চতুর্থ স্থান: ৮ পয়েন্ট
পঞ্চম স্থান: ৭ পয়েন্ট
ষষ্ঠ স্থান: ৫ পয়েন্ট
সপ্তম স্থান: ৪ পয়েন্ট
অষ্টম স্থান: ৩ পয়েন্ট
নবম স্থান: ২ পয়েন্ট
দশম স্থান: ১ পয়েন্ট
সব পয়েন্ট যোগ করার পর সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া ফুটবলারের হাতেই উঠবে বহুল কাঙ্ক্ষিত ব্যালন ডি’অর।
পয়েন্ট সমান হলে নিষ্পত্তি কীভাবে?
দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের মোট পয়েন্ট সমান হলে টাইব্রেকার হিসেবে দেখা হবে কে সবচেয়ে বেশি প্রথম স্থানের (১৫ পয়েন্ট) ভোট পেয়েছেন। তাতেও সমতা না ভাঙলে একইভাবে দেখা হবে দ্বিতীয় স্থানের ভোটের সংখ্যা।