বিশ্বকাপে সম্মান নিশ্চিত করতে ফিফা সভাপতির সঙ্গে বৈঠকে বসবে ইরান
২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান যেন যথাযথ সম্মান পায়, সে বিষয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠক করবেন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) প্রধান মেহদি তাজ। গতকাল বুধবার তিনি জানান, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
আগামী ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। এবার আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। গত সপ্তাহে মেহদি তাজকে নিজেদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি কানাডা। ইরান সরকারের প্রভাবশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাঁকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি বলে জানায় কানাডা।
গত মঙ্গলবার মেহদি তাজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যদি ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান জানানোর নিশ্চয়তা ফিফা দিতে না পারে, তবে তাঁর দেশ বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। টুর্নামেন্ট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবে ইরান ফুটবল দল। সেখানেই গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ খেলবে তারা।
তেহরানে গতকাল ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে মেহদি তাজ বলেন, ‘আমরা ফিফাকে আমাদের প্রত্যাশার কথা জানাব। তারা যদি সেসব পূরণ করতে পারে, তবে আমরা অবশ্যই (বিশ্বকাপে) অংশ নেব।’
মেহদি তাজ আরও বলেন, ‘কিন্তু যদি আমাদের দাবিগুলো পূরণের কোনো নিশ্চয়তা না থাকে, তবে আমাদের বা আমাদের রাষ্ট্রীয় স্তম্ভগুলোকে অপমান করার অধিকার কারও নেই। এরপরও যদি অসম্মানজনক আচরণ চলতেই থাকে এবং আমাদের খেলোয়াড়দের (রাজনৈতিক) এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়, তবে আমরা ভিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে দেশ দুটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে তারা নিজ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেবে না।
মেহদি তাজ ফুটবল প্রশাসনে আসার আগে ইসফাহান প্রদেশে আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যে যুদ্ধ (সাময়িকভাবে স্থগিত) চলছে, তাতে আইআরজিসি সামনের কাতারে আছে। মেহদি তাজের এ অবস্থানের প্রতি গতকাল সমর্থন জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি।
তেহরানে সাংবাদিকদের বাঘায়ি বলেন, ‘দেখুন, আমাদের জাতীয় ফুটবল দল কেবল যুক্তরাষ্ট্রে “ভ্রমণ” করতে যাচ্ছে না, বরং আমরা সেখানে ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছি।’ বাঘায়ি আরও বলেন, ‘তাই প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা ও পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব ফিফার। এ ছাড়া আয়োজক দেশগুলোরও ফিফার নিয়মের অধীন খুব স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা রয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনা বা উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা দিতে হবে।’
ক্যালিফোর্নিয়ায় সোফি স্টেডিয়ামে ‘জি’ গ্রুপ থেকে আগামী ১৫ জুন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ইরান। একই ভেন্যুতে ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে তারা।