কলকাতার গ্যালারি মাতিয়ে ব্রাজিলের ৪ গোলের আনন্দ
ভারত ০ : ৪ ব্রাজিল
ভারতের দর্শকেরা তিনটি সময়ে বেশ উল্লসিত হয়ে উঠছিলেন—ভারতের ইন্টারসেপশনে, ভারতের কোনো ফরোয়ার্ড পাসে, আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বলে যেকোনো ধরনের ছোঁয়ায়।
যে ম্যাচে জেতা–হারার চেয়েও বড় হয়ে ওঠে স্রেফ খেলা দেখা, খেলতে দেখা—সেখানে এমন কিছুই তো হওয়ার কথা। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল খেলছে চোখের সামনে, সময়ের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড ছুটছেন বল পায়ে—ভারতের মাটিতে এমন কিছু যে এই প্রথম! কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের গ্যালারিতে হাজির হওয়া দর্শক তাই মুগ্ধতায় খেলাটাই উপভোগ করে গেলেন।
ম্যাচে যে দলের জেতার কথা, জিতেছে সেই ব্রাজিলই। ব্যবধান ৪–০।
শুরু থেকেই ব্রাজিলের আক্রমণের অন্যতম কেন্দ্র ছিলেন ভিনিসিয়ুস। ৯ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে তাঁর শট ঠেকান ভারতের গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং। এর আগে-পরে ভারতের ডিফেন্ডাররা বেশ কয়েকবার ব্রাজিলের আক্রমণ ঠেকিয়েছেন।
ভিনিসিয়ুসকে অফসাইডে আটকে রাখার ঘটনাও ছিল একাধিক। তবে এ সব করেও পুরো আধা ঘণ্টা ব্রাজিলকে আটকে রাখা যায়নি।
২৮ মিনিটে এস্তেভাওয়ের ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে জোরালো শট ভারতীয় গোলকিপারের হাতে লেগেও পথ বদলায়নি, বল যায় জালে।
৩৬ মিনিটে এস্তেভাওয়ের ক্রসে পেদ্রোর হেড পোস্টে লাগে। ৪২ মিনিটে সেই পেদ্রোই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
সর্বশেষ ম্যাচের একাদশ থেকে শুরুতে আট পরিবর্তন এনেছিলেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে শুরুতে বদলি করেন চারজনকে। এর মধ্যে ভিনিসিয়ুসের জায়গায় নামানো হয় স্যামুয়েল লিনোকে।
ফ্ল্যামেঙ্গোতে খেলা এই লিনোই করেছেন দ্বিতীয়ার্ধের দুটি গোল। ভারতের নিজেদের অর্ধে বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান ৩–০ করেন ৫৮ মিনিটে। দ্বিতীয়টি যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে।
বাঁ দিক থেকে মাউরো জুনিয়রের পাস পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে ডান পায়ে জায়গা বানিয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান লিনো। তাঁর গোলের উদ্যাপনের মধ্যেই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।
আর শেষ বাঁশির পর ভারতীয় খেলোয়াড়েরা ব্রাজিলিয়ানদের সঙ্গে, বিশেষ করে ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে ছবি তুলতে শুরু করেন। ফলের হিসাবটা তখন অগুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় খেলোয়াড়দের কাছে মুহূর্তটি হয়ে ওঠে ব্রাজিলের তারকাদের কাছ থেকে স্মৃতি জমিয়ে রাখার।