কভেন্ট্রিকে প্রিমিয়ার লিগে তোলা ল্যাম্পার্ড কি আবার চেলসির কোচ হবেন
ঘর পোড়া গরু যেমন সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়, ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের অবস্থাও কি অনেকটা তেমনই? একবার নয়, দুই-দুইবার চেলসির ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন। কোনোবারই ভালো সময় কাটাতে পারেননি।
এমনিতে চেলসি তাঁর কাছে ঘরবাড়ির মতো, হৃৎস্পন্দনের মতো। কিন্তু স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে প্রধান কোচের পদ থেকে লিয়াম রোজেনিওর বিদায়ের পর যখন আবার তাঁর নামটা হাওয়ায় ভাসছে, তখন ল্যাম্পার্ড যেন বেশ সতর্ক। মায়ার টানে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং পেশাদারত্বের নিরেট চাদরে নিজেকে ঢেকে রাখতে চাইছেন কভেন্ট্রি সিটির এই ‘প্রমোশন হিরো’।
প্রিমিয়ার লিগে এই মৌসুমে চেলসি বেশ বাজে সময় কাটাচ্ছে। সর্বশেষ টানা পাঁচ ম্যাচে গোল নেই, পয়েন্ট টেবিলে ধুঁকতে ধুঁকতে অবস্থান এখন আটে। যাঁর অধীনে মৌসুমটা শুরু করেছিল চেলসি, সেই এনজো মারেসকাকে জানুয়ারিতে ছাঁটাই করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রোজেনিওকে। কিন্তু ২৩ ম্যাচে ১১ জয় ২ ড্র আর ১০ হারের পর ২২ এপ্রিল তাঁকেও বিদায় বলে দিয়েছে চেলসি ম্যানেজমেন্ট।
এখন নতুন কোচ খুঁজছে ক্লাব, আর খোঁজখবরের মধ্যেই ল্যাম্পার্ডের নামটা শোনা যাচ্ছে জোরেশোরে। তবে চেলসির এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ওসব গুঞ্জনে কান দিচ্ছেন না। তিনি ব্যস্ত নিজের সাফল্য উদ্যাপনে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে কভেন্ট্রির দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর ৮০ ম্যাচে ৪৪ জয়। ফলাফল? চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতে কভেন্ট্রি এখন প্রিমিয়ার লিগে। আজ রেক্সহামের বিপক্ষে ম্যাচ, এরপরই ট্রফি উৎসব। এমন রাজকীয় মুহূর্তে চেলসির ভাঙাচোরা সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব কি খুব বেশি আকর্ষণীয় শোনায়?
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে যখন চেলসি প্রসঙ্গ এল, ৪৭ বছর বয়সী ল্যাম্পার্ড যেন একটু রক্ষণাত্মকই খেললেন। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি এখন শুধুই কভেন্ট্রির। রোজেনিওর বরখাস্ত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ল্যাম্পার্ড বলেন, ‘লিয়াম বা চেলসি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। ডাগআউটে বসার অভিজ্ঞতা আমার আছে, তাই পর্দার আড়ালের গল্প না জেনে বিচার করাটা অসম্মানজনক। ওটা না হয় পণ্ডিতদের জন্যই তোলা থাক। আমি এখন কভেন্ট্রির কোচ, শিরোপা জেতা আর প্রিমিয়ার লিগে ওঠাটাই আমি দারুণ উপভোগ করছি।’
চেলসির বর্তমান দুর্দশা নিয়ে ল্যাম্পার্ডের কণ্ঠে ঝরল খানিকটা সহানুভূতিও, ‘নিঃসন্দেহে ওরা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কোচ হিসেবে আমরা জানি, এমন সময়ে ফলাফল কী হতে পারে। চেলসি আমার জীবনের বড় একটা অংশ, কিন্তু এখন ওটা ওদের ব্যাপার। আমার সবটুকুজুড়ে এখন শুধু কভেন্ট্রি।’
২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও ল্যাম্পার্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন থামছে না। বিশেষ করে কভেন্ট্রির সমর্থকেরা কিছুটা উদ্বিগ্ন—লন্ডনের আভিজাত্য যদি শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় তাদের কোচকে! ল্যাম্পার্ড অবশ্য সমর্থকদের শুধু বর্তমান মুহূর্তটা উপভোগ করতে বলছেন, ‘ম্যানেজমেন্টের দুনিয়ায় অনেক কিছুই আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। আমি চাইব, কভেন্ট্রির সমর্থকেরা এই বিশেষ বছরটার আনন্দটুকু পুরোপুরি উপভোগ করুক। আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, আমি শুধু নিজের কাজটা করে যেতে চাই।’
আজ কভেন্ট্রির মাঠ সিবিএস অ্যারেনায় বসবে উৎসবের মেলা। রেক্সহামের বিপক্ষে ম্যাচের পর ল্যাম্পার্ডের হাতে উঠবে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি। এরপর শুরু হবে প্রিমিয়ার লিগের জন্য দল গোছানোর লড়াই। অন্যদিকে চেলসি আপাতত অন্তর্বর্তী কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেনের কাঁধে ভর করে মৌসুমের বাকি কটা দিন পার করতে চাইছে। লক্ষ্য—যদি এফএ কাপে অন্তত মান বাঁচানো যায়! যেখানে সেমিফাইনালে চেলসির প্রতিপক্ষ লিডস ইউনাইটেড।