চ্যাম্পিয়নস লিগটা তাঁর কাছে একটা স্বপ্নের মতো ব্যাপার। এটা নিয়ে যেন ঘোরের মধ্যে থাকেন আর্লিং হলান্ড। এতটাই যে গত বছর একবার বলেছিলেন, তাঁর মুঠোফোনের রিংটোন হিসেবেও নাকি চ্যাম্পিয়নস লিগের ‘থিম সং’ দেওয়া। সেই হলান্ড চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে জানপ্রাণ দিয়ে দেবেন, এটাই তো স্বাভাবিক।

এত দিন অবশ্য সেই সুযোগও ছিল না। পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল নরওয়ের ক্লাব ব্রাইনের হয়ে, তারপর গেলেন মলডেতে। এই দুই ক্লাবের হয়ে তো আর চ্যাম্পিয়ন লিগ জেতার আশা করা যায় না। চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে জায়গা পাওয়াই এই দুই ক্লাবের জন্য স্বপ্নের মতো ব্যাপার। তারপর ২০১৯ সালে মলডে থেকে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে।

আরও পড়ুন

চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের আগে যা জেনে নেওয়া ভালো

ডর্টমুন্ড নিয়মিতই চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলে, ১৯৯৭ সালে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। ২০১৩ সালে হয়েছে রানার্সআপ। কিন্তু হলান্ড যাওয়ার পর তিন মৌসুমে ডর্টমুন্ড কখনো কোয়ার্টার ফাইনালই পেরোতে পারেনি। হলান্ড অবশ্য গোলের পর গোল করে গেছেন। ডর্টমুন্ডের হয়ে তাঁর ৮৯ ম্যাচে ৮৬ গোল, এর মধ্যে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ১৩ ম্যাচে ১৫ গোল। তাতেও লাভ হয়নি কিছু। একটা জার্মান কাপ ছাড়া ডর্টমুন্ডের হয়ে তাঁর আর জেতা হয়নি কিছুই।

ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলার সঙ্গে আর্লিং হলান্ড
রয়টার্স

সেই হলান্ড গত বছর মে মাসে যোগ দিলেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের সামনে এল দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের বিশাল এক সুযোগ। ম্যানচেস্টার সিটিও অবশ্য তাঁর মতো একজনকেই খুঁজছিল। পেপ গার্দিওলার অধীনে এই দলটা গত সাত বছরে ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব শিরোপাই জিতেছে, জেতা হয়নি শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ। বার্সেলোনা ছেড়ে যাওয়ার পর গার্দিওলা যেন কিছুতেই আর চ্যাম্পিয়নস লিগ ধাঁধা মেলাতে পারছিলেন না। গোলের পর গোল করে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়তে থাকা হলান্ডের মধ্যেই কি আছে সেই ধাঁধার উত্তর? আপাতত সেটাই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

কৌশলের লড়াইয়ে গার্দিওলাকে কি হারাতে পারবেন ইনজাগি

হলান্ড নিজেও এমনটাই ভাবেন। যেভাবেই হোক তাঁর সিটিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে হবে। নিজের মধ্যে এ নিয়ে একটা চাপও অনুভব করেন সিটি স্ট্রাইকার, ‘যদি বলি কোনো চাপ নেই, তাহলে মিথ্যা বলা হবে। অবশ্যই চাপ আছে। ওরা (সিটি) আমাকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততেই এনেছে।’

আর্লিং হলান্ড
রয়টার্স


সিটির স্বপ্নপূরণ হলেই হবে হলান্ডেরও স্বপ্নপূরণ। আর হলান্ড এগোচ্ছেন সেই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যেই, ‘সিটি আমাকে ছাড়াই প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে, ওরা (চ্যাম্পিয়নস লিগ ছাড়া) সবই জিতেছে আমাকে ছাড়া। সুতরাং আমি এখানে এসেছি সেটা করতে, যা ওরা আগে করতে পারেনি এবং আমি সব চেষ্টাই করব।’

আরও পড়ুন

ক্যানসার করেছি জয়, হলান্ডকে কিসের ভয়

সিটির হয়ে এরই মধ্যে সব প্রতিযোগিতা মিলে ৫২ ম্যাচে ৫২ গোল হয়ে গেছে তাঁর। প্রিমিয়ার লিগের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন, জিতেছেন গোল্ডেন বুটও। এই যে এত এত গোল করছেন, রেকর্ডের পর রেকর্ড ভেঙে যাচ্ছেন, তারপরও কিছুটা আক্ষেপ আছে তাঁর, ‘আমি এত গোল করব, এটা আশা করিনি। আবার একই সঙ্গে আমি অনেক সুযোগ নষ্টও করছি। আমি আরও বেশি গোল করতে পারতাম। এটাই সত্যি।’

আপনি এটাকে দুইভাবে দেখতে পারেন। ভাবতে পারেন যে আমি সর্বশেষ ৭ ম্যাচে মাত্র ১টা গোল করেছি। অথবা মনে করে দেখতে পারেন যে আমি ৫২ ম্যাচে ৫২ গোল করেছি। ওহ, হ্যাঁ, সঙ্গে ৮টা অ্যাসিস্টও আছে
আর্লিং হলান্ড


এত এত গোল করেছেন যে এখন হলান্ড কয়েক ম্যাচে গোল না পেলেই মনে হয় যেন ফর্মে ভাটা চলছে তাঁর। এই যেমন সর্বশেষ ৭ ম্যাচে মাত্র একটা গোল তাঁর। গোল পাননি রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দুই লেগেই, প্রিমিয়ার লিগেও নিজের সর্বশেষ দুই ম্যাচে গোল নেই তাঁর। হলান্ড অবশ্য এটাকে গোলখরা বলতে রাজি নন, ‘আপনি এটাকে দুইভাবে দেখতে পারেন। ভাবতে পারেন যে আমি সর্বশেষ ৭ ম্যাচে মাত্র ১টা গোল করেছি। অথবা মনে করে দেখতে পারেন যে আমি ৫২ ম্যাচে ৫২ গোল করেছি। ওহ, হ্যাঁ, সঙ্গে ৮টা অ্যাসিস্টও আছে।’

আরও পড়ুন

চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিয়ে যে তথ্যগুলো আপনি হয়তো জানেন না


গার্দিওলা অবশ্য তাঁর স্ট্রাইকারকে নিয়ে দারুণ খুশি। ইদানীং আরও বেশি, কারণ এখন শুধু গোল করার দিকে বেশি মনোযোগী না থেকে হলান্ড গোল করানোর দিকেও ঝুঁকেছেন। মাঠের খেলাতে আরও বেশি অংশ নিচ্ছেন। গার্দিওলা তো এটাই চান।
আর গোল? কে জানে, সেগুলো আজ ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ফাইনালের জন্যই জমিয়ে রেখেছেন কি না!