কী কাকতাল! সে বছরই সেন্ট ক্লেয়ারকে টেলিভশনের ‘পেট্রন সেন্ট’ ঘোষণা করা হয়। আর সে বছরই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ প্রথমবারের মতো সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। ব্রাজিলের খেলা দেখে লন্ডনের ‘ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস’ লিখেছিল, ‘এই জিনিস দেখার পর আপনাকে চোখ ডলে আবার তাকিয়ে দেখতে হবে, নচেৎ বিশ্বাস হবে না যে এটা এই দুনিয়ার কিছু!’

১৯৫৮ সালে সুইডেন বিশ্বকাপ দিয়ে তৈরি হয়েছিল ব্রাজিলের সুন্দর ফুটবলের রূপরেখা। ক্রমে পাল্টে যাওয়ার এই দুনিয়ায় সেই সুন্দর ফুটবলকে এখনো চোখে মেখে আছেন অগণিত সব দর্শক। আর প্রতিটি বিশ্বকাপেই ‘জোগো বনিতো’ দেখার লোভটা জাগিয়ে তোলার দায় পেলে-গারিঞ্চা, দিদি-ভাভার সেই ব্রাজিলের।

সুন্দর ফুটবল:

সেবারই টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপে বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়। ৮ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত ১২টি ভেন্যুতে ১৬ দলের মোট ৩৫টি ম্যাচ ছিল। স্বাগতিক সুইডেন ও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পশ্চিম জার্মানি সরাসরি খেলার সুযোগ পায়। বাকি ১৪ দলের ৯টি ইউরোপের, ৩টি দক্ষিণ আমেরিকার এবং উত্তর–মধ্য আমেরিকা ও এশিয়া–আফ্রিকা থেকে ১টি করে দল অংশ নেয়।

প্রথম দিনের খেলাতেই সবাই বুঝে নিয়েছিলেন, নতুন যুগের ফুটবলটা দুর্দান্ত হতে যাচ্ছে! পশ্চিম জার্মানি আর্জেন্টিনাকে হারায় ৩-১ গোলে, আর তাতে ২ গোল দেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক, জার্মান ফুটবলের ‘দ্য বস’ হেলমুট রাহন। ১ গোল দেওয়া তরুণ উয়ে সিলার যে অচিরেই জার্মান কিংবদন্তি হতে চলেছেন, সেই আলামতও স্পষ্ট ছিল।

তবে শুধু আলামত নয়, রূপকথাও ছিল। সেই রূপকথার জন্ম হলো ‘বি’ গ্রুপে। জুস্ত ফন্টেইন নামের মরক্কোতে জন্ম নেওয়া এক ফরাসি করলেন হ্যাটট্রিক। প্যারাগুয়ে হারল ৭-৩ গোলে। এরপর প্রতিটি ম্যাচে শুধু তাঁর গোল করার গল্প, ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ঠিকই, তবে ফন্টেইন মাত্র ৬ ম্যাচে ১৩ গোল করে কিংবদন্তি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এক টুর্নামেন্টে এত গোল আর কেউ করতে পারেনি।

ফন্টেইন বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্লিশে হয়ে যাওয়া ‘গোল মেশিন’ খেতাবটির সত্যিকারের দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হলেও তাঁর সতীর্থ রেমন্ড কোপাও কিংবদন্তি। সে বছর ব্যালন ডি’অর জেতা কোপা খেলতেন টানা পাঁচবার ইউরোপিয়ান কাপজয়ী রিয়াল মাদ্রিদে। কোপাকে বলা হতো ‘নেপোলিয়ন অব সকার’। কারণ, নেপোলিয়নের মতোই খর্বকায় হয়েও গোটা মাঠ দখলে রাখতেন। ধারাভাষ্যকারেরা তাঁর খেলার বিবরণ দিতেন লাতিন নৃত্যের উপমায়। অথচ পোলিশ অভিবাসীর সন্তান কোপার শৈশব কেটেছে কয়লাখনির মজুর হিসেবে।

ব্রাজিলের কাছে গ্রুপ ‘ডি’র প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে হারে অস্ট্রিয়া। এই ৩ গোলের একটি ছিল নিল্টন স্যান্টোসের। ফুটবল নিয়ে বিস্তর জানাশোনার জন্য ব্রাজিলে এই কিংবদন্তি লেফটব্যাককে সবাই ডাকতেন ‘এনসাইক্লোপিডিয়া’ নামে। আর সত্যিকারের জ্ঞানীরাই পুরোনো ধ্যানধারণা ভেঙে নতুন কিছু তৈরি করতে পারেন। নিল্টন স্যান্টোস এর প্রমাণ দিলেন সেই বিশ্বকাপে।

ডিফেন্ডারের তথাকথিত ‘স্থবির’ খেলা বাদ দিয়ে ম্যাচের ৫০ মিনিটের মাথায় তিনি বল পায়ে দৌড় দেন, দুজন প্রতিপক্ষকে কাটালেন তবু দৌড় থামেনি, কাউকে পাসও দেননি! ওদিকে ডাগআউটে ব্রাজিলের কোচ ভিসেন্তে ফিওলা ঘেমেনেয়ে হয়রান! দৌড়াতে থাকা স্যান্টোসকে ‘নিজের জায়গা’ ডিফেন্সে ফিরে যেতে তাগাদা দেন। নিল্টনের এই কথা শুনতে যেন বয়েই গেছে!

সতীর্থ কাউকে পাস দেওয়ার তোয়াক্কা না করে ডিফেন্ডার ও গোলকিপারকে কাটিয়ে বলটাকে জালে পাঠিয়ে তবেই নিজের জায়গায় ফিরে আসেন নিল্টন স্যান্টোস। ফেরার পথে ফিওলার দিকে চোখ টিপে কিছু একটা বলেছিলেন রাইটব্যাক দালমা স্যান্টোসের ভাই নিল্টন। ‘ওস্তাদ, কিছু বলেছিলেন? কান পর্যন্ত আসেনি’—এমন কিছু হবে হয়তো!

নিল্টন তা–ও ডিফেন্ডার ছিলেন, একটু–আধটু ওপরে উঠতে পারতেন। আমাদেও কারিজো ছিলেন গোলকিপার! তবু এই আর্জেন্টাইন হুটহাট ওপরে উঠে যেতেন। এমনকি বিপক্ষ খেলোয়াড়দের ড্রিবল করে নিজের দলের হয়ে গোলও দিতেন! কিন্ত হায়! দর্শকদের আনন্দ দিয়েও কারিজো দেশে ফিরে হয়ে গেলেন ‘বলির পাঁঠা’—আর্জেন্টিনা যে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ৬-১ গোলে হেরেছিল যুগোস্লাভিয়ার কাছে।

আর্জেন্টিনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের জন্য সেটি ছিল নতুন এক যুগের সূচনা। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল নিয়ে লিখতে গিয়ে অনেকেই দেশটির খেলোয়াড়দের বস্তিতে বেড়ে ওঠা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই নিয়ে দিস্তা দিস্তা কাব্য রচনা করেছেন। কিন্তু ফুটবলের সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, এসব কাব্য দিয়ে সাফল্য আসেনি। ব্রাজিলের সাফল্যের পেছনে দরিদ্র ও বঞ্চিতদের পেটের ক্ষুধা আর জয়ের বাসনা ছিল বটে, তবে এর জন্য দরকার পড়েছিল উপযুক্ত কাঠামো।

আর তাই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের গল্প শোনার আগে সেই কাঠামো সম্বন্ধে জেনে নেওয়া জরুরি—

১৯৫৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের খেলোয়াড়দের মেডিকেল চেক আপে ৩০০–এর বেশি দাঁত তুলে ফেলতে হয়। অথচ বেশ কিছু খেলোয়াড় তার আগে জীবনে কখনো দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাননি। আরও কিছু জটিল রোগ ধরা পড়ে খেলোয়াড়দের। পুষ্টিহীনতা ছিল, কারও কারও অন্ত্রেও সমস্যা ছিল, সিফিলিস ও রক্তশূন্যতার মতো রোগেও ভুগছিলেন কেউ কেউ। এসব রোগের পেছনের কারণ ছিল দরিদ্রতা। বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। নানা বর্ণের, নানা জাতের খেলোয়াড়দের নিয়ে সম্মিলিত একটা দল গড়েছিল ব্রাজিল। তাঁদের জাদুকরি সাম্বা তালের ফুটবল খেলার পেছনে আধুনিক চিকিৎসা ও নিয়মানুবর্তিতারও যথেষ্ট ভূমিকা ছিল।

গল্পটার শুরু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে। ব্রাজিলসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলো ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহ দেয়। এর প্রভাবে কর্মসংস্থান ও বেতনের প্রবৃদ্ধি হয়। ফলে শ্রমিকশ্রেণির জীবনমানে কিছুটা উন্নতি এবং ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যও প্রসারিত হয় এবং তৈরি হয় এক নতুন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এসবের প্রভাব পড়ে ফুটবলেও। হাতে টাকাপয়সা আসায় দরিদ্র আর মধ্যবিত্তরা মাঠে জড়ো হন বিনোদনের আশায়, সেই সুযোগকে ব্যবসায়িকভাবে কাজে লাগাতে বিনিয়োগ করা হয় ফুটবলে।

প্রায় এক শতক আগে ইংল্যান্ডে যেমনটা দেখা গিয়েছিল, তেমনি ব্রাজিলেও সে সময় গ্রাম থেকে শহরে শ্রমিকদের ঢল নামে। তারা কেবল যে ক্লাবের মাধ্যমে নিজেদের নতুন আত্মপরিচয় খোঁজার চেষ্টা করেছে তা–ই নয়, ক্লাবকেন্দ্রিক যে সম্প্রদায় ও সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তারও অংশীদার হয়ে যায়।

চারটি বড় বিষয় ব্রাজিলের ফুটবলকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। এক, দেশের অর্থনীতির চাকা গতিশীল হওয়ায় ফুটবলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়, তাতে আকৃষ্ট হয় সমাজের গরিবশ্রেণি থেকে উঠে আসা মেধাবীরা। দুই, বর্ণবাদের অনেকাংশে বিলোপ এবং ব্রাজিলীয় জাতিসত্তার বিকাশ ঘটে, যার ফলে আফ্রো-ব্রাজিলীয়, মেসটিজো এবং ইন্ডিয়ানদের থেকে আসা বিপুল পরিমাণ দরিদ্র মেধাবীরা ফুটবলকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ পায়। তিন, শহুরে সুশীল সমাজের উত্থান, যারা ফুটবলের সংস্কৃতিকে সুরক্ষা ও বিকাশে সহায়তা করত। অনেকটা রেড ভিয়েনার ‘ক্যাফে কালচারের’ মতো। চতুর্থত, সে সময় রেডিওসহ গণযোগাযোগের মাধ্যমের দারুণ বিকাশ ঘটে, যা ফুটবলকে এক গণ-আকাঙ্ক্ষার ও সামষ্টিক কল্পনার কেন্দ্র করে তুলেছিল।

’৫৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের যে দলটাকে পাঠানো হয়, তার পেছনে ছিল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। দল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, বহু আগেই তাঁরা সুইডেনে গিয়ে সব দেখে আসেন। পরিকল্পনাটা এমনভাবে করেন যেন দলের খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপের সময় সবচেয়ে কম ভ্রমণ করতে হয়, আরামদায়ক আবাসন ও যথেষ্ট প্রস্তুতির সুযোগ মেলে। শুধু তা–ই নয়, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের খাবারের চার্ট, পারিবারিক ও যৌনজীবন, স্বাস্থ্যবিধি, অনুশীলনের যাবতীয় বিষয়ে কড়া নজর রাখা হয়।

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল:

টুর্নামেন্টে দারুণ ফর্মে থাকা ব্রাজিল ও ফ্রান্সের সেমিফাইনাল ম্যাচকে ধরা হচ্ছিল ‘আসল’ ফাইনাল হিসেবে। সবার আশা ছিল, এটি হবে টুর্নামেন্টের সেরা ম্যাচ। হলোও তা–ই! ভাভা দুই মিনিটে গোল দিলেও ফন্টেইন ৯ মিনিটে তা শোধ করেন। দিদির ৩৯ মিনিটের গোলে ব্রাজিল আবার এগিয়ে যায়। এরপর শুধুই ‘পেলে’ শো। তখনো প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পেলে ফরাসিদের চোখের জল নাকের জল এক করে হ্যাটট্রিক করে বসেন! শেষ দিকে ফ্রান্স ১টি গোল দিয়ে শুধু হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। ৫-২ গোলের জয়ে ফাইনালে ওঠে ব্রাজিল।

একই ফল দেখা গেল ফাইনালেও। আজ পর্যন্ত বিশ্বকাপের কোনো ফাইনালে এটাই সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড। সুইডেনের অধিনায়ক এরিক লিডহোম চার মিনিটের মাথায় গোল করে স্বাগতিকদের আনন্দে ভাসালেও ভাভা ও পেলের জোড়া গোল আর জাগালোর ১ গোলে অধরা বিশ্বকাপ জিতে ’৫০–এর দুঃস্বপ্ন কিছুটা হলেও ভুলতে শুরু করে ব্রাজিল।

ফাইনালের শেষ দিকে সুইডিশরা নিজেদের দল বাদ দিয়ে ব্রাজিলকে সমর্থন করেন। কেউ কেউ বলেন, পেলে-গারিঞ্চা যুগলবন্দীতে সবাই হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। সেই যুগল পরিবেশনা এতটাই মনোমুগ্ধকর ছিল যে প্রতিপক্ষ শুধু হারেনি, ইতিহাসেও দুই কিংবদন্তির নাম চিরস্থায়ীভাবে লেখা হয়ে যায়।

শেষ বাঁশি বাজার পর পেলেকে নিয়ে সবাই উচ্ছ্বাস করতে থাকেন, তখন তাঁর চোখে আনন্দাশ্রু ও দেহে শ্রান্তি ভর করলেও তা যেন উবে গিয়েছিল বিহঙ্গের মতো উল্লাসে। আনন্দের বন্যায় ব্রাজিল দল দর্শকদের অভিবাদন জানাতে গিয়ে খেয়াল করল না, ল্যাপ অব অনারের সময় খেলোয়াড়দের হাতে সুইডেনের পতাকা! আর এসব দেখে সুইডিশ রাজা গুস্তাভ মাঠে নেমে এসে মিশে গেলেন পেলেদের উল্লাসের ভিড়ে। ওই দলটাই যেন তখন সুইডেনের প্রকৃত ‘রাজা’!

বিশেষজ্ঞদের মতে ব্রাজিলের এই দলের সেরা পারফরমার ছিলেন দিদি। আফ্রিকান দাসের বংশধর, সুঠামদেহী, লম্বা ঘাড়ের লোকটি ছিলেন ব্রাজিলের মাঝমাঠের স্তম্ভ। দিদির ডিফেন্সচেরা পাসগুলো গোলে পরিণত করতেন পেলে-ভাভারা। তবে শুধু গোল দেওয়াই নয়, নতুন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিদি আবিষ্কার করেন ‘ঝরাপাতা’ শট। ব্রাজিলের নিজস্ব এই শিল্প আজও দুনিয়াকে বিমোহিত করে। দিদির পা থেকে বলটা ঘুরতে ঘুরতে শূন্যে উঠে দিক পরিবর্তন করে ঝুপ করে ঝরাপাতার মতো গোলপোস্টের এমন জায়গায় গিয়ে পড়ত, যেখানে বলটাকে গোলকিপার আশা করেননি।

বল যেন দিদির সব কথা বুঝত! আসলে বল তো দিদির প্রেমিকা! এক সাক্ষাৎকারে দিদি নিজের এই ‘প্রেমিকা’কে নিয়ে বলেছিলেন, ‘ওকে যদি আপনি আদর না করেন, ও আপনার কথা শুনবে না। ও যখন আমার কাছে আসবে, আমি তখন এগিয়ে যাব আর আমি বললেই ও আমার কথা শুনবে। ও যখন অন্যদিকে যেতে চাইবে আমি ওকে বলব, সোনামানিক, এদিকে এসো আর ওকে আমার দিকে নিয়ে আসব। আমি ওর যত্ন করব আর ও আমার কথা শুনবে। আমি ওকে ততটাই ভালোবাসি, যতটা বাসি আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে। ওকে আমি ভালোবাসি; কারণ, ও হলো “আগুন”। ওর সঙ্গে যদি তুমি খারাপ আচরণ করো, ও তোমার পা ভেঙে দেবে। এ জন্যই আমি বলি, ছেলেরা, ওকে শ্রদ্ধা করো। ও এমন একটা মেয়ে, যাকে আদরে ভরিয়ে দিতে হবে। ওর শরীরে তুমি ভালোবাসার স্পর্শ দিলেই না এক দুর্দান্ত ভালোবাসার গল্প তৈরি হবে।’

দিদির এই কথা অক্ষরে অক্ষরে মানতেন তাঁর সতীর্থ গারিঞ্চা আর পেলে।

পেলে-গারিঞ্চার গল্প সামনেও করা যাবে। দিগ্‌বিজয়ী সেই ব্রাজিল দলটির গল্প শেষ হোক দিদির ভালোবাসার বলটির কী গতি হয়েছিল, সেই কথা জানিয়ে।

ফাইনালের বলটি ব্রাজিল দল উপহার দিয়েছিল মারিও আমেরিকোকে।

পাহাড়ের মতো দেখতে, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এই লোকটি ছিলেন এই দলের ম্যাসাজম্যান। পরম যত্নে তিনি পেলে-গারিঞ্চাদের খেলা শেষে ম্যাসাজ করে দিতেন। এমনকি মাঠে কেউ আহত হলে নিজের দানবীয় কাঁধে তুলে মাঠ থেকে বেরও করে আনতেন। শুধু খেলে জয় করা নয়, এই মানুষটিকে নিজেদের ভালোবাসার ‘প্রতীক’ উপহার দিয়ে ব্রাজিল দল বুঝিয়ে দিয়েছিল, সব অর্জনের পেছনেই থাকে ভালোবাসা ও শ্রম। অন্তরালের এসব মানুষের ভালোবাসা ও শ্রমেই গড়ে ওঠে একেকটি বিজয়ের সৌধ।

সেসব সৌধের একেকটি মানুষেরও গল্প।