কেইন-এমবাপ্পে-হলান্ড: সোনার জুতোর লড়াইয়ে কে এগিয়ে
২০০৭–০৮ থেকে ২০১৮–১৯। এই ১২ মৌসুমে একবারই শুধু ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জয়ীদের তালিকায় নাম ছিল না লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মধ্যে কারও। ২০০৮–০৯ মৌসুমে পুরস্কারটি জিতেছিলেন দিয়েগো ফোরলান, ২০১৩–১৪ মৌসুমে রোনালদোর সঙ্গে যৌথভাবে জিতেছেন লুইস সুয়ারেজ।
২০২২–২৩ মৌসুম থেকে লড়াইটা হয়ে গেছে ত্রিমুখী—আর্লিং হলান্ড, হ্যারি কেইন ও কিলিয়ান এমবাপ্পের। সর্বশেষ তিন মৌসুমে এ তিনজন একবার করে জিতেছেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু পুরস্কার। এ মৌসুমেও গোল্ডেন শুর লড়াইটা এ তিনজনেরই। যাঁর যাঁর লিগের শীর্ষ গোলদাতাও তাঁরা। শুধু এটাই নয়, তিনজন এগোচ্ছেন গা ঘেঁষাঘেঁষি করে!
তিনজনের মধ্যে কে এগিয়ে, কার সুযোগ বেশি, সেটা জানার আগে চলুন জেনে নেওয়া যাক ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু কী। প্রতি মৌসুমে ইউরোপের প্রতিটি দেশের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি গোল করেন, তাঁকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয় এই ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু।
এমনিতে ইউরোপের সব লিগই আলাদা করে মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে গোল্ডেন বুট পুরস্কার দেয়। তবে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু তাঁকেই দেওয়া হয়, যিনি পুরো ইউরোপে সব লিগ মিলিয়ে গোলের জন্য সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পান। পয়েন্ট হিসাব করা হয় গোলসংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট লিগের মানের ওপর ভিত্তি করে।
এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার কেইন ২১ গোল নিয়ে বুন্দেসলিগার শীর্ষ গোলদাতা। ইংলিশ এই স্ট্রাইকারের ধারেকাছেই নেই আর কেউ। ১০ গোল নিয়ে বুন্দেসলিগায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা যৌথভাবে ভিএফবি স্টুটগার্টের দেনিজ উনদাভ ও কেইনের বায়ার্ন–সতীর্থ মাইকেল ওলিসে। লা লিগায় এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার শীর্ষে এমবাপ্পে, রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকার গোলসংখ্যাও কেইনের সমান ২১। ১৪ গোল নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে ভেদাত মুরিকি। কেইন ও এমবাপ্পের চেয়ে একটু পিছিয়ে হলান্ড। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নরওয়েজিয়ান তারকা ২০ গোল নিয়ে আছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে।
হলান্ডের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রেন্টফোর্ডের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ইগর থিয়াগো, তাঁর গোল ১৬টি। ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জয়ের দৌড়ে কেইন, এমবাপ্পে ও হলান্ডের পর চতুর্থ স্থানেও আছেন থিয়াগো। পঞ্চম স্থানে পর্তুগালের ক্লাব বেনফিকার ভানগেলিস পাভলিডিস। গ্রিসের স্ট্রাইকারের গোল ১৯টি।
অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে থিয়াগোর চেয়ে বেশি গোল নিয়েও পাভলিডিস কেন তালিকায় তাঁর চেয়ে পিছিয়ে। কারণ, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ—ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা, ইতালিয়ান সিরি ‘আ’, জার্মান বুন্দেসলিগা ও ফ্রেঞ্চ লিগ ‘আঁ’তে প্রতিটি গোলের জন্য বরাদ্দ ২ পয়েন্ট। পাভলিডিসের পর্তুগিজ লিগে প্রতি গোলের জন্য দেওয়া হয় ১.৫ পয়েন্ট করে।
প্রতি গোলের জন্য আরও কম পয়েন্ট পাওয়ার লিগও আছে। এই যেমন লাটভিয়ার ভিরসলিগা। এই লিগটির কথা এখানে বলার একটা কারণ আছে। ভিরসলিগার চলতি মৌসুমে রিগা এফসির দারকো লেমাজিক এখন পর্যন্ত করেছেন ২৮ গোল। এরপরও ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জয়ের দৌড়ে তিনি আছেন ষষ্ঠ স্থানে। কারণ, তাঁর ২৮ গোলের জন্য তাঁর পয়েন্ট যে ২৮–ই। আর ২১ গোলের জন্য কেইন ও এমবাপ্পের পয়েন্ট ৪২ করে! লেমাজিক এ মৌসুমে আর যে খুব বেশি গোল পাবেন, সেটাও মনে হয় না। ৩৬ ম্যাচের লিগে এরই মধ্যে তিনি খেলে ফেলেছেন ৩১ ম্যাচ। ম্যাচ খেলার বিষয় যখন এসেই গেছে, তালিকার ওপরের দিকে থাকা খেলোয়াড়েরা কে কতটি ম্যাচ খেলেছেন, সেটা দেখা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম, ১৯ ম্যাচ খেলেছেন কেইন। তাঁর লিগে ম্যাচ অবশ্য ৩৪টি। প্রিমিয়ার লিগ ও লা লিগায় ম্যাচ ৩৮টি করে। এমবাপ্পে খেলেছেন ২০ ম্যাচ, হলান্ড ২৩টি।