মরক্কোয় ইনফান্তিনোর জরুরি বৈঠক, উঠেছে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে সংকট আরও গভীর হয়েছে। বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর মরক্কোর রাজধানী রাবাতে আজ বুধবার ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ইনফান্তিনো। একই সঙ্গে ইনফান্তিনো বিভিন্ন সদস্যদেশের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।
সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, সভাপতি পদ টিকিয়ে রাখতে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা ফিফার ২১১ সদস্যদেশের অনেক ফুটবল সংস্থার কাছে তাঁর পক্ষে সমর্থন জানাতে অনুরোধ করছেন। এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি দেশ প্রকাশ্যে ইনফান্তিনো পাশে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ইনফান্তিনোর দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবও এখন পর্যন্ত সমর্থনের ঘোষণা দেয়নি।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার বিস্ফোরক অভিযোগ করেন জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলী বিন আল-হুসেইন। তাঁর দাবি, ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন দিলে জর্ডান ফুটবলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ফিফা সহায়তা করবে—বিশ্বকাপ চলাকালে তাঁকে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছিল। প্রিন্স আলীর ভাষায়, এটি ‘ব্ল্যাকমেল’ ছাড়া আর কিছু নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রিন্স আলী বলেন, ‘আগেও আমরা তাঁকে সমর্থন করিনি, এখনো করব না। পুরো বিষয় ব্ল্যাকমেলের শামিল, আর আমরা মাথা নত করব না।’
জর্ডান ফুটবলপ্রধান আরও অভিযোগ করেন, গত ডিসেম্বরে কাতারে অনুষ্ঠিত ফিফা আরব কাপে রানার্সআপ হওয়ার পরও তাঁদের প্রাপ্য অর্থ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে টিকিট থাকা সত্ত্বেও অনেক জর্ডান সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পাননি। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার জন্য জর্ডানের প্রাইজমানিও যুক্তরাষ্ট্রে করের আওতায় পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইনফান্তিনোর ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে ফিফার ভেতরের ঘটনাপ্রবাহও। ফিফার বৈশ্বিক ফুটবল উন্নয়নবিষয়ক প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার বলেছেন, বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল করা ‘খুবই জরুরি’ ছিল এবং এ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। একই সময়ে ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমও কর্মীদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ‘দুঃখজনক ও নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে ওয়েলস, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, সার্বিয়াসহ উয়েফার কয়েকটি সদস্যদেশ ইতিমধ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি দেওয়া সমর্থনপত্র প্রত্যাহার করেছে। আগামী বছরের মার্চে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা সভাপতি নির্বাচনের আগে এ সংকট ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।