সিটির ১০০ টাকা স্পনসর আয়ের সাড়ে ৮৭ টাকাই ছিল ভুয়া

ম্যানচেস্টার সিটি এখন বেকায়দায়রয়টার্স

ম্যানচেস্টার সিটি সাড়ে আট বছরে স্পনসরশিপের নামে যে বিপুল পরিমাণ আয় খাতায় দেখিয়েছিল, তার বড় অংশই ছিল ভুয়া ও সাজানো। প্রকৃত স্পনসরদের কাছ থেকে ক্লাবটির পকেটে ঢুকেছিল মাত্র ১২ কোটি পাউন্ডের মতো, অথচ তারা কাগজপত্রে আয় দেখায় প্রায় ৯৫ কোটি পাউন্ড। অর্থাৎ আয়ের প্রতি ১০০ টাকার সাড়ে ৮৭ টাকাই আসল স্পনসরদের কাছ থেকে আসেনি; ভুয়া চুক্তির আড়ালে সেই টাকা সরাসরি ঢেলেছেন ক্লাবটির মালিকেরা।

প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক অনিয়ম তদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এই জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ইংলিশ ক্লাবটি ৯৪৯.৯৪ মিলিয়ন পাউন্ড স্পনসরশিপ আয়ের তথ্য দেখিয়েছে নথিপত্রে। কিন্তু কমিশনের খতিয়ে দেখা হিসাব অনুযায়ী, সত্যিকারের স্পনসরদের অবদান ছিল মাত্র ১১৯.২৫ মিলিয়ন পাউন্ড। বাকি ৮৩০.৬৯ মিলিয়ন পাউন্ডই স্পনসর আয়ের অজুহাতে নিজেদের পকেট থেকে যোগ করেছিলেন মালিকেরা, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

প্রিমিয়ার লিগ ও ইউরোপীয় ফুটবলের আর্থিক স্বচ্ছতা নীতি (এফএফপি) ফাঁকি দিতেই এই কৌশল নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবগুলো নিজেদের অর্জিত আয়ের বেশি খরচ করতে পারে না। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটি তাদের প্রকৃত আয়ের চেয়ে কৃত্রিমভাবে বাজেট বহুগুণ বাড়িয়ে দেখায়। স্পনসরশিপের এই কারচুপির পাশাপাশি খেলোয়াড় ও কোচদের সঙ্গে গোপন চুক্তি এবং ইমেজ রাইটসের অর্থ গোপন করার বিষয়গুলো হিসাব করলে এই সময়কালে সিটির মোট আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৯২ কোটি পাউন্ডে।

আরও পড়ুন

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনৈতিক ও অবৈধ উপায়ে নিজস্ব বাজেট ফুলিয়ে-ফাঁপিয়েই তৎকালীন সময়ে ফুটবল বাজারে অস্বাভাবিক ও অসম প্রতিযোগিতার সুযোগ নিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। এরই মধ্যে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিটির বিরুদ্ধে আনীত ১১৫টি অভিযোগের ১১৪টিতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

স্বাধীন কমিশনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সিটির মালিকপক্ষ সবচেয়ে বেশি ছদ্মবেশী অর্থায়ন করেছে ২০১৭–১৮ মৌসুমে। সে বছর স্পনসর আয় দেখানো হয়েছে ১৪ কোটি ৫৭ লাখ পাউন্ডের বেশি। কিন্তু প্রকৃত আয় ছিল ১ কোটি ১০ লাখ। বাকি ১৩ কোটি ৪৭ লাখের বেশি পাউন্ড ছিল মালিকদের। এর আগে ২০১৬–১৭ মৌসুমে ১৪ কোটি আয়ের মধ্যে ১২.৯৫ কোটি, ২০১৫–১৬ মৌসুমে ১৩.৬১ কোটির মধ্যে ১২ কোটি পাউন্ড ছিল ভুয়া।

আরও পড়ুন