খেলোয়াড়টির নাম ক্রিস্টিয়ান তিরোনে। আর্জেন্টিনার ত্রেস আরোসে তৃতীয় স্তরের লিগে ইন্দিপেনদিনসিয়া ও গারমেনেসের মধ্যকার ম্যাচ পরিচালনা করছিলেন দালমা কোরতাদি। তিরোনে গারমেনেসের খেলোয়াড়। তাঁকে হলুদ কার্ড দেখান কোরতাদি।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ৩০ বছর বয়সী এই রেফারির পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁর মাথা বরাবর ঘুষি মারতে উদ্যত হন তিরোনে। নিশানা ঠিক ছিল না। লক্ষ্যচ্যুত হয়ে ঘুষিটি কোরতাদির ঘাড়ে লাগে। আঘাতে তৎক্ষণাৎ মাঠে পড়ে যান কোরতাদি। কয়েক মুহূর্ত পর উঠেও দাঁড়ান। ততক্ষণে তিরোনেকে অন্য খেলোয়াড়েরা সরিয়ে নেন।

ম্যাচটি সাসপেন্ড করা হয়। কোরতাদিকেও হাসপাতালে নেওয়া হয় দ্রুত। সেখানে কয়েক ঘণ্টা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। ক্রিস্টিয়ান তিরোনেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গারমেনেসে তাঁকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

সংবাদমাধ্যম ‘রেডিও আকতিভা’কে কোরতাদি বলেছেন, ‘আঘাত পেয়ে আমি পড়ে যাই এবং আর কিছু মনে করতে পারিনি। উঠে দাঁড়ানোর পর মাথা ঘুরছিল এবং মনে হচ্ছি বমি হবে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই ঘটতে পারে না।’

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’কে কোরতাদি বলেছেন, নারী হওয়ায় তিনি নিজেকে দুর্বল মনে করছেন না, যেহেতু এমন ঘটনা নারী–পুরুষ যে কারও সঙ্গেই হতে পারে, ‘আমি বিচার চাই। ওই লোকটা যেন কৃতকর্মের শাস্তি পায়। লিঙ্গ এখানে কোনো বিষয় না। নারী হওয়ায় শুধু আমার সঙ্গে নয়, ছেলেরাও এমন ঘটনার শিকার হয়।’ দেপোর্তিভো গারমেনেসের পক্ষ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ ক্লাব এই ঘটনা প্রত্যাখ্যান করছে, যা খেলার চেতনার সঙ্গে বেমানান।’

default-image

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা এই ঘটনার প্রতিবেদন ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে পাঠাব। খেলোয়াড়টির শাস্তি চেয়ে তারা যেন আবেদন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আর্জেন্টিনার লিগে এমন ঘটনা যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করা হবে।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন