চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারানোর পর আল খলিফা স্টেডিয়ামে নিজেদের ড্রেসিংরুমে বাঁধভাঙা উদ্‌যাপন করেছে জাপান জাতীয় ফুটবল দল। এমন জয়ের পর আনন্দ–উল্লাস মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাই বলে নিজেদের দায়িত্বটা ভুলে যায়নি হাজিমে মোরিয়াসুর দল। ড্রেসিংরুমে এতটুকু ময়লা থাকলেও সেটি পরিষ্কার করে তারপর হোটেলে ফেরার বাস ধরেছে জাপান দল। ফিফা জাপানের ঝকঝকে–তকতকে ড্রেসিংরুমের একটি ছবি প্রকাশ করেছে।

সেই ছবিতে দেখা গেছে, অনুশীলনে যেসব জার্সি পরেছেন জাপানের খেলোয়াড়েরা, সেসব জার্সি সুন্দর ভাঁজ করে রাখা হয়েছে ড্রেসিংরুমের ভেতরে রাখা টেবিলের পাশে। তার পাশেই অব্যবহৃত পানির বোতলের স্তুপ। সেটাও গুছিয়ে রাখা হয়েছে। আর টেবিলের ওপরে খাবারের সারি।

জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে বেঁচে যাওয়া খাবারগুলো টেবিলের ওপর সুন্দর সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তার পেছনেই ‘অরিগামি’—কাগজ ভাঁজ করে বানানো হাঁসের প্রতিকৃতি। অরিগামি জাপানের সংস্কৃতির অংশ। ধন্যবাদ জানানোর অংশ হিসেবেই অরিগামি করে একটি হাঁস এবং আরও দু–একটি ক্ষুদে প্রতিকৃতি রেখে যান জাপানের খেলোয়াড়েরা। এখানেই শেষ নয়। আরবি ও জাপানিজ ভাষায় ধন্যবাদজ্ঞাপনসূচক একটি চিরকুটও টেবিলে রেখে গেছে এশিয়ার দলটি।

শুধু জাপানের খেলোয়াড়েরাই নয়, সমর্থকেরাও পরিষ্কার–পরিচ্ছনতায় বিশ্বাসী। বিশ্বকাপে কাতার–ইকুয়েডর উদ্ধোধনী ম্যাচ শেষে দুই দলের সমর্থকেরা চলে গেলেও জাপানের কিছু ফুটবলপ্রেমী নিজ উদ্যোগে গ্যালারির ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার করেন। আর কাল তো জাপানের সমর্থকেরা পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যেন ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

জাপানের প্রচুর সমর্থক কাল ঐতিহাসিক জয়ে পর আল খলিফা স্টেডিয়ামে গ্যালারির ময়লা–আবর্জনা পরিষ্কার করেন। টুর্নামেন্টে জাপানের খেলোয়াড়দের এই পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা অভিযান নতুন না। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপেও নিজেদের ম্যাচ শেষে সব সময় ড্রেসিংরুম পরিষ্কার করে তারপর হোটেলমুখো হয়েছে জাপানের ফুটবল দল। ২০১৯ এশিয়া কাপেও তাই দেখা গেছে।