বিশ্বকাপের প্রথম গোল, অতঃপর...

পেলেএক্স

সব প্রথমেরই বাড়তি কদর আছে। এই যেমন বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরের প্রথম গোলটির রয়েছে আলাদা মাহাত্ম্য। আজ বিশ্বকাপের শুরুর দিন পাওয়া যেতে পারে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতাকে। প্রথম গোলটাই যিনি করবেন, তিনিই চলে আসবেন আলোচনায়।

প্রথম গোল করে আলোচনায় আসা ফুটবলাররা ক্যারিয়ারজুড়ে কি আলোচনায় থাকতে পারেন? ফুটবল ইতিহাসের পাতায় কি স্থায়ীভাবে নিজের নামটা লিখতে পারেন? এর আগের বিশ্বকাপগুলোর গল্প কী বলছে? বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতাদের তালিকাটা আসলে অসাধারণ বৈচিত্র্যে ভরা। তাঁদের কেউ হয়েছেন কিংবদন্তি, কেউ চিরকালের জন্য হারিয়ে গেছেন ইতিহাসের পাতা থেকে।

জনপ্রিয় যাঁরা...

এই তালিকায় সবচেয়ে বিখ্যাত নামটা নিঃসন্দেহে পেলের। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১৫ মিনিটে ফ্রি-কিকে আসরের প্রথম গোল করেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি। ওই বিশ্বকাপ পেলের জন্য হতাশাজনক হলেও পেলে কে, তা তো সবাই জানে।

এর আগে ১৯৫০ আসরের প্রথম গোল করেছিলেন ব্রাজিলের আদেমির ডি মেনেজেস। এরপর জাতীয় দলের হয়ে আরও ৩১টি গোল করে তিনিও ব্রাজিলে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

১৯৭৪ বিশ্বকাপে সবার আগে গোল করেছিলেন পল ব্রাইটনার। পশ্চিম জার্মানির এই খেলোয়াড় গোল করেছিলেন ফাইনালেও। এমনকি ১৯৮২ বিশ্বকাপের ফাইনালেও গোল করেন ব্রাইটনার। দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করেছেন ইতিহাসে মাত্র পাঁচজন খেলোয়াড়, ব্রাইটনার তাঁদের একজন। বাকিরা হলেন পেলে, ভাভা, জিনেদিন জিদান ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপ হাতে জার্মান অধিনায়ক ফিলিপ লাম।
রয়টার্স

সফলদের তালিকায় আছেন ফিলিপ লামও। ২০০৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রথম গোল করেছিলেন তিনি। জার্মানির হয়ে ১১৩টি ম্যাচ খেলা লামকে জার্মান ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০১৪ বিশ্বকাপে তাঁর হাতেই উঠেছিল জার্মানির চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফি।

টুর্নামেন্টের প্রথম গোলদাতাদের মধ্যে আরেক বিখ্যাত জার্মান আছেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী গোল করা ইউর্গেন ক্লিন্সম্যান জার্মানির হয়ে খেলেছেন মোট ১০৮ ম্যাচ। বিশ্বকাপে সেই ‘প্রথম’ ছাড়াও আরও ১০টি গোল করেছিলেন। ১৯৯০ বিশ্বকাপ জেতা ক্লিন্সমান পরে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ হয়ে বিশ্বকাপের ডাগআউটেও ছিলেন।

আরও যাঁরা ছিলেন আলোচনায়

১৯৯০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে চমকে দেয় ক্যামেরুন। ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন ফ্রাঁসোয়া ওমাম-বিইক। ক্যামেরুনের হয়ে মোট ৭৭টি ম্যাচ খেলে ২৭ গোল করলেও তাঁর বিখ্যাত গোল হয়ে আছে ’৯০ আসরের প্রথম গোলটিই।

২০০২ বিশ্বকাপের প্রথম গোলও করেছিলেন এক আফ্রিকান। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১–০ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল সেনেগাল। আফ্রিকান দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়টিতে গোল করেছিলেন বাবা দিউফ। সেনেগালের হয়ে মোট ৬৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।

২০১০ সালে আফ্রিকার মাটিতে আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করে ইতিহাসে নাম লেখান দক্ষিণ আফ্রিকার সিফিওয়ে শাবালাল্যা। জোহানেসবার্গের সকার সিটিতে ৮৪,৪৯০ জন দর্শকের সামনে মেক্সিকোর বিপক্ষে তাঁর গোলটি স্বাগতিক দেশের স্বপ্নের মতো ছিল, শাবালাল্যা সেই গোলের কারণেই দেশে কিংবদন্তি।

১৯৫৪ বিশ্বকাপের প্রথম গোলটি করেন যুগোস্লাভিয়ার মিলোশ মিলুতিনোভিচ। দলটির হয়ে তিনি করেছেন ৩৩ ম্যাচে ১৬ গোল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র ২ মিনিটের মাথায় গোল করে প্রথম গোলদাতা হন আর্জেন্টিনার ওরেস্তে করবাত্তার। আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর ক্যারিয়ার থেমেছে ৪৩ ম্যাচে।

আরও পড়ুন

যাঁরা প্রায় বিস্মৃতিতে হারিয়ে গেছেন

লুসিয়েন লোরাঁ—বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোলটিই এসেছে তাঁর কাছ থেকে। তবে এরপর আর ক্যারিয়ারটা বড় হয়নি। ফ্রান্সের হয়ে মাত্র ১০টি ম্যাচ খেলা লোরাঁ আর মাত্র একটি আন্তর্জাতিক গোল করেছিলেন। চোটের কারণে ১৯৩৪ বিশ্বকাপে খেলতেও পারেননি। ঐতিহাসিক সেই গোলের পরও তাঁর ক্যারিয়ার তেমন বড় হয়নি।

১৯৩৪ বিশ্বকাপের প্রথম গোলতাদা আর্জেন্টিনার এরনেস্তো বেলিস এরপর আর ম্যাচই খেলেননি। ইউরি গাজিনস্কি ২০১৮ বিশ্বকাপে রাশিয়ার হয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হেডে প্রথম গোল করেন। রাশিয়া সেবার কোয়ার্টার পর্যন্ত গেলেও গাজিনস্কি আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় পরিচিতি পাননি।

১৯৬২ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটে গোল করেন আর্জেন্টিনার হেক্টর ফাকুন্দো। আর্জেন্টিনার হয়ে ওই একটি গোলই করেছেন তিনি। ক্যারিয়ার থেমেছে মাত্র ৭ ম্যাচে।

আরও পড়ুন