চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে কারা সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন? সংখ্যার ভেতর লুকিয়ে আছে তাঁদের সময়, দাপট আর আধিপত্যের গল্প।
বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে আতালান্তার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচেই ছুঁয়েছেন ৫০ গোলের মাইলফলক। মাত্র ৬৬ ম্যাচেই এই কীর্তি। তাঁর চেয়ে দ্রুত ৫০ ছুঁয়েছেন ইতিহাসে মাত্র দুজন—আর্লিং হলান্ড (৪৯ ম্যাচ) ও রুদ ফন নিস্টলরয় (৬২ ম্যাচ)। মেসিও কিন্তু এই ৫০-এর মাইলফলক ছুঁতে ৬৬টি ম্যাচই নিয়েছিলেন।
লিভারপুলের হয়ে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে গোল করে সালাহ পৌঁছান ৫০-এ। আফ্রিকার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি তাঁর।
মোনাকো, আর্সেনাল ও বার্সেলোনার হয়ে করেছেন ৫০ গোল। এর মধ্যে আর্সেনালের হয়ে ৩৫ গোল—এখনো এই টুর্নামেন্টে ক্লাবটির সর্বোচ্চ। ২০ বছর বয়সে মোনাকোর হয়ে প্রথম ৫ ম্যাচে ৬ গোল—তাঁর শুরুটাই ছিল সিনেমার মতো।
ডাচ এই স্ট্রাইকারের গোলসংখ্যা ৫৬। যদি ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে পিএসভির হয়ে আরও বেশি ম্যাচ খেলতেন বা বড় দলে খেলতেন, তবে সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে ঠেকত কে জানে! ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে তাঁর ৩৫ গোল আজও এই টুর্নামেন্টে ক্লাবের রেকর্ড।
মাত্র ৪৯ ম্যাচে ৫০ গোলের অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে তিনি নিস্টলরয়ের দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন। সালজবুর্গ, ডর্টমুন্ড ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলা এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের বর্তমানে গোল ৫৭টি।
মুলার গোল করেন, গোল করান, আবার মাঝমাঠে খেলাও গুছিয়ে দেন। ২০০৮ সালে অভিষেকের পর থেকে ৫৭ গোল আর ২৫ অ্যাসিস্ট—মুলার চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে বায়ার্নের এক আলাদা অধ্যায়ই।
২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আতালান্তার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে যখন ৫০তম গোলটি করলেন এমবাপ্পে, তখন তাঁর বয়স ২৫ বছর ৩৫৬ দিন। মেসির পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। নিস্টলরয়, মেসি ও লেভানডফস্কির পর চতুর্থ দ্রুততম (৭৯ ম্যাচ) হিসেবে এই মাইলফলক ছোঁয়া এমবাপ্পের গোল এখন ৬৮টি।
রাউল এখনো ইতিহাসের পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনিই ছিলেন এই তালিকার শীর্ষে, এরপর তাঁকে ছাড়িয়ে যান মেসি ও রোনালদো। ২০০৫ সালে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৫০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন তিনি।
২০০৫-০৬ মৌসুমে লিওঁর হয়ে অভিষেকের পর টানা ১৮টি মৌসুমে একটিবারও গোলের খাতা শূন্য রাখেননি তিনি। রিয়ালের হয়ে ১০৫ গোল করা রোনালদোর ঠিক পরেই তাঁর (৭৮ গোল) অবস্থান। ২০২১-২২ মৌসুমে ১৫ গোল করে হয়েছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা।
নিউক্যাসলের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে গোল করে লেভানডফস্কি পৌঁছান ১০৯-এ। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে করেছেন ৬৯ গোল, বার্সেলোনার হয়ে ২৩। রোনালদোর পর তিন ক্লাবের হয়ে ১০+ গোল করা ইতিহাসে দ্বিতীয় খেলোয়াড় তিনি।
বার্সেলোনার হয়ে ১২০ গোল করে মেসি এক ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা। পিএসজির হয়ে করেছেন আরও ৯ গোল। ১৮ মৌসুমে গোল করেছেন তিনি, রেকর্ড ভাগাভাগি করছেন বেনজেমার সঙ্গে। আটটি হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি এক ম্যাচে ৫ গোল করার অনন্য কীর্তিও তাঁর। ৪০টি ভিন্ন দলের বিপক্ষে গোল—এটাও রেকর্ড।
চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাস মিলিয়ে করেছেন ১৪০ গোল। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ১৭ গোল করে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন। সাতবার হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৯৩ ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। ৩৮টি দলের বিপক্ষে গোল। ৮টি হ্যাটট্রিক। সংখ্যা যেন তাঁর জন্য আলাদা ভাষায় কথা বলে।