হারের পর ‘দুই সমস্যা’ চোখে পড়েছে বাংলাদেশ কোচের
আসিয়ান কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আজ সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে বাংলাদেশ। তবে ফলের চেয়েও কোচ টমাস ডুলির চোখে পড়েছে দলের দুটি বড় সমস্যা: দেশের ঘরোয়া ফুটবলে নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ঘাটতি এবং গোল করার দুর্বলতা।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ লড়াই করেছে, বল পায়ে রেখে খেলার চেষ্টা করেছে, একাধিকবার আক্রমণেও উঠেছে; কিন্তু সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার পুরোনো সমস্যাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেছে।
ম্যাচ শেষে ডুলি সরাসরি বলেছেন, ‘আমাদের বড় সমস্যা হলো, গোল করার মতো তেমন কেউ নেই।’ দলে এমন কোনো ‘নিখুঁত স্ট্রাইকার’ নেই, যিনি সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠাতে পারেন, এ কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলার ধরনে উন্নতি দেখলেও গোল না পাওয়ার বিষয়টিই শেষ পর্যন্ত কোচের বড় দুশ্চিন্তা।
তবে গোল করার সমস্যা শুধু এই ম্যাচের নয়, এর পেছনে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকেও দায়ী করেছেন ডুলি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের যে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা রয়েছে, তা খুব বেশি বড় নয়। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়ার মতো লিগ আমাদের নেই।’
নিয়মিত লিগ না থাকাকে খেলোয়াড়দের উন্নতির বড় বাধা হিসেবে দেখছেন এই কোচ। তাঁর মতে, প্রতি সপ্তাহে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকলে খেলোয়াড়েরা নিজেদের ভুল থেকে শেখার সুযোগ পান। কিন্তু বাংলাদেশের সেই সুযোগ সীমিত। ডুলির ভাষায়, ‘লিগ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কারণ সেখানে প্রতি সপ্তাহে খেলোয়াড়েরা ম্যাচ খেলে ভুল থেকে শেখার সুযোগ পায়। এই ঘাটতিটাই আমাদের রয়েছে।’
এই ঘাটতির প্রভাব জাতীয় দলের প্রস্তুতিতেও পড়ে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ। আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা টুর্নামেন্টের আগে জাতীয় দলকে প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় দেওয়া যায় না। তাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলা এবং বিদেশে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা ফুটবলারদের ওপর নির্ভর করতে হয় বাংলাদেশকে।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অবশ্য ডুলি তাঁর দলের লড়াইয়ে সন্তুষ্ট। আগের ম্যাচের তুলনায় এবার খেলোয়াড়েরা অনেক বেশি সংগঠিত ছিল বলে মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমার মনে হয় সবাই বুঝতে পেরেছে যে লড়াই করলে এবং প্রতিপক্ষকে বেশি জায়গা না দিলে আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি।’
ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে না গেলেও এই ম্যাচ থেকে পাওয়া শিক্ষাকে সামনে এগিয়ে নিতে চান ডুলি। তাঁর লক্ষ্য, শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলে নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি নেওয়া।