চ্যাম্পিয়নস লিগের গত মৌসুমে গতিময় শীর্ষ ১০

বায়ার্ন মিউনিখের কানাডিয়ান উইঙ্গার আলফানসো ডেভিসছবি: টুইটার

চ্যাম্পিয়নস লিগে ২০২২–২৩ মৌসুমে সর্বোচ্চ গতিতে দৌড়ানো ১০ খেলোয়াড়ের তালিকা প্রকাশ করেছে উয়েফা। শাখতার দোনেস্ক থেকে গত জানুয়ারিতে চেলসিতে যোগ দেওয়া ইউক্রেনিয়ান উইঙ্গার মিখাইল মুদরিক এই তালিকার শীর্ষ দুইয়ে উঠে এসেছেন। ইউক্রেনের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় হিসেবে চেলসিতে যোগ দেওয়া মুদরিক গতিতে ফেদে ভালভের্দে ও রাফায়েল লিয়াওদেরও টেক্কা দিয়েছেন। তবে এই তালিকার তিনে উঠে এসে সবাইকে চমকে দিয়েছেন বার্সেলোনার ফরাসি উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে। আসুন শীর্ষ ১০ জনের তালিকাটা দেখে নেওয়া যাক—

লিভারপুল যোগ দিয়েছেন সোবোসলাই
ছবি: টুইটার

ডমিনিক সোবোসলাই (ঘণ্টায় ৩৫.৯ কি.মি)
লিভারপুলের সমর্থকেরা স্বস্তি পেতেই পারেন। ২০২২–২৩ মৌসুম শেষে লাইপজিগ ছেড়ে ইংলিশ ক্লাবটিতে যোগ দিয়েছেন হাঙ্গেরিয়ান এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। এর আগে গত মৌসুমে লাইপজিগের হয়ে আলো ছড়িয়েছেন। শুধু আলো কেন, গতিও কম ছিল না। লাইপজিগের শেষ ষোলোতে ওঠা পর্যন্ত ৮ ম্যাচে ১ গোল করলেও মাঠে জায়গা কাভার করায় তাঁর জুড়ি ছিল না। ঘণ্টায় গড়ে ৩৫.৯ কিলোমিটার গতিতে দৌড়ে এই তালিকায় ১০ম স্থানে উঠে এসেছেন সোবোসলাই।

মুসা দিয়াবি
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

মুসা দিয়াবি (ঘণ্টায় ৩৬.১ কি.মি)
শীর্ষ ১০–এ যেহেতু কিলিয়ান এমবাপ্পের জায়গা হয়নি, তাই বলা যায়, চ্যাম্পিয়নস লিগের গত মৌসুমে অন্তত এমবাপ্পের চেয়ে বেশি গতিতে দৌড়েছেন মুসা দিয়াবি। ২০১৯ সালে বেয়ার লেভারকুসেনে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির হয়ে দারুণ খেলছেন এই ফরাসি উইঙ্গার। ১৭২ ম্যাচে করেছেন ৪৯ গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত মৌসুমে ঘণ্টায় গড়ে ৩৬.১ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন দিয়াবি। ফ্রান্সের হয়ে ১০ ম্যাচ খেলা দিয়াবি বুন্দেসলিগার ইতিহাসেই তৃতীয় দ্রুতগামী খেলোয়াড়। গত মৌসুমে ভলফসবুর্গের বিপক্ষে ম্যাচে ঘণ্টায় গড়ে ৩৬.৫২ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন দিয়াবি।

করিম আদেইয়েমি
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

করিম আদেইয়েমি (ঘণ্টায় ৩৬.১ কি.মি)
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ ২০১৯ সালে ঘোষণা করেছিল, বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়ে উঠবেন করিম আদেইয়েমি। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের এই ২১ বছর বয়সী জার্মান ফরোয়ার্ড প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি এখনো। তবে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে চেলসির বিপক্ষে শেষ ষোলোয় অসাধারণ এক গোল করেছিলেন। সে ম্যাচেই চেলসির বিপক্ষে ঘণ্টায় ৩৬.১ কিলোমিটার গতিতে দৌড়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন আদেইয়েমি। পরে জানিয়েছিলেন, আফ্রিকান খাবার ‘ফুফু’ তাঁর এই গতির নেপথ্য কারণ। সেদ্ধ কাসাভা, মিষ্টি আলু ও কলা দিয়ে বানানো হয় এই খাবার।

নুনো তাভারেস
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

নুনো তাভারেস (ঘণ্টায় ৩৬.২ কি.মি)
আর্সেনাল থেকে গত বছর মার্শেইয়ে ধারে গিয়ে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছিলেন নুনো তাভারেস। পর্তুগালের ২৩ বছর বয়সী এই লেফটব্যাকের ডিফেন্ডিং নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও গতি নিয়ে সন্দেহ নেই। মার্শেইয়ের হয়ে এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ঘণ্টায় ৩৬.২ কিলোমিটার গতি তুলেছেন তাভারেস।

রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ফেদে ভালভের্দে
ছবি: এএফপি

ফেদেরিকো ভালভের্দে (ঘণ্টায় ৩৬.৩ কি.মি)
রিয়াল মাদ্রিদের ক্যারিয়ারের শুরুতে মাঝমাঠে খেলেছেন ফেদেরিকো ভালভের্দে। তখন আর নিজের গতি দেখাতে পারেননি উরুগুয়ে তারকা। কার্লো আনচেলত্তি রিয়ালের কোচ হয়ে আসার পর এক প্রান্তে চলে যান ভালভের্দে। তাই এখন তাঁর উইং–চেরা দৌড়গুলো দেখা যায়। গত বছর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২টি গোলও পেয়েছেন। তবে ভালভের্দের দেখার মতো বিষয় হলো তাঁর আচমকা গতি। গত মৌসুমে ঘণ্টায় ৩৬.৩ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন ভালভের্দে।

পোর্তোর ফুটবলার গ্যাব্রিয়েল ভেরন
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

গ্যাব্রিয়েল ভেরন (ঘণ্টায় ৩৬.৪ কি.মি)
ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার গত বছর যোগ দেন পোর্তোয়। পর্তুগিজ ক্লাবটিতে এ পর্যন্ত মাত্র ১ গোল করলেও গতির ফুলকি ছুটিয়েছেন নিয়মিতই। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত মৌসুমে ঘণ্টায় গড়ে ৩৬.৪ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন ভেরন। ব্রাজিলের রিও গ্রান্দেতে জন্ম নেওয়া ভেরনের নাম রেখেছিলেন তাঁর বাবা। ভেরন বাবার মতো কাউবয় হতে চাইলেও ফুটবলে টান ছিল তাঁর বাবার। আর্জেন্টিনার সাবেক মিডফিল্ডার হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরনের নামে তাই ছেলের নাম রেখেছিলেন। আর্জেন্টিনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই মিডফিল্ডারের মতো গ্যাব্রিয়েল ভেরনের ক্যারিয়ার এখনো অতটা সমৃদ্ধ হয়নি, তবে গতির প্রশ্নে সেই ভেরনকে আগেই পিছু ফেলেছেন এই ভেরন।

এসি মিলানের পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড রাফায়েল লিয়াও
রয়টার্স

রাফায়েল লিয়াও (ঘণ্টায় ৩৬.৫ কি.মি)
ইউরোপে গত মৌসুমে অন্যতম সেরা উইঙ্গার ছিলেন এসি মিলানের পর্তুগিজ তারকা রাফায়েল লিয়াও। মিলানের চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে ওঠার নেপথ্যে তাঁর উইং–চেরা দৌড়ের বড় ভূমিকা ছিল। ২০২১–২২ মৌসুমে সিরি আ–র ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ হওয়া লিয়াও চ্যাম্পিয়নস লিগের গত মৌসুমেও গতির ফুলকি ছুটিয়েছেন। ঘণ্টায় গড়ে ৩৬.৫ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন লিয়াও। গতির পাশাপাশি ড্রিবলিংয়েও ভালো এই পর্তুগিজ উইঙ্গার।

বার্সেলোনা তারকা উসমান দেম্বেলে
ছবি : টুইটার

ওসমান দেম্বেলে (ঘণ্টায় ৩৬.৬ কি.মি)
বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ২০১৭ সালে ওসমান দেম্বেলেকে ১২ কোটি পাউন্ডে কিনেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু এ দামের প্রতি সুবিচার খুব কমই করতে পেরেছেন ফরাসি উইঙ্গার। চোট ও অধারাবাহিক ফর্মের কারণে বার্সা তাঁকে কয়েকবার বেচে দেওয়ার চেষ্টাও করেছে। তবে ক্রমাগত চোট কিন্তু দেম্বেলের গতি কমাতে পারেনি। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত মৌসুমে তৃতীয় সর্বোচ্চ গতিতে (ঘণ্টায় ৩৬.৬ কি.মি) দৌড়েছেন ২৬ বছর বয়সী ফরাসি তারকা।

মিখাইল মুদরিক
ছবি: টুইটার

মিখাইল মুদরিক (ঘণ্টায় ৩৬.৬ কি.মি)
শাখতার থেকে গত জানুয়ারিতে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে এখনো গোল পাননি মিখাইল মুদরিক। সবকিছু মিলিয়ে ১০ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফি–র প্রতি এখনো সুবিচার করতে পারেননি। তবে অনূর্ধ্ব–২১ ইউরোয় দ্যুতিছড়ানো মুদরিককে নিয়ে চেলসি আশায় বুক বাঁধতে পারে। ২২ বছর বয়সী এই উইঙ্গার এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম ফুটবলার। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত মৌসুমে ঘণ্টায় গড়ে ৩৬.৬ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন মুদরিক।

কানাডার তারকা ডিফেন্ডার আলফনসো ডেভিস
ছবি: টুইটার

আলফানসো ডেভিস (ঘণ্টায় ৩৭.১ কি.মি)
কানাডিয়ান উইঙ্গারের গতি নিয়ে কখনো প্রশ্ন ছিল না। চ্যাম্পিয়নস লিগের গত মৌসুমেও দেখা গেল, গতিতে তাঁকে কেউ পেছনে ফেলতে পারেনি। বায়ার্ন মিউনিখের ২২ বছর বয়সী উইঙ্গার আলফানসো ডেভিস গত মৌসুমে ঘণ্টায় গড়ে ৩৭.১ কিলোমিটার গতিতে দৌড়েছেন। বায়ার্নে ব্যাকআপ উইঙ্গার হিসেবে যোগ দিয়ে পরে ফুলব্যাক হিসেবেও নিজের ভিত পাকা করেছেন ডেভিস।